ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেনিসে নতুন রেকর্ড

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:২৮:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৪

ইউএস ওপেনের ট্রফি। ছবি: সংগৃহীত

এবার শুধু অঙ্কের হিসাব নয়, টেনিসের অর্থনীতিতেও নতুন একটি মাইলফলক। ২০২৬ ইউএস ওপেনে মোট ১০ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার প্রাইজমানি দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। টেনিসের কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো প্রাইজমানি ১০ কোটি ডলারের সীমা ছাড়াল। ফলে গ্র্যান্ড স্লামের ইতিহাস তো বটেই, পুরো টেনিস ইতিহাসেও এটি সবচেয়ে বড় প্রাইজমানির আসর হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে। অর্থের এই বিশাল অঙ্কে যেমন চ্যাম্পিয়নদের পুরস্কার বেড়েছে, তেমনি নিচের দিকের খেলোয়াড়দের জন্যও বাড়ানো হয়েছে আর্থিক সুবিধা।

নতুন এই রেকর্ডের মজার দিক হলো, আগের রেকর্ডটিও ছিল ইউএস ওপেনের দখলে। ২০২৫ সালের আসরে মোট ৯ কোটি ডলার প্রাইজমানি দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই অঙ্ক বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানেই পুরস্কারের তহবিলে যোগ হয়েছে বিপুল অর্থ। শুধু ইউএস ওপেন নয়, অন্য তিন গ্র্যান্ড স্লামের সঙ্গে তুলনা করলেও ব্যবধানটি চোখে পড়ে। ২০২৬ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে মোট প্রাইজমানি ছিল ১১ কোটি ১৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। ফ্রেঞ্চ ওপেনে ছিল ৬ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ইউরো, আর উইম্বলডনে ৬ কোটি ৪২ লাখ পাউন্ড। নিজ নিজ মুদ্রায় এগুলো বড় অঙ্ক হলেও মার্কিন ডলারে হিসাব করলে ইউএস ওপেনের নতুন তহবিলই সবচেয়ে বড়।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পুরস্কারেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০২৬ ইউএস ওপেনের পুরুষ ও নারী এককের চ্যাম্পিয়ন দুজনই পাবেন ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার করে। গত বছর যেখানে চ্যাম্পিয়নদের হাতে উঠেছিল ৫০ লাখ ডলার, এবার তা বেড়েছে ১০ শতাংশ। অর্থাৎ ট্রফির সঙ্গে পুরস্কারের অঙ্কও নতুন উচ্চতায় উঠছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সুবিধাটা শুধু শীর্ষ খেলোয়াড়দের মধ্যে আটকে থাকছে না। প্রথম রাউন্ডে হেরে যাওয়া খেলোয়াড়ও এবার পাবেন ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। গত বছর এই অঙ্ক ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ প্রথম ধাপেই বাদ পড়লেও এবার একজন খেলোয়াড় আগের চেয়ে ৩০ হাজার ডলার বেশি পাবেন।

এই বাড়তি প্রাইজমানির পেছনে খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিনের দাবিও গুরুত্বপূর্ণ। শীর্ষ টেনিস খেলোয়াড়েরা বহুদিন ধরেই বলে আসছেন, গ্র্যান্ড স্লাম থেকে যে বিপুল আয় হয়, তার আরও বড় অংশ খেলোয়াড়দের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। তাঁদের প্রস্তাব ছিল, প্রতিটি গ্র্যান্ড স্লামের আয়ের অন্তত ১৬ শতাংশ প্রাইজমানি হিসেবে দেওয়া হোক। ২০৩০ সালের মধ্যে সেই হার ২২ শতাংশে নেওয়ার দাবিও রয়েছে। ইউএস ওপেনের এবারের রেকর্ড প্রাইজমানি সেই আলোচনাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। তবে এই আসর খেলোয়াড়দের চাওয়া নির্দিষ্ট অংশে পৌঁছেছে কি না, সেটি এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

খেলোয়াড়দের আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি তাঁদের কল্যাণ নিয়েও এবার আলাদা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ইউএসটিএ ২০ লাখ ডলারের একটি ‘প্লেয়ার সাপোর্ট প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। এই অর্থ খেলোয়াড়দের কল্যাণ ও সহায়তায় ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি চার গ্র্যান্ড স্লাম—অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলডন ও ইউএস ওপেন—মিলে ‘গ্র্যান্ড স্লাম প্লেয়ার অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে গ্র্যান্ড স্লাম-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে খেলোয়াড়দের মতামত ও প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ এবারের পরিবর্তন শুধু প্রাইজমানির অঙ্কে নয়, খেলোয়াড়দের সঙ্গে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষের সম্পর্কেও নতুন বার্তা দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে ২০২৬ ইউএস ওপেন যেন টেনিসের নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। রেকর্ড ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রাইজমানি, একক চ্যাম্পিয়নের জন্য ৫৫ লাখ ডলার এবং প্রথম রাউন্ডে বিদায় নেওয়া খেলোয়াড়ের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার—প্রতিটি অঙ্কই আসরের ব্যাপ্তি বোঝাচ্ছে। এবারের ইউএস ওপেনের মূল ড্র শুরু হবে ৩০ আগস্ট এবং টুর্নামেন্ট চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। নিউইয়র্কের হার্ড কোর্টে তাই শুধু শিরোপার লড়াই নয়, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পুরস্কারের অংশ হওয়ার লড়াইটাও থাকবে। অর্থের এই রেকর্ড ভবিষ্যতের গ্র্যান্ড স্লামগুলোর প্রাইজমানিকেও আরও ওপরে নিয়ে যাবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

টেনিসে নতুন রেকর্ড

Update Time : ০৪:২৮:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

এবার শুধু অঙ্কের হিসাব নয়, টেনিসের অর্থনীতিতেও নতুন একটি মাইলফলক। ২০২৬ ইউএস ওপেনে মোট ১০ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার প্রাইজমানি দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। টেনিসের কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো প্রাইজমানি ১০ কোটি ডলারের সীমা ছাড়াল। ফলে গ্র্যান্ড স্লামের ইতিহাস তো বটেই, পুরো টেনিস ইতিহাসেও এটি সবচেয়ে বড় প্রাইজমানির আসর হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে। অর্থের এই বিশাল অঙ্কে যেমন চ্যাম্পিয়নদের পুরস্কার বেড়েছে, তেমনি নিচের দিকের খেলোয়াড়দের জন্যও বাড়ানো হয়েছে আর্থিক সুবিধা।

নতুন এই রেকর্ডের মজার দিক হলো, আগের রেকর্ডটিও ছিল ইউএস ওপেনের দখলে। ২০২৫ সালের আসরে মোট ৯ কোটি ডলার প্রাইজমানি দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই অঙ্ক বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানেই পুরস্কারের তহবিলে যোগ হয়েছে বিপুল অর্থ। শুধু ইউএস ওপেন নয়, অন্য তিন গ্র্যান্ড স্লামের সঙ্গে তুলনা করলেও ব্যবধানটি চোখে পড়ে। ২০২৬ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে মোট প্রাইজমানি ছিল ১১ কোটি ১৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। ফ্রেঞ্চ ওপেনে ছিল ৬ কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ইউরো, আর উইম্বলডনে ৬ কোটি ৪২ লাখ পাউন্ড। নিজ নিজ মুদ্রায় এগুলো বড় অঙ্ক হলেও মার্কিন ডলারে হিসাব করলে ইউএস ওপেনের নতুন তহবিলই সবচেয়ে বড়।

আরও পড়ুন  নাহিদ রানা নিয়ে ওয়েবস্টারের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পুরস্কারেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০২৬ ইউএস ওপেনের পুরুষ ও নারী এককের চ্যাম্পিয়ন দুজনই পাবেন ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার করে। গত বছর যেখানে চ্যাম্পিয়নদের হাতে উঠেছিল ৫০ লাখ ডলার, এবার তা বেড়েছে ১০ শতাংশ। অর্থাৎ ট্রফির সঙ্গে পুরস্কারের অঙ্কও নতুন উচ্চতায় উঠছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সুবিধাটা শুধু শীর্ষ খেলোয়াড়দের মধ্যে আটকে থাকছে না। প্রথম রাউন্ডে হেরে যাওয়া খেলোয়াড়ও এবার পাবেন ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। গত বছর এই অঙ্ক ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ প্রথম ধাপেই বাদ পড়লেও এবার একজন খেলোয়াড় আগের চেয়ে ৩০ হাজার ডলার বেশি পাবেন।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টিনা পাকিস্তান ম্যাচ: মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আলোচনা শুরু

এই বাড়তি প্রাইজমানির পেছনে খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিনের দাবিও গুরুত্বপূর্ণ। শীর্ষ টেনিস খেলোয়াড়েরা বহুদিন ধরেই বলে আসছেন, গ্র্যান্ড স্লাম থেকে যে বিপুল আয় হয়, তার আরও বড় অংশ খেলোয়াড়দের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। তাঁদের প্রস্তাব ছিল, প্রতিটি গ্র্যান্ড স্লামের আয়ের অন্তত ১৬ শতাংশ প্রাইজমানি হিসেবে দেওয়া হোক। ২০৩০ সালের মধ্যে সেই হার ২২ শতাংশে নেওয়ার দাবিও রয়েছে। ইউএস ওপেনের এবারের রেকর্ড প্রাইজমানি সেই আলোচনাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। তবে এই আসর খেলোয়াড়দের চাওয়া নির্দিষ্ট অংশে পৌঁছেছে কি না, সেটি এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

খেলোয়াড়দের আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি তাঁদের কল্যাণ নিয়েও এবার আলাদা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ইউএসটিএ ২০ লাখ ডলারের একটি ‘প্লেয়ার সাপোর্ট প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। এই অর্থ খেলোয়াড়দের কল্যাণ ও সহায়তায় ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি চার গ্র্যান্ড স্লাম—অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলডন ও ইউএস ওপেন—মিলে ‘গ্র্যান্ড স্লাম প্লেয়ার অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে গ্র্যান্ড স্লাম-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে খেলোয়াড়দের মতামত ও প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ এবারের পরিবর্তন শুধু প্রাইজমানির অঙ্কে নয়, খেলোয়াড়দের সঙ্গে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষের সম্পর্কেও নতুন বার্তা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন  ১০ দিনেই ৮ আত্মঘাতী গোল, ভাঙতে পারে বিশ্বকাপের রেকর্ড

সব মিলিয়ে ২০২৬ ইউএস ওপেন যেন টেনিসের নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। রেকর্ড ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রাইজমানি, একক চ্যাম্পিয়নের জন্য ৫৫ লাখ ডলার এবং প্রথম রাউন্ডে বিদায় নেওয়া খেলোয়াড়ের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার—প্রতিটি অঙ্কই আসরের ব্যাপ্তি বোঝাচ্ছে। এবারের ইউএস ওপেনের মূল ড্র শুরু হবে ৩০ আগস্ট এবং টুর্নামেন্ট চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। নিউইয়র্কের হার্ড কোর্টে তাই শুধু শিরোপার লড়াই নয়, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পুরস্কারের অংশ হওয়ার লড়াইটাও থাকবে। অর্থের এই রেকর্ড ভবিষ্যতের গ্র্যান্ড স্লামগুলোর প্রাইজমানিকেও আরও ওপরে নিয়ে যাবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।