ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাতির মৃত্যু: কেনিয়ায় বিষক্রিয়ার রহস্য ঘনীভূত

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১০

সায়ানাইডের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর কেনিয়ায় হাতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত

হাতির মৃত্যু ঘিরে কেনিয়ার অ্যাম্বোসেলি এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে জাতীয় উদ্যানের আশপাশে ১৫টি হাতির মরদেহ উদ্ধারের পর শুরু হয়েছে তদন্ত। প্রাথমিক পরীক্ষায় কয়েকটি হাতির পাকস্থলীর নমুনায় সায়ানাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ফলে বিষক্রিয়াই মৃত্যুর কারণ কি না, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।

কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জুন থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে অ্যাম্বোসেলি জাতীয় উদ্যানের বাইরে এসব হাতির মরদেহ পাওয়া যায়। মৃত কয়েকটি হাতির শরীরে পক্ষাঘাতের মতো লক্ষণও দেখা যায়। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, আশপাশের টমেটো ক্ষেতে ব্যবহৃত কীটনাশকের মাধ্যমে হাতিগুলো বিষক্রিয়ার শিকার হয়ে থাকতে পারে।

তবে এই ব্যাখ্যা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন সংরক্ষণবাদী ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। তাদের প্রশ্ন, একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির প্রাণঘাতী বিষক্রিয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ দূষিত খাবার গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি মৃত হাতিদের বেশিরভাগই পুরুষ না হওয়ায় কৃষিজমিতে প্রবেশের স্বাভাবিক প্রবণতার সঙ্গেও বিষয়টি পুরোপুরি মেলানো যাচ্ছে না।

ঘটনাস্থল কিমানা অঞ্চলটি অ্যাম্বোসেলি ও সাভো জাতীয় উদ্যানের মাঝামাঝি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতি চলাচলের পথ। উর্বর এই এলাকায় ব্যাপক টমেটো চাষ হয়। ফলে খাবারের সন্ধানে হাতিরা কৃষিজমিতে ঢুকে পড়লে কীটনাশকের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয়রা বলছেন, অতীতে বিষক্রিয়ায় অন্য প্রাণী আক্রান্ত হলেও এবার শুধু হাতিদের মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

এদিকে অবৈধ কৃষি রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নিষিদ্ধ সায়ানাইড-ভিত্তিক রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ আগেও উঠেছিল। সংরক্ষণবাদীদের মতে, কৃষিজমির বিস্তার, মানুষের বসতি এবং পর্যটন অবকাঠামো বাড়ার কারণে হাতির সঙ্গে মানুষের সংঘাতও ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ঘটনাটিকে শুধু বিষক্রিয়ার দৃষ্টিতে না দেখে পুরো এলাকার পরিবেশগত পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

হাতির মৃত্যু নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ প্রয়োগ, কীটনাশকযুক্ত ফসল খাওয়া নাকি অন্য কোনো কারণে এই প্রাণীগুলোর মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত চলছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রকৃত কারণ দ্রুত শনাক্ত করা না গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। তাই হাতি ও স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

হাতির মৃত্যু: কেনিয়ায় বিষক্রিয়ার রহস্য ঘনীভূত

Update Time : ০৩:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

হাতির মৃত্যু ঘিরে কেনিয়ার অ্যাম্বোসেলি এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে জাতীয় উদ্যানের আশপাশে ১৫টি হাতির মরদেহ উদ্ধারের পর শুরু হয়েছে তদন্ত। প্রাথমিক পরীক্ষায় কয়েকটি হাতির পাকস্থলীর নমুনায় সায়ানাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ফলে বিষক্রিয়াই মৃত্যুর কারণ কি না, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।

কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জুন থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে অ্যাম্বোসেলি জাতীয় উদ্যানের বাইরে এসব হাতির মরদেহ পাওয়া যায়। মৃত কয়েকটি হাতির শরীরে পক্ষাঘাতের মতো লক্ষণও দেখা যায়। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, আশপাশের টমেটো ক্ষেতে ব্যবহৃত কীটনাশকের মাধ্যমে হাতিগুলো বিষক্রিয়ার শিকার হয়ে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন  পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে: মোদির বিজয়ে নতুন অধ্যায়

তবে এই ব্যাখ্যা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন সংরক্ষণবাদী ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। তাদের প্রশ্ন, একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির প্রাণঘাতী বিষক্রিয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ দূষিত খাবার গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি মৃত হাতিদের বেশিরভাগই পুরুষ না হওয়ায় কৃষিজমিতে প্রবেশের স্বাভাবিক প্রবণতার সঙ্গেও বিষয়টি পুরোপুরি মেলানো যাচ্ছে না।

ঘটনাস্থল কিমানা অঞ্চলটি অ্যাম্বোসেলি ও সাভো জাতীয় উদ্যানের মাঝামাঝি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতি চলাচলের পথ। উর্বর এই এলাকায় ব্যাপক টমেটো চাষ হয়। ফলে খাবারের সন্ধানে হাতিরা কৃষিজমিতে ঢুকে পড়লে কীটনাশকের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয়রা বলছেন, অতীতে বিষক্রিয়ায় অন্য প্রাণী আক্রান্ত হলেও এবার শুধু হাতিদের মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সম্মত ইরান!

এদিকে অবৈধ কৃষি রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নিষিদ্ধ সায়ানাইড-ভিত্তিক রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ আগেও উঠেছিল। সংরক্ষণবাদীদের মতে, কৃষিজমির বিস্তার, মানুষের বসতি এবং পর্যটন অবকাঠামো বাড়ার কারণে হাতির সঙ্গে মানুষের সংঘাতও ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ঘটনাটিকে শুধু বিষক্রিয়ার দৃষ্টিতে না দেখে পুরো এলাকার পরিবেশগত পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

হাতির মৃত্যু নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ প্রয়োগ, কীটনাশকযুক্ত ফসল খাওয়া নাকি অন্য কোনো কারণে এই প্রাণীগুলোর মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত চলছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রকৃত কারণ দ্রুত শনাক্ত করা না গেলে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। তাই হাতি ও স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

আরও পড়ুন  ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা