চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে এসেছে ১৯৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৩ হাজার ৮৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসেবে)। সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মাসের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা নিয়মিতভাবে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠাচ্ছেন। ফলে চলতি মাসেও রেমিট্যান্সের প্রবাহ সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে। মাস শেষে এই পরিমাণ আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হলো প্রবাসী আয়। রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক লেনদেন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারও বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠালে নগদ প্রণোদনাসহ নানা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হুন্ডির মতো অবৈধ পদ্ধতি নিরুৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ আরও স্থিতিশীল হচ্ছে। প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং সেবার উন্নয়নের ফলে বৈধ চ্যানেলের ব্যবহারও বাড়ছে। এর ইতিবাচক প্রভাব দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে ডলারের বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবাসীদের পাঠানো প্রতিটি বৈধ রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। এতে যেমন প্রবাসীরা সরকারি প্রণোদনার সুবিধা পাবেন, তেমনি দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই মাসের প্রথম ১৯ দিনেই প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স দেশে আসা অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। মাসের বাকি সময়েও এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে জুলাই মাসে রেমিট্যান্স নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় সহায়ক হবে।



























