হিট আইল্যান্ডের প্রভাব থেকে ঢাকাকে রক্ষা করতে বড় ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয় কমে যাওয়া এবং যানবাহনে জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে রাজধানীর তাপমাত্রা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবুজায়ন ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার একটি বড় অংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
হিট আইল্যান্ড কমাতে শুধু গাছ লাগানোই নয়, যানবাহনের দূষণ কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, ঢাকার কার্বন নিঃসরণে যানবাহনের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড যান ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভবনের নকশা ও নির্মাণসামগ্রীতেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে এমন উপকরণের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব সলিড ব্লক, হলো ব্লক এবং আধুনিক কাচ ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎসাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকার গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন স্থাপনায় ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৬২২ কিলোওয়াটের বেশি সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি ভবনে ছাদবাগান ও ল্যান্ডস্কেপিং বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
তবে হিট আইল্যান্ড মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বেসরকারি আবাসন, শপিং মল ও অন্যান্য স্থাপনাতেও সবুজায়ন, ছাদবাগান এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বাড়ানো প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগেই ঢাকার অতিরিক্ত তাপ কমিয়ে বসবাসের উপযোগী শহর গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে।
























