নেপাল বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ ঢল ও বন্যায় পাহাড়ি এলাকার বহু সড়ক, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অনেক দুর্গত এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, খাবার, পানি, ওষুধ ও স্যানিটেশন সামগ্রী পৌঁছে দিতে এখন বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে।
জাতিসংঘের নেপাল আবাসিক সমন্বয়কারী লিলা পিটার্স ইয়াহিয়ার মতে, দুর্যোগের ব্যাপ্তি ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অত্যন্ত বড়। দুর্গম এলাকায় সড়কপথে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় হেলিকপ্টার ও কার্গো ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নেপাল সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। নেপালের সরকারি তথ্যেও ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে ড্রোন ও ভারবাহক ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে।
নেপাল বন্যায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দারা। নদীর পানি ও কাদার স্রোতে বহু রাস্তা এবং সেতু নষ্ট হওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কোথাও কোথাও দুর্গতদের কাছে পৌঁছাতে হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি পথের সঙ্গে পরিচিত ভারবাহকদের ব্যবহার করেও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জাতিসংঘ।
দুর্যোগের ভয়াবহতা বোঝা যাচ্ছে হতাহতের সর্বশেষ পরিসংখ্যানেও। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১,২৫২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৪,২১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি ৩৪টি দেশের প্রায় ৫৯০ বিদেশি নাগরিক এখনো নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছে। চীনের তিব্বত অঞ্চলেও ২১ জন নিহত এবং ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে নেপালের সঙ্গে ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সরিয়ে যোগাযোগ পুনরুদ্ধার এবং দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়াও এখন বড় অগ্রাধিকার।
নেপাল বন্যা পরিস্থিতিতে সময়ের সঙ্গে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের চাপও বাড়ছে। জাতিসংঘ বলছে, দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি ড্রোন, হেলিকপ্টার ও স্থানীয় ভারবাহকদের কাজে লাগানো হতে পারে। নেপাল সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার, ত্রাণ ও নিখোঁজদের সন্ধানের কাজ একসঙ্গে চলছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের কাছে খাবার, পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়াই এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।




























