ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশের উন্নয়নে জাতিসংঘের আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় সরকার Logo সৌরজগতের বাইরে বহির্গ্রহ থেকে রেডিও সংকেত শনাক্ত Logo মাত্র ৭ দিনে মনোযোগ বাড়াবেন যেভাবে, জানুন সহজ কৌশল Logo দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এমপি জসীমের নেতৃত্বে চন্দনাইশে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ Logo নতুন উপজেলায় সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়নের সাথে দোহাজারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে: এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ Logo চন্দনাইশে গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বাস উপহারের ঘোষণা এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদের Logo ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন পেল বিকাশ-রবিসহ চার প্রতিষ্ঠান Logo সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ, আদালতে দুই কর্মচারীর জবানবন্দি Logo মরিয়মের মৃত্যু মামলায় গাজী নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে Logo থানার দরজা ভেঙে পালাল কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্য

এলপিপির ৭০ কোটি ডলারের পোশাক ক্রয়াদেশ স্থগিত, দুশ্চিন্তায় রপ্তানিকারকরা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৫৩:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৩৫

বাংলাদেশ থেকে নতুন পোশাক ক্রয়াদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এলপিপি। ছবি: সংগৃহীত

এলপিপির ক্রয়াদেশ স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পোল্যান্ডভিত্তিক ফ্যাশন রিটেইল প্রতিষ্ঠান এলপিপি এসএ (LPP SA) বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক কিনে থাকে। তবে প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা এবং পুলিশি হয়রানির অভিযোগের পর নতুন ক্রয়াদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এলপিপি। এতে দেশের পোশাক রপ্তানি, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র জানায়, রাশিয়াভিত্তিক ক্রেতা এফইএস রিটেইল (FES Retail)-এর বকেয়া অর্থকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে গত মাসে দুটি বায়িং হাউসের মালিক এলপিপির কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেন। এরপর কয়েকজন কর্মকর্তার বাসায় পুলিশি অভিযান চালানো হয়। এই পরিস্থিতির পরই এলপিপি বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

গত ২১ জুলাই বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিজিবিএকে পাঠানো এক চিঠিতে এলপিপি জানায়, তারা অর্থ পরিশোধ-সংক্রান্ত বিরোধের প্রকৃত দায়ী পক্ষ নয়। এরপরও তাদের কর্মকর্তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাই তারা ধাপে ধাপে বাংলাদেশে নতুন সোর্সিং কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরবর্তীতে ৩১ জুলাই বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের কাছে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে এলপিপি জানায়, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আপাতত নতুন ক্রয়াদেশ এবং নতুন পণ্য উন্নয়নের কাজ স্থগিত থাকবে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, বিষয়টির দ্রুত সমাধান না হলে দেশের পোশাক শিল্প বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কারণ, এলপিপি বাংলাদেশের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক ক্রেতা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্তত ৪৩টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ২৫০টি পোশাক কারখানা থেকে পণ্য সংগ্রহ করে। বিদায়ী অর্থবছরে এলপিপি বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে এবং চলতি অর্থবছরে তা ৭৭ কোটি ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল।

বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইল। কয়েকজন রপ্তানিকারকের দাবি, এফইএস রিটেইলের কাছে তাদের প্রায় ৪ কোটি ডলার বকেয়া রয়েছে। তাদের অভিযোগ, শুরুতে এলপিপির নিশ্চয়তার ভিত্তিতেই এফইএস রিটেইলের সঙ্গে ব্যবসা করা হয়েছিল। তাই বকেয়া অর্থের বিষয়ে এলপিপিরও নৈতিক দায় রয়েছে।

তবে অন্যদিকে অনেক সরবরাহকারী মনে করেন, এফইএস রিটেইলের দায় সরাসরি এলপিপির ওপর চাপানো উচিত নয়। তাদের মতে, এলপিপি মূলত দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে দিয়েছে, কিন্তু অর্থ পরিশোধের আইনগত দায় এফইএস রিটেইলেরই।

বিষয়টি নিয়ে বিজিএমইএ জানিয়েছে, তারা সব পক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। সংগঠনের মতে, আইনগতভাবে এলপিপির দায় পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে এলপিপির কর্মকর্তাদের যেন অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই মনে করছে, বিরোধটি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিকারকরা যেমন তাদের পাওনা আদায়ের সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক ক্রেতা এলপিপির সোর্সিং কার্যক্রমও স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান হবে এবং এলপিপির ক্রয়াদেশ স্থগিত থাকার পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কারণ দীর্ঘমেয়াদে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হলে রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাতিসংঘের আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় সরকার

এলপিপির ৭০ কোটি ডলারের পোশাক ক্রয়াদেশ স্থগিত, দুশ্চিন্তায় রপ্তানিকারকরা

Update Time : ১১:৫৩:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

এলপিপির ক্রয়াদেশ স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পোল্যান্ডভিত্তিক ফ্যাশন রিটেইল প্রতিষ্ঠান এলপিপি এসএ (LPP SA) বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক কিনে থাকে। তবে প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা এবং পুলিশি হয়রানির অভিযোগের পর নতুন ক্রয়াদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এলপিপি। এতে দেশের পোশাক রপ্তানি, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র জানায়, রাশিয়াভিত্তিক ক্রেতা এফইএস রিটেইল (FES Retail)-এর বকেয়া অর্থকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে গত মাসে দুটি বায়িং হাউসের মালিক এলপিপির কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেন। এরপর কয়েকজন কর্মকর্তার বাসায় পুলিশি অভিযান চালানো হয়। এই পরিস্থিতির পরই এলপিপি বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

আরও পড়ুন  পাবনার হোসিয়ারিশিল্প সংকটে, ভারত রপ্তানি বন্ধে বন্ধ হচ্ছে কারখানা

গত ২১ জুলাই বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিজিবিএকে পাঠানো এক চিঠিতে এলপিপি জানায়, তারা অর্থ পরিশোধ-সংক্রান্ত বিরোধের প্রকৃত দায়ী পক্ষ নয়। এরপরও তাদের কর্মকর্তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাই তারা ধাপে ধাপে বাংলাদেশে নতুন সোর্সিং কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরবর্তীতে ৩১ জুলাই বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের কাছে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে এলপিপি জানায়, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আপাতত নতুন ক্রয়াদেশ এবং নতুন পণ্য উন্নয়নের কাজ স্থগিত থাকবে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, বিষয়টির দ্রুত সমাধান না হলে দেশের পোশাক শিল্প বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কারণ, এলপিপি বাংলাদেশের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক ক্রেতা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্তত ৪৩টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ২৫০টি পোশাক কারখানা থেকে পণ্য সংগ্রহ করে। বিদায়ী অর্থবছরে এলপিপি বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে এবং চলতি অর্থবছরে তা ৭৭ কোটি ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল।

আরও পড়ুন  ডিএসই লেনদেন: চাঙ্গা বাজারে ৪০ মিনিটেই ১৮০ কোটি টাকার চমক

বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইল। কয়েকজন রপ্তানিকারকের দাবি, এফইএস রিটেইলের কাছে তাদের প্রায় ৪ কোটি ডলার বকেয়া রয়েছে। তাদের অভিযোগ, শুরুতে এলপিপির নিশ্চয়তার ভিত্তিতেই এফইএস রিটেইলের সঙ্গে ব্যবসা করা হয়েছিল। তাই বকেয়া অর্থের বিষয়ে এলপিপিরও নৈতিক দায় রয়েছে।

তবে অন্যদিকে অনেক সরবরাহকারী মনে করেন, এফইএস রিটেইলের দায় সরাসরি এলপিপির ওপর চাপানো উচিত নয়। তাদের মতে, এলপিপি মূলত দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে দিয়েছে, কিন্তু অর্থ পরিশোধের আইনগত দায় এফইএস রিটেইলেরই।

বিষয়টি নিয়ে বিজিএমইএ জানিয়েছে, তারা সব পক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। সংগঠনের মতে, আইনগতভাবে এলপিপির দায় পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে এলপিপির কর্মকর্তাদের যেন অপ্রয়োজনীয় হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  শুল্কে চাপ: বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের প্রভাব

এদিকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই মনে করছে, বিরোধটি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিকারকরা যেমন তাদের পাওনা আদায়ের সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক ক্রেতা এলপিপির সোর্সিং কার্যক্রমও স্বাভাবিক থাকবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান হবে এবং এলপিপির ক্রয়াদেশ স্থগিত থাকার পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কারণ দীর্ঘমেয়াদে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হলে রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।