ঢাকা ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমুদ্রের নিচে বসবাসের নতুন স্টেশন ‘ভ্যানগার্ড’

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:৩১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০১

সমুদ্রের তলদেশে মানুষের বসবাসের জন্য তৈরি ভ্যানগার্ড স্টেশন, (ছবিটি: সংগৃহীত)

সমুদ্রের তলদেশে মানুষের বসবাসের উপযোগী স্টেশন তৈরির নতুন উদ্যোগ শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপ’ ফ্লোরিডা কিজ ন্যাশনাল মেরিন স্যাঙ্কচুয়ারির প্রায় ৫৬ ফুট গভীরে ‘ভ্যানগার্ড’ নামে একটি স্টেশন স্থাপন করেছে। দীর্ঘ বিরতির পর সমুদ্রতলে মানুষের বসবাসের ধারণাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে এই প্রকল্প।

সমুদ্রের নিচে স্থাপন করা ভ্যানগার্ডের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ ফুট এবং প্রস্থ ৮ ফুট। এতে একসঙ্গে চারজন গবেষক বা ‘অ্যাকোয়ানট’ টানা এক সপ্তাহ পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন। সমুদ্রের তলদেশে গবেষণা ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে এই আবাসন ব্যবস্থা।

স্টেশনটিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ওপরের একটি বয়ার মাধ্যমে তাজা বাতাস সরবরাহ করা হবে। ফলে সমুদ্রের গভীরে অবস্থান করেও গবেষকরা নির্দিষ্ট সময় ধরে সেখানে কাজ করতে পারবেন। ভবিষ্যতে এই স্টেশন সামরিক প্রশিক্ষণ, মহাকাশচারীদের প্রস্তুতি, শিক্ষা এবং শিল্পচর্চার মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

সমুদ্রের নিচে মানুষের বসবাসের ধারণা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৬০-এর দশকে ফরাসি সমুদ্রবিজ্ঞানী জাক-ইভ কুস্তোর ‘কনশেল্ফ’ অভিযানের মাধ্যমে এ ধরনের বসবাসের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হয়েছিল। সমুদ্রের তলদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে গবেষণা চালানোর সম্ভাবনা যাচাই করাই ছিল এসব উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তবে সে সময় সমুদ্রতলে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং বিপুল ব্যয়ের কারণে এ ধরনের প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদি গতি পায়নি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাধ্যমে সমুদ্রের গভীরে মানুষের অবস্থান এবং গবেষণার সুযোগ নিয়ে আবারও আগ্রহ তৈরি হয়।

১৯৯৩ সাল থেকে চালু থাকা ‘অ্যাকোয়ারিয়াস’ সমুদ্রতল গবেষণা স্টেশনও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এর পর ভ্যানগার্ডকে সমুদ্রতলে মানুষের অবস্থানের অবকাঠামোয় বড় ধরনের নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফ্লোরিডা কিজ এলাকায় এর স্থাপন সেই পুরোনো ধারণাকে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগকে সামনে এনেছে।

ভ্যানগার্ড প্রকল্পের মাধ্যমে সমুদ্রের নিচে মানুষের অবস্থানকে শুধু গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও নানা ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সামরিক প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে মহাকাশচারীদের প্রস্তুতি এবং শিক্ষা ও শিল্পচর্চায় এর সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মহাকাশে বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা প্রকল্প চললেও পৃথিবীর সমুদ্রতলও যে মানুষের গবেষণা ও প্রশিক্ষণের নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে, ভ্যানগার্ড সেই বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। সমুদ্রের গভীরে মানুষের দীর্ঘসময় অবস্থানের জন্য প্রযুক্তি কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়াচ্ছে এই উদ্যোগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

সমুদ্রের নিচে বসবাসের নতুন স্টেশন ‘ভ্যানগার্ড’

Update Time : ০৩:৩১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

সমুদ্রের তলদেশে মানুষের বসবাসের উপযোগী স্টেশন তৈরির নতুন উদ্যোগ শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপ’ ফ্লোরিডা কিজ ন্যাশনাল মেরিন স্যাঙ্কচুয়ারির প্রায় ৫৬ ফুট গভীরে ‘ভ্যানগার্ড’ নামে একটি স্টেশন স্থাপন করেছে। দীর্ঘ বিরতির পর সমুদ্রতলে মানুষের বসবাসের ধারণাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে এই প্রকল্প।

সমুদ্রের নিচে স্থাপন করা ভ্যানগার্ডের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ ফুট এবং প্রস্থ ৮ ফুট। এতে একসঙ্গে চারজন গবেষক বা ‘অ্যাকোয়ানট’ টানা এক সপ্তাহ পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন। সমুদ্রের তলদেশে গবেষণা ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে এই আবাসন ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন  মমতা পদত্যাগ না করলে বরখাস্ত হতে পারেন

স্টেশনটিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ওপরের একটি বয়ার মাধ্যমে তাজা বাতাস সরবরাহ করা হবে। ফলে সমুদ্রের গভীরে অবস্থান করেও গবেষকরা নির্দিষ্ট সময় ধরে সেখানে কাজ করতে পারবেন। ভবিষ্যতে এই স্টেশন সামরিক প্রশিক্ষণ, মহাকাশচারীদের প্রস্তুতি, শিক্ষা এবং শিল্পচর্চার মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

সমুদ্রের নিচে মানুষের বসবাসের ধারণা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৬০-এর দশকে ফরাসি সমুদ্রবিজ্ঞানী জাক-ইভ কুস্তোর ‘কনশেল্ফ’ অভিযানের মাধ্যমে এ ধরনের বসবাসের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হয়েছিল। সমুদ্রের তলদেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে গবেষণা চালানোর সম্ভাবনা যাচাই করাই ছিল এসব উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন  বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল রহস্য: কেন আজও হারিয়ে যায় জাহাজ ও বিমান?

তবে সে সময় সমুদ্রতলে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং বিপুল ব্যয়ের কারণে এ ধরনের প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদি গতি পায়নি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাধ্যমে সমুদ্রের গভীরে মানুষের অবস্থান এবং গবেষণার সুযোগ নিয়ে আবারও আগ্রহ তৈরি হয়।

১৯৯৩ সাল থেকে চালু থাকা ‘অ্যাকোয়ারিয়াস’ সমুদ্রতল গবেষণা স্টেশনও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এর পর ভ্যানগার্ডকে সমুদ্রতলে মানুষের অবস্থানের অবকাঠামোয় বড় ধরনের নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফ্লোরিডা কিজ এলাকায় এর স্থাপন সেই পুরোনো ধারণাকে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগকে সামনে এনেছে।

আরও পড়ুন  মার্কিন অবরোধে অন্ধকারে কিউবা

ভ্যানগার্ড প্রকল্পের মাধ্যমে সমুদ্রের নিচে মানুষের অবস্থানকে শুধু গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও নানা ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সামরিক প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে মহাকাশচারীদের প্রস্তুতি এবং শিক্ষা ও শিল্পচর্চায় এর সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মহাকাশে বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা প্রকল্প চললেও পৃথিবীর সমুদ্রতলও যে মানুষের গবেষণা ও প্রশিক্ষণের নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে, ভ্যানগার্ড সেই বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। সমুদ্রের গভীরে মানুষের দীর্ঘসময় অবস্থানের জন্য প্রযুক্তি কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়াচ্ছে এই উদ্যোগ।