দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২২ জুলাই পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৪৬৫ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহও ইতিবাচক ধারায় থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম মুনসি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হিসাব করলে দেশের ব্যবহারযোগ্য বা নিট রিজার্ভও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। এতে বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনা এবং আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালান্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) পদ্ধতিতে হিসাব করলে দেশের ব্যবহারযোগ্য বা নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৭৭০ দশমিক ০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। এই সূচকটি আন্তর্জাতিকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য এবং একটি দেশের প্রকৃত বৈদেশিক মুদ্রার সক্ষমতা মূল্যায়নে ব্যবহৃত হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকলে আমদানি ব্যয় নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রিজার্ভ বৃদ্ধির অন্যতম বড় কারণ হিসেবে রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করা হচ্ছে। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২০ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৮০ কোটি ২৬ লাখ মার্কিন ডলার। এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ব্যাংকভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৮ কোটি ৭৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৪ কোটি ৫২ লাখ ডলার। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি, ১২৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার দেশে এসেছে। এছাড়া বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আরও ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার উন্নয়ন এবং প্রবাসীদের সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে এই ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক লেনদেনেও ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এই ধারা ধরে রাখতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন অর্থনীতিবিদরা।


























