আনন্দের দিন কীভাবে নিমিষেই বিষাদে রূপ নিতে পারে, তার এক নির্মম বাস্তব উদাহরণ হয়ে রইল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা। বিয়ের আনন্দ শেষ হতে না হতেই মর্মান্তিক বাসর রাতে বরের মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন মাত্র ২৫ বছর বয়সী যুবক আহমেদ আনাস বাপ্পি। যে বাড়িতে আজ বৌভাতের উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন চলছে জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়ীয়া ইউনিয়নের গাছেরদিয়াড় উত্তরপাড়া গ্রামে। নিহত আনাস বাপ্পি ছিলেন তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। নতুন বউকে নিয়ে যে ঘরে তার সুখের সংসার পাতার কথা ছিল, আজ সেই ঘরে শুধুই স্বজনদের শোকের মাতম আর আর্তনাদ।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বাহেরমাদী এলাকায় আনাসের বিয়ে অত্যন্ত আনন্দমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। বিকেলে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন তিনি। আজ শুক্রবার তাদের বৌভাতের বিশাল অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সেই উপলক্ষে বাড়িতে অতিথিদের আপ্যায়ন ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছিল।
বৌভাতের প্রস্তুতির এই কাজ গভীর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। আনাস নিজেই বরবেশের ক্লান্তি ভুলে সেই কাজের সার্বিক তদারকি করছিলেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে ঘটে যায় সেই ভয়ংকর দুর্ঘটনা। অসাবধানতাবশত একটি স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গেলে তিনি মারাত্মকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।
পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনা টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আনাস বাপ্পিকে মৃত ঘোষণা করেন। এক মুহূর্তের ব্যবধানে একটি হাসিখুশি পরিবারে নেমে আসে গভীর অন্ধকার।
এমন অপ্রত্যাশিত ও মর্মান্তিক বাসর রাতে বরের মৃত্যু পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয়রা এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে নিহতের বাবা-মা এখন প্রায় পাগলপ্রায়। নববধূর হাতের মেহেদির রং মোছার আগেই এমন নির্মম পরিণতিতে সবার চোখেই জল।



























