ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার, জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:২২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের সর্বশেষ চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও কিছুটা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত এখন ৩ হাজার ৬৫৯ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত BPM6 হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। সর্বশেষ এই হিসাব দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। [অর্থনীতি বিভাগের আরও খবর]

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৬৪৬ কোটি ৯৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। দুই দিনের ব্যবধানে সেই পরিমাণ বেড়ে ৩ হাজার ৬৫৯ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এই সময়ে রিজার্ভে প্রায় ১২ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার যোগ হয়েছে। একই সময়ে BPM6 পদ্ধতিতে রিজার্ভও বেড়েছে। ২ আগস্ট এই হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১৬৫ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার, যা ৪ আগস্ট বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ১৭৭ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনের তথ্য দেখলেও রিজার্ভের ওঠানামার চিত্র পাওয়া যায়। গত ২৮ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৬৪৫ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার ডলার। ২৩ জুলাই ছিল ৩ হাজার ৬৪৮ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং ২২ জুলাই ছিল ৩ হাজার ৬৪৬ কোটি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এর আগে ১৬ জুলাই রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৪৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ জুলাইজুড়ে রিজার্ভে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেলেও আগস্টের শুরুতে আবারও তা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

রিজার্ভের হিসাব বোঝার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব এবং আইএমএফের BPM6 পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই একই সময়ে দুই ধরনের হিসাব প্রকাশ করা হয়। ৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার হলেও BPM6 অনুযায়ী তা ৩১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। সহজভাবে বললে, দুই পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত সম্পদের ধরন ও হিসাবের নিয়মে পার্থক্য থাকায় পরিমাণেও পার্থক্য দেখা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত অর্থনৈতিক প্রকাশনাগুলোতেও গ্রস রিজার্ভ ও BPM6 হিসাব আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হয়।

রিজার্ভের পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের আমদানি-রপ্তানি, প্রবাসী আয়, বৈদেশিক লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক পরিশোধের বিষয়গুলো ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এর আগে ৭ জুলাই এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন বা আকুর দেনা পরিশোধের পরও রিজার্ভে পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। ওই দিন আকুকে ১৪৮ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হয়। আকু এশিয়ার কয়েকটি দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির একটি ব্যবস্থা। বাংলাদেশসহ ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ এর সদস্য।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে দেশের রিজার্ভ এখন ৩৬ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের BPM6 পদ্ধতিতে এই পরিমাণ ৩১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থনীতির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার মজুত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক হওয়ায় রিজার্ভের এই পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা। সামনে প্রবাসী আয়, রপ্তানি আয়, আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক লেনদেনের প্রবাহের ওপর রিজার্ভের পরবর্তী অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করবে। সর্বশেষ অর্থনৈতিক তথ্যের জন্য [বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল তথ্য] দেখুন।

রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার, জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক

Update Time : ০৩:২২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও কিছুটা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত এখন ৩ হাজার ৬৫৯ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত BPM6 হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। সর্বশেষ এই হিসাব দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। [অর্থনীতি বিভাগের আরও খবর]

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৬৪৬ কোটি ৯৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। দুই দিনের ব্যবধানে সেই পরিমাণ বেড়ে ৩ হাজার ৬৫৯ কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এই সময়ে রিজার্ভে প্রায় ১২ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার যোগ হয়েছে। একই সময়ে BPM6 পদ্ধতিতে রিজার্ভও বেড়েছে। ২ আগস্ট এই হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১৬৫ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার, যা ৪ আগস্ট বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ১৭৭ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

আরও পড়ুন  বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সুখবর, বেড়ে ছাড়াল ৩৬.৪৬ বিলিয়ন ডলার

সাম্প্রতিক কয়েক দিনের তথ্য দেখলেও রিজার্ভের ওঠানামার চিত্র পাওয়া যায়। গত ২৮ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৬৪৫ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার ডলার। ২৩ জুলাই ছিল ৩ হাজার ৬৪৮ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং ২২ জুলাই ছিল ৩ হাজার ৬৪৬ কোটি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এর আগে ১৬ জুলাই রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৪৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থাৎ জুলাইজুড়ে রিজার্ভে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেলেও আগস্টের শুরুতে আবারও তা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

আরও পড়ুন  মে মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ

রিজার্ভের হিসাব বোঝার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব এবং আইএমএফের BPM6 পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই একই সময়ে দুই ধরনের হিসাব প্রকাশ করা হয়। ৪ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার হলেও BPM6 অনুযায়ী তা ৩১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। সহজভাবে বললে, দুই পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত সম্পদের ধরন ও হিসাবের নিয়মে পার্থক্য থাকায় পরিমাণেও পার্থক্য দেখা যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত অর্থনৈতিক প্রকাশনাগুলোতেও গ্রস রিজার্ভ ও BPM6 হিসাব আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হয়।

রিজার্ভের পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের আমদানি-রপ্তানি, প্রবাসী আয়, বৈদেশিক লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক পরিশোধের বিষয়গুলো ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এর আগে ৭ জুলাই এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন বা আকুর দেনা পরিশোধের পরও রিজার্ভে পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। ওই দিন আকুকে ১৪৮ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হয়। আকু এশিয়ার কয়েকটি দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির একটি ব্যবস্থা। বাংলাদেশসহ ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ এর সদস্য।

আরও পড়ুন  রেকর্ড ভাঙলো প্রবাসী আয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এল ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে দেশের রিজার্ভ এখন ৩৬ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের BPM6 পদ্ধতিতে এই পরিমাণ ৩১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থনীতির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার মজুত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক হওয়ায় রিজার্ভের এই পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা। সামনে প্রবাসী আয়, রপ্তানি আয়, আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক লেনদেনের প্রবাহের ওপর রিজার্ভের পরবর্তী অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করবে। সর্বশেষ অর্থনৈতিক তথ্যের জন্য [বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল তথ্য] দেখুন।