ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কেনিয়ার মাটিতে টাটা কেমিক্যালসের জায়গায় আসছে নতুন দুই প্রতিষ্ঠান Logo লৌহজংয়ে ২০০ পিস ইয়াবাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার Logo প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গেছে সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসের সেবাচিত্র Logo ইমরান খান নিয়ে আশরাফুলের বিস্ফোরক মন্তব্য Logo আমরা বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসি : কাভান সুলিভান Logo বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে বাংলাদেশ, দিল ১০ লাখ ডলার Logo ১০০ কিলোমিটার দৌড়ে বোলিং, অবিশ্বাস্য কীর্তি স্যামের Logo পুরোনো মালিকানায় ফেরার সুযোগ বন্ধে ব্যাংক আইন সংশোধনের প্রস্তাব Logo ‘হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব’, হাসপাতালের বাথরুম দেখে কৃষিমন্ত্রী Logo এআইইউবি প্রতিষ্ঠাতা ডা. আনোয়ারুল আবেদীনের মৃত্যুবার্ষিকী ৫ সেপ্টেম্বর

১০০ কিলোমিটার দৌড়ে বোলিং, অবিশ্বাস্য কীর্তি স্যামের

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:২৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৫

লর্ডস থেকে ১০০ কিলোমিটার দৌড়ে ক্রিকেট মাঠে স্যাম বোদুয়ানো। ছবি: সংগৃহীত

১০০ কিলোমিটার দৌড় শেষ করে তারপর বল হাতে মাঠে নামা—ক্রিকেটে এমন রানআপের কথা শুনলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। কিন্তু ইংল্যান্ডের ২২ বছর বয়সী ক্লাব ক্রিকেটার স্যাম বোদুয়ানো ঠিক এমনই এক অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর রানআপ ছিল সাধারণ কোনো ক্রিকেট মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত কয়েক গজ নয়; লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের একটি মাঠ পর্যন্ত। শনিবার রাত ১২টায় ক্রিকেট পোশাক পরে হাতে বল নিয়ে লর্ডস থেকে দৌড় শুরু করেন স্যাম। গন্তব্য ছিল ওকিংয়ের ভ্যালি এন্ড ক্রিকেট ক্লাব।

রাত যত গভীর হয়েছে, তাঁর পথ ততই কঠিন হয়েছে। অন্যদিকে শহর যখন ঘুমে, তখন ক্রিকেট বল হাতে স্যাম ছুটে চলেছেন নিজের লক্ষ্যের দিকে। দৌড়ের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থার আপডেট দিয়েছেন তিনি। লন্ডন ব্রিজে পৌঁছে ১০ কিলোমিটার অতিক্রম করার খবর জানান। এমনকি ভোর ৫টা ১১ মিনিটেও তাঁকে দৌড়াতে দৌড়াতেই ভিডিও করতে দেখা যায়। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার এই যাত্রায় বিশ্রামের চেয়ে লক্ষ্যই ছিল তাঁর কাছে বড়। ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার এই পরিকল্পনা যে শুধু শারীরিক শক্তির পরীক্ষা ছিল না, তা স্পষ্ট হয়ে যায় পরের ধাপে।

প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর রোববার বেলা ২টার দিকে ভ্যালি এন্ড ক্রিকেট ক্লাবে পৌঁছান স্যাম। সাধারণ কোনো দৌড় হলে এখানেই হয়তো শেষ হতো চ্যালেঞ্জ। কিন্তু তাঁর পরিকল্পনা ছিল আরও কঠিন। দৌড় শেষ করেই তাঁকে ক্রিকেট ম্যাচে বোলিং করতে হয়েছে। কারণ, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল এমন একটি রেকর্ড গড়া, যেখানে দীর্ঘ পথ দৌড়ে এসে সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেট বল হাতে নিতে হবে। তাই মাঠে পৌঁছে শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। ১০০ কিলোমিটার দৌড়ের ধকল শরীরে নিয়েই প্রস্তুত হতে হয়েছে বোলিংয়ের জন্য।

চ্যালেঞ্জটির নিয়মও ছিল বেশ অভিনব। পুরো দৌড়ের সময় স্যামকে হাতে ক্রিকেট বল রাখতে হয়েছে এবং পরতে হয়েছে সম্পূর্ণ ক্রিকেট পোশাক। ফলে ক্লান্ত শরীর নিয়ে দৌড়ালেও ক্রিকেটের সাজ বদলানোর সুযোগ ছিল না। এই ভাবনার শুরু অবশ্য একটি ভিডিও থেকেই। আগের একজন রেকর্ডধারী ২৪ কিলোমিটার দৌড়ে এসে বোলিং করেছিলেন—সেই ঘটনা দেখেই স্যামের মাথায় আসে আরও বড় কিছু করার কথা। তাঁর ভাবনা ছিল, ২৪ কিলোমিটার সম্ভব হলে ১০০ কিলোমিটারও নিশ্চয়ই চেষ্টা করা যায়। সেই চিন্তা থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। এরপর বাস্তবেই লর্ডস থেকে ১০০ কিলোমিটারের যাত্রায় বেরিয়ে পড়েন তিনি।

দৌড় শেষ করে মাঠে পৌঁছানোর পর স্যামের সামনে অপেক্ষা করছিল আরও একটি আবেগঘন মুহূর্ত। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাঁর প্রথম বলটি খেলার জন্য ব্যাট হাতে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর বাবা। অর্থাৎ ১০০ কিলোমিটার দৌড়ের শেষ দৃশ্যটি ছিল নিছক একটি ক্রিকেটীয় পরীক্ষা নয়, ছিল পারিবারিক স্মৃতিরও অংশ। এত দীর্ঘ দৌড়ের পর শরীর কতটা সাড়া দেবে, বলের গতি কেমন থাকবে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তখন আর কোনো অনুশীলনের সুযোগ ছিল না। এক দৌড়েই রানআপ, এক বলেই তার পরিণতি।

তবে স্যামের এই উদ্যোগের আসল সাফল্য শুধু রেকর্ডের সম্ভাবনায় নয়, এর মানবিক উদ্দেশ্যেও। এই চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে তিনি রুথ স্ট্রস ফাউন্ডেশনের জন্য ৬ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করেছেন। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক স্যার অ্যান্ড্রু স্ট্রস তাঁর প্রয়াত স্ত্রী রুথের স্মৃতিতে এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। রুথ ২০১৮ সালে নন-স্মোকার লাং ক্যানসারে মারা যান। বর্তমানে ফাউন্ডেশনটি দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং সন্তানদের কঠিন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করার কাজ করে। স্যামের ১০০ কিলোমিটার দৌড় তাই শেষ পর্যন্ত শুধু ক্রিকেটের অদ্ভুত রানআপ হয়ে থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছে একটি ভালো কাজের জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

কেনিয়ার মাটিতে টাটা কেমিক্যালসের জায়গায় আসছে নতুন দুই প্রতিষ্ঠান

১০০ কিলোমিটার দৌড়ে বোলিং, অবিশ্বাস্য কীর্তি স্যামের

Update Time : ১০:২৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১০০ কিলোমিটার দৌড় শেষ করে তারপর বল হাতে মাঠে নামা—ক্রিকেটে এমন রানআপের কথা শুনলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। কিন্তু ইংল্যান্ডের ২২ বছর বয়সী ক্লাব ক্রিকেটার স্যাম বোদুয়ানো ঠিক এমনই এক অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর রানআপ ছিল সাধারণ কোনো ক্রিকেট মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত কয়েক গজ নয়; লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের একটি মাঠ পর্যন্ত। শনিবার রাত ১২টায় ক্রিকেট পোশাক পরে হাতে বল নিয়ে লর্ডস থেকে দৌড় শুরু করেন স্যাম। গন্তব্য ছিল ওকিংয়ের ভ্যালি এন্ড ক্রিকেট ক্লাব।

রাত যত গভীর হয়েছে, তাঁর পথ ততই কঠিন হয়েছে। অন্যদিকে শহর যখন ঘুমে, তখন ক্রিকেট বল হাতে স্যাম ছুটে চলেছেন নিজের লক্ষ্যের দিকে। দৌড়ের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থার আপডেট দিয়েছেন তিনি। লন্ডন ব্রিজে পৌঁছে ১০ কিলোমিটার অতিক্রম করার খবর জানান। এমনকি ভোর ৫টা ১১ মিনিটেও তাঁকে দৌড়াতে দৌড়াতেই ভিডিও করতে দেখা যায়। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার এই যাত্রায় বিশ্রামের চেয়ে লক্ষ্যই ছিল তাঁর কাছে বড়। ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার এই পরিকল্পনা যে শুধু শারীরিক শক্তির পরীক্ষা ছিল না, তা স্পষ্ট হয়ে যায় পরের ধাপে।

আরও পড়ুন  পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টেস্ট: দারুণ জয়ে সিরিজ ইংল্যান্ডের

প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর রোববার বেলা ২টার দিকে ভ্যালি এন্ড ক্রিকেট ক্লাবে পৌঁছান স্যাম। সাধারণ কোনো দৌড় হলে এখানেই হয়তো শেষ হতো চ্যালেঞ্জ। কিন্তু তাঁর পরিকল্পনা ছিল আরও কঠিন। দৌড় শেষ করেই তাঁকে ক্রিকেট ম্যাচে বোলিং করতে হয়েছে। কারণ, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল এমন একটি রেকর্ড গড়া, যেখানে দীর্ঘ পথ দৌড়ে এসে সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেট বল হাতে নিতে হবে। তাই মাঠে পৌঁছে শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। ১০০ কিলোমিটার দৌড়ের ধকল শরীরে নিয়েই প্রস্তুত হতে হয়েছে বোলিংয়ের জন্য।

আরও পড়ুন  রোনালদোর গোপন বিয়ে? ভাইরাল নিমন্ত্রণপত্রে তোলপাড়

চ্যালেঞ্জটির নিয়মও ছিল বেশ অভিনব। পুরো দৌড়ের সময় স্যামকে হাতে ক্রিকেট বল রাখতে হয়েছে এবং পরতে হয়েছে সম্পূর্ণ ক্রিকেট পোশাক। ফলে ক্লান্ত শরীর নিয়ে দৌড়ালেও ক্রিকেটের সাজ বদলানোর সুযোগ ছিল না। এই ভাবনার শুরু অবশ্য একটি ভিডিও থেকেই। আগের একজন রেকর্ডধারী ২৪ কিলোমিটার দৌড়ে এসে বোলিং করেছিলেন—সেই ঘটনা দেখেই স্যামের মাথায় আসে আরও বড় কিছু করার কথা। তাঁর ভাবনা ছিল, ২৪ কিলোমিটার সম্ভব হলে ১০০ কিলোমিটারও নিশ্চয়ই চেষ্টা করা যায়। সেই চিন্তা থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। এরপর বাস্তবেই লর্ডস থেকে ১০০ কিলোমিটারের যাত্রায় বেরিয়ে পড়েন তিনি।

দৌড় শেষ করে মাঠে পৌঁছানোর পর স্যামের সামনে অপেক্ষা করছিল আরও একটি আবেগঘন মুহূর্ত। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাঁর প্রথম বলটি খেলার জন্য ব্যাট হাতে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর বাবা। অর্থাৎ ১০০ কিলোমিটার দৌড়ের শেষ দৃশ্যটি ছিল নিছক একটি ক্রিকেটীয় পরীক্ষা নয়, ছিল পারিবারিক স্মৃতিরও অংশ। এত দীর্ঘ দৌড়ের পর শরীর কতটা সাড়া দেবে, বলের গতি কেমন থাকবে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তখন আর কোনো অনুশীলনের সুযোগ ছিল না। এক দৌড়েই রানআপ, এক বলেই তার পরিণতি।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ ইংল্যান্ড টেস্ট ২০২৭: দুর্দান্ত সুখবর, লর্ডসে খেলবে টাইগাররা

তবে স্যামের এই উদ্যোগের আসল সাফল্য শুধু রেকর্ডের সম্ভাবনায় নয়, এর মানবিক উদ্দেশ্যেও। এই চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে তিনি রুথ স্ট্রস ফাউন্ডেশনের জন্য ৬ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করেছেন। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক স্যার অ্যান্ড্রু স্ট্রস তাঁর প্রয়াত স্ত্রী রুথের স্মৃতিতে এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। রুথ ২০১৮ সালে নন-স্মোকার লাং ক্যানসারে মারা যান। বর্তমানে ফাউন্ডেশনটি দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং সন্তানদের কঠিন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করার কাজ করে। স্যামের ১০০ কিলোমিটার দৌড় তাই শেষ পর্যন্ত শুধু ক্রিকেটের অদ্ভুত রানআপ হয়ে থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছে একটি ভালো কাজের জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।