ঢাকা ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলা কিউআর: ১ জুলাই থেকে সহজ ক্যাশলেস লেনদেনের যুগ

নিরাপদ ও স্বচ্ছ লেনদেন ব্যবস্থার নতুন সম্ভাবনা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলা কিউআর চালুর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাওয়া এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহার করে সহজে পেমেন্ট করা যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলা কিউআর হবে একটি জাতীয় মানসম্পন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম। এর ফলে শপিংমল, সুপারশপ, রেস্টুরেন্ট, ছোট দোকান কিংবা ফুটপাতের ব্যবসায়ী—সবাই একই ধরনের কিউআর কোড ব্যবহার করে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা কিউআর ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি একক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হওয়ায় লেনদেন আরও সহজ হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রচলিত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট গ্রহণে যেখানে ব্যয়বহুল পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন প্রয়োজন হয়, সেখানে বাংলা কিউআর ব্যবহারে শুধু একটি কিউআর স্টিকারই যথেষ্ট। ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ছোট ব্যবসায়ীরাও সহজে ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসতে পারবেন। এতে ব্যবসায়িক ব্যয় কমবে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও বাড়বে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বাংলা কিউআরকে অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে গ্রাহক সরাসরি নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাপ ব্যবহার করে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন। ফলে কার্ড ক্লোনিং, পিন চুরি বা জালিয়াতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। একই সঙ্গে লেনদেনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলা কিউআরের কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়ন তদারকির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে আহ্বায়ক করে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। গভর্নরের মতে, ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার খরচ কমবে এবং গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও সহজে আধুনিক আর্থিক সেবার আওতায় আসতে পারবে। অন্যদিকে ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করে তুলবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম জাহিদের মতে, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো অনেক আগেই ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে মূলধারায় নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশেও বাংলা কিউআর সেই পরিবর্তনের পথ সুগম করবে। তবে তিনি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বলেন, শুধু প্রযুক্তি চালু করলেই হবে না; গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এর ব্যবহার সম্পর্কে জানাতে হবে। বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস, সঠিক বাস্তবায়ন হলে বাংলা কিউআর দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলা কিউআর: ১ জুলাই থেকে সহজ ক্যাশলেস লেনদেনের যুগ

Update Time : ০১:২৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বাংলা কিউআর চালুর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাওয়া এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহার করে সহজে পেমেন্ট করা যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ দেশের ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলা কিউআর হবে একটি জাতীয় মানসম্পন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম। এর ফলে শপিংমল, সুপারশপ, রেস্টুরেন্ট, ছোট দোকান কিংবা ফুটপাতের ব্যবসায়ী—সবাই একই ধরনের কিউআর কোড ব্যবহার করে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা কিউআর ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি একক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হওয়ায় লেনদেন আরও সহজ হবে।

আরও পড়ুন  ব্লু ইকোনমিতে বড় বিনিয়োগের আগ্রহ, ইউরোপের দেশগুলোর নজরে বাংলাদেশ

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রচলিত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট গ্রহণে যেখানে ব্যয়বহুল পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন প্রয়োজন হয়, সেখানে বাংলা কিউআর ব্যবহারে শুধু একটি কিউআর স্টিকারই যথেষ্ট। ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ছোট ব্যবসায়ীরাও সহজে ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসতে পারবেন। এতে ব্যবসায়িক ব্যয় কমবে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও বাড়বে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বাংলা কিউআরকে অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে গ্রাহক সরাসরি নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাপ ব্যবহার করে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন। ফলে কার্ড ক্লোনিং, পিন চুরি বা জালিয়াতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। একই সঙ্গে লেনদেনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নতুন ঘোষণা

বাংলা কিউআরের কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়ন তদারকির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে আহ্বায়ক করে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। গভর্নরের মতে, ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার খরচ কমবে এবং গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও সহজে আধুনিক আর্থিক সেবার আওতায় আসতে পারবে। অন্যদিকে ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করে তুলবে।

আরও পড়ুন  ডলারের বাজার: এক মাসে বেড়েছে দাম, লেনদেন ১২৪ টাকার কাছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম জাহিদের মতে, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো অনেক আগেই ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে মূলধারায় নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশেও বাংলা কিউআর সেই পরিবর্তনের পথ সুগম করবে। তবে তিনি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বলেন, শুধু প্রযুক্তি চালু করলেই হবে না; গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এর ব্যবহার সম্পর্কে জানাতে হবে। বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস, সঠিক বাস্তবায়ন হলে বাংলা কিউআর দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।