চানাচুর তৈরি হচ্ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। ময়দার খামির পায়ে মাড়িয়ে তৈরি করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের পোড়া তেলে চানাচুর ভাজার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, প্রস্তুত চানাচুর ময়লা মেঝেতে রাখা ও প্যাকেটজাত করার পাশাপাশি এতে ক্ষতিকর রাসায়নিক রংও ব্যবহার করা হচ্ছিল।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বগুড়া শহরের চেলোপাড়া এলাকায় ‘ডলার চানাচুর অ্যান্ড সেমাই কারখানায়’ অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়মের প্রমাণ পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে কারখানার মালিককে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বগুড়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজালালের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানে বগুড়ার নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল সহযোগিতা করেন। পরিদর্শনের সময় কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া ও খাদ্য সংরক্ষণের পরিবেশ দেখে বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্ত করেন কর্মকর্তারা। বিশেষ করে খাবার তৈরিতে স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়টি উঠে আসে।
নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল জানান, কারখানায় পায়ে মাড়িয়ে ময়দার খামির তৈরি করা হচ্ছিল। একইভাবে প্রস্তুত চানাচুরে মসলা মাখানোর কাজও অস্বাস্থ্যকরভাবে করা হচ্ছিল। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যবহার করা পোড়া তেলে চানাচুর ভাজার প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানে আরও দেখা যায়, মসলা মাখানো ও প্রস্তুত চানাচুর ময়লা মেঝেতে রাখা হচ্ছিল। পরে সেখান থেকেই খাবার প্যাকেটজাত করার ব্যবস্থা ছিল। খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক রং ব্যবহারের বিষয়টিও কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এসব কারণে খাদ্যপণ্যের মান ও ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযান শেষে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৩ ধারায় কারখানার মালিককে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খাদ্য উৎপাদনে স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি এবং ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার গুরুত্বও উঠে এসেছে।



























