ঢাকা ০৩:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওলি রবিনসন-জশ টাংয়ের দারুণ স্মারক, কাটলেন ম্যাচের বল

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:০৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০১

পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর ম্যাচের বল হাতে ওলি রবিনসন ও জশ টাং। | ছবি: সংগৃহীত

রবিনসন টাং—দুই ইংলিশ পেসারের নাম এখন শুধু একটি দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্সের সঙ্গে নয়, একটি অভিনব স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে। হেডিংলিতে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর ম্যাচের বলটি দুজনের হাতে উঠেছিল। কারণ, দুজনেই নিয়েছেন পাঁচটি করে উইকেট। এরপর সেই বল নিয়েই তাঁরা করলেন এমন কিছু, যা টেস্ট ক্রিকেটে খুব পরিচিত দৃশ্য নয়।

পাকিস্তানের ব্যাটিং ইনিংস থামল মাত্র ১৭১ রানে। ইংল্যান্ডের হয়ে ১০টি উইকেট ভাগ করে নিলেন রবিনসন ও টাং। প্রথমে রবিনসনের আঘাতে পাকিস্তানের টপ অর্ডার চাপে পড়ে। এরপর বল হাতে ঝড় তুললেন টাং। শেষ পর্যন্ত দুজনের ঝুলিতেই জমা হলো পাঁচটি করে উইকেট।

সাধারণত এমন কীর্তির পর ম্যাচের বলটি থাকে বোলারের স্মারক হিসেবে। কিন্তু হেডিংলিতে গল্পটা একটু অন্যভাবে লেখা হলো। মাঠ ছাড়ার সময় রবিনসনের মাথায় এল অভিনব এক ভাবনা—বলটি দুজনের মধ্যে ভাগ করে নিলে কেমন হয়?

টাংও সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলেন। এরপর ম্যাচের বল চলে গেল হেডিংলির গ্রাউন্ড স্টাফদের কাছে। তাঁদের হাতে কাটা হলো বলটি। শেষ পর্যন্ত লাল চামড়ার বলটি পরিণত হলো দুটি অর্ধেকে। এক অংশ রবিনসনের, অন্য অংশ টাংয়ের।

রবিনসনের কাছে বিষয়টি শুধু মজার কোনো ঘটনা নয়। একই ইনিংসে দুজনের পাঁচ উইকেট নেওয়াটাই যেখানে বিশেষ, সেখানে সেই মুহূর্তের স্মৃতিটা দুজনের মধ্যে ভাগ করে রাখার সিদ্ধান্ত আরও আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

বিবিসির টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে রবিনসন জানিয়েছেন, মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় তিনিই প্রথম বলটি ভাগ করার কথা বলেছিলেন। তাঁর কাছে ব্যাপারটি ছিল এমন একটি স্মৃতি, যা ভবিষ্যতে ফিরে দেখলেও আনন্দ দেবে। ক্রিকেটে অর্ধেক বলের স্মারক তো আর প্রতিদিন তৈরি হয় না!

টাংও কৃতিত্ব দিয়েছেন সিনিয়র সতীর্থ রবিনসনকে। তাঁর ভাষায়, এমন ঘটনা তিনি আগে কখনো দেখেননি। গ্রাউন্ড স্টাফরা অত্যন্ত সুন্দরভাবে কাজটি সম্পন্ন করেছেন। তাই ম্যাচের সেই বিশেষ বলের অর্ধেক তিনি যত্ন করে রেখে দেবেন।

ঘটনাটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে পরিসংখ্যান। টেস্ট ক্রিকেটে একই ইনিংসে ইংল্যান্ডের দুই বোলারের পাঁচ উইকেট নেওয়া খুবই বিরল। পাকিস্তানের বিপক্ষেই শেষবার এমন ঘটনা ঘটেছিল ২০০৬ সালে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সাইমন হার্মিসন ও মন্টি পানেসার পাঁচ উইকেট করে নিয়েছিলেন।

দীর্ঘ বিরতির পর এবার আবারও একই ঘটনা ঘটল। তবে পার্থক্য হলো, এবার ইংল্যান্ডের দুই স্পিনার নয়, দুই পেসার এই কীর্তি গড়েছেন। রবিনসন ও টাংয়ের বোলিংয়ে পাকিস্তানের ইনিংস তাই দ্রুতই গুটিয়ে যায়।

রবিনসনের বোলিংয়ে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানরা একে একে ফিরেছেন। এরপর টাং যেন বাকি কাজটা শেষ করার দায়িত্ব নেন। তাঁর গতিময় বোলিংয়ে পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডারও বেশি সময় টিকতে পারেনি। ডাকনাম ‘দ্য মপ’—সেদিন যেন সেই নামেরই যথার্থতা দেখিয়েছেন তিনি।

ইংল্যান্ডও এরপর ব্যাট হাতে দিনের শেষটা ভালোভাবেই করেছে। পাকিস্তানের ১৭১ রানের জবাবে দিন শেষ করেছে ২ উইকেটে ১১২ রান নিয়ে। ফলে প্রথম দিনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে ইংল্যান্ডের সামনে।

তবে রবিনসনের জন্য দিনটি ক্রিকেটীয় সাফল্যের বাইরেও ছিল আবেগের। মাত্র কয়েক দিন আগেই দ্বিতীয় কন্যা ইভার জন্ম হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পৃথিবীর আলো দেখেছে ছোট্ট ইভা। নতুন সন্তানের জন্মের আনন্দ নিয়েই রবিনসনকে এরপর মাঠে ফিরতে হয়েছে।

নিজের মেয়েকে বাড়িতে রেখে মাঠে এসে এমন পারফরম্যান্স করাটা তাই তাঁর কাছে অন্যরকম অনুভূতির। ঘুমের ঘাটতি, নতুন বাবা হওয়ার ব্যস্ততা—সবকিছুর মধ্যেও মাঠে পাঁচ উইকেট নেওয়া নিশ্চয়ই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

হেডিংলির সেই বিকেলে তাই শুধু পাকিস্তানের ১৭১ রানে অলআউট হওয়ার গল্প ছিল না। ছিল দুই বোলারের সমান পাঁচ উইকেট, ছিল ইংল্যান্ডের বিরল এক রেকর্ড, ছিল নতুন বাবার আবেগ, আর ছিল ম্যাচের একটি বলকে দুজনের স্মৃতিতে ভাগ করে নেওয়ার অসাধারণ সিদ্ধান্ত।

রবিনসন টাংয়ের এই গল্প হয়তো স্কোরকার্ডে আলাদা করে লেখা থাকবে না। সেখানে শুধু দেখা যাবে—দুজনেই পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য অনেক সময় স্কোরকার্ডের বাইরের এমন ছোট ছোট গল্পেই লুকিয়ে থাকে। হেডিংলির সেই কাটা বলটি তাই দুই ইংলিশ পেসারের কাছে হয়ে থাকবে একটি বিশেষ দিনের স্থায়ী স্মারক।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওলি রবিনসন-জশ টাংয়ের দারুণ স্মারক, কাটলেন ম্যাচের বল

Update Time : ০৩:০৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

রবিনসন টাং—দুই ইংলিশ পেসারের নাম এখন শুধু একটি দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্সের সঙ্গে নয়, একটি অভিনব স্মৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে। হেডিংলিতে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর ম্যাচের বলটি দুজনের হাতে উঠেছিল। কারণ, দুজনেই নিয়েছেন পাঁচটি করে উইকেট। এরপর সেই বল নিয়েই তাঁরা করলেন এমন কিছু, যা টেস্ট ক্রিকেটে খুব পরিচিত দৃশ্য নয়।

পাকিস্তানের ব্যাটিং ইনিংস থামল মাত্র ১৭১ রানে। ইংল্যান্ডের হয়ে ১০টি উইকেট ভাগ করে নিলেন রবিনসন ও টাং। প্রথমে রবিনসনের আঘাতে পাকিস্তানের টপ অর্ডার চাপে পড়ে। এরপর বল হাতে ঝড় তুললেন টাং। শেষ পর্যন্ত দুজনের ঝুলিতেই জমা হলো পাঁচটি করে উইকেট।

সাধারণত এমন কীর্তির পর ম্যাচের বলটি থাকে বোলারের স্মারক হিসেবে। কিন্তু হেডিংলিতে গল্পটা একটু অন্যভাবে লেখা হলো। মাঠ ছাড়ার সময় রবিনসনের মাথায় এল অভিনব এক ভাবনা—বলটি দুজনের মধ্যে ভাগ করে নিলে কেমন হয়?

টাংও সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলেন। এরপর ম্যাচের বল চলে গেল হেডিংলির গ্রাউন্ড স্টাফদের কাছে। তাঁদের হাতে কাটা হলো বলটি। শেষ পর্যন্ত লাল চামড়ার বলটি পরিণত হলো দুটি অর্ধেকে। এক অংশ রবিনসনের, অন্য অংশ টাংয়ের।

আরও পড়ুন  মুখোভাকে হারিয়ে উইম্বলডনের নতুন রানি নোসকোভা

রবিনসনের কাছে বিষয়টি শুধু মজার কোনো ঘটনা নয়। একই ইনিংসে দুজনের পাঁচ উইকেট নেওয়াটাই যেখানে বিশেষ, সেখানে সেই মুহূর্তের স্মৃতিটা দুজনের মধ্যে ভাগ করে রাখার সিদ্ধান্ত আরও আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

বিবিসির টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে রবিনসন জানিয়েছেন, মাঠ থেকে বের হওয়ার সময় তিনিই প্রথম বলটি ভাগ করার কথা বলেছিলেন। তাঁর কাছে ব্যাপারটি ছিল এমন একটি স্মৃতি, যা ভবিষ্যতে ফিরে দেখলেও আনন্দ দেবে। ক্রিকেটে অর্ধেক বলের স্মারক তো আর প্রতিদিন তৈরি হয় না!

টাংও কৃতিত্ব দিয়েছেন সিনিয়র সতীর্থ রবিনসনকে। তাঁর ভাষায়, এমন ঘটনা তিনি আগে কখনো দেখেননি। গ্রাউন্ড স্টাফরা অত্যন্ত সুন্দরভাবে কাজটি সম্পন্ন করেছেন। তাই ম্যাচের সেই বিশেষ বলের অর্ধেক তিনি যত্ন করে রেখে দেবেন।

ঘটনাটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে পরিসংখ্যান। টেস্ট ক্রিকেটে একই ইনিংসে ইংল্যান্ডের দুই বোলারের পাঁচ উইকেট নেওয়া খুবই বিরল। পাকিস্তানের বিপক্ষেই শেষবার এমন ঘটনা ঘটেছিল ২০০৬ সালে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সাইমন হার্মিসন ও মন্টি পানেসার পাঁচ উইকেট করে নিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন  ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে পাকিস্তানে ত্রিদেশীয় সিরিজ

দীর্ঘ বিরতির পর এবার আবারও একই ঘটনা ঘটল। তবে পার্থক্য হলো, এবার ইংল্যান্ডের দুই স্পিনার নয়, দুই পেসার এই কীর্তি গড়েছেন। রবিনসন ও টাংয়ের বোলিংয়ে পাকিস্তানের ইনিংস তাই দ্রুতই গুটিয়ে যায়।

রবিনসনের বোলিংয়ে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানরা একে একে ফিরেছেন। এরপর টাং যেন বাকি কাজটা শেষ করার দায়িত্ব নেন। তাঁর গতিময় বোলিংয়ে পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডারও বেশি সময় টিকতে পারেনি। ডাকনাম ‘দ্য মপ’—সেদিন যেন সেই নামেরই যথার্থতা দেখিয়েছেন তিনি।

ইংল্যান্ডও এরপর ব্যাট হাতে দিনের শেষটা ভালোভাবেই করেছে। পাকিস্তানের ১৭১ রানের জবাবে দিন শেষ করেছে ২ উইকেটে ১১২ রান নিয়ে। ফলে প্রথম দিনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে ইংল্যান্ডের সামনে।

তবে রবিনসনের জন্য দিনটি ক্রিকেটীয় সাফল্যের বাইরেও ছিল আবেগের। মাত্র কয়েক দিন আগেই দ্বিতীয় কন্যা ইভার জন্ম হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পৃথিবীর আলো দেখেছে ছোট্ট ইভা। নতুন সন্তানের জন্মের আনন্দ নিয়েই রবিনসনকে এরপর মাঠে ফিরতে হয়েছে।

আরও পড়ুন  দারুণ ভুল! মোহাম্মদ আব্বাসকে বাদ দিয়ে চাপে পাকিস্তান

নিজের মেয়েকে বাড়িতে রেখে মাঠে এসে এমন পারফরম্যান্স করাটা তাই তাঁর কাছে অন্যরকম অনুভূতির। ঘুমের ঘাটতি, নতুন বাবা হওয়ার ব্যস্ততা—সবকিছুর মধ্যেও মাঠে পাঁচ উইকেট নেওয়া নিশ্চয়ই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

হেডিংলির সেই বিকেলে তাই শুধু পাকিস্তানের ১৭১ রানে অলআউট হওয়ার গল্প ছিল না। ছিল দুই বোলারের সমান পাঁচ উইকেট, ছিল ইংল্যান্ডের বিরল এক রেকর্ড, ছিল নতুন বাবার আবেগ, আর ছিল ম্যাচের একটি বলকে দুজনের স্মৃতিতে ভাগ করে নেওয়ার অসাধারণ সিদ্ধান্ত।

রবিনসন টাংয়ের এই গল্প হয়তো স্কোরকার্ডে আলাদা করে লেখা থাকবে না। সেখানে শুধু দেখা যাবে—দুজনেই পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য অনেক সময় স্কোরকার্ডের বাইরের এমন ছোট ছোট গল্পেই লুকিয়ে থাকে। হেডিংলির সেই কাটা বলটি তাই দুই ইংলিশ পেসারের কাছে হয়ে থাকবে একটি বিশেষ দিনের স্থায়ী স্মারক।