ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ট্রাম্প-মেলানিয়ার নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান Logo ট্রেন চুরি: কৃত্রিম ব্লকেডে চাঞ্চল্য, মূল হোতাসহ গ্রেফতার ৫ Logo দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বাংলাদেশ নারী হকি দলের ৮-০ গোলের হার Logo কুড়িগ্রাম কৃষি উপপরিচালক বদলি: নতুন দায়িত্বে রওশন কবীর Logo ২১ বছর পর বদলে গেল জুলিয়া হত্যা মামলার রায়, খালাস আমীর হোসেন Logo বয়স্কদের ডায়াবেটিস-হৃদ্‌রোগে কী খাবার, কী এড়িয়ে চলবেন? Logo অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমবে কেন, মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা Logo স্থানীয় নির্বাচন কবে, ২০২৭-এর শুরুতেই কি ভোট? Logo চন্দনাইশে ফাজিল ছাত্রকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের অভিযোগ মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে, ইউএনও বরাবর অভিযোগ Logo ইংরেজি শেখা কেন কঠিন হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য

অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমবে কেন, মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:২৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৯

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে এডিবির পূর্বাভাস। | ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশের জন্য নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ শতাংশ করেছে। এর আগে জুলাইয়ের পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছিল এডিবি। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানেই পূর্বাভাসে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের পরিবর্তন এসেছে।

২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এডিবির ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’ বা এডিওর সেপ্টেম্বর হালনাগাদে বাংলাদেশের অর্থনীতির এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির মূল্যায়নে ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘস্থায়ী চাপ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করছে। জুলাইয়ের ADO-তে বাংলাদেশে FY2027 প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হয়েছিল।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার পেছনে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে এডিবি। উচ্চ খেলাপি ঋণ, ব্যাংকের দুর্বল ব্যালান্স শিট এবং ঋণের তুলনামূলক বেশি সুদহারের কারণে বেসরকারি খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি কমাতে সরকারি সিকিউরিটিতে অর্থ বিনিয়োগের প্রবণতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

এডিবির পর্যবেক্ষণে শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, উৎপাদন ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামোগত বাধাও অর্থনীতির গতিকে প্রভাবিত করছে। এর সঙ্গে তীব্র জ্বালানি ঘাটতি যুক্ত হওয়ায় শিল্প ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়েও সতর্ক করেছে এডিবি। সেপ্টেম্বরের হালনাগাদ অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এর আগে জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এই হার ৮ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়েছিল। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও শূন্য দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির এই পূর্বাভাস এমন সময়ে এসেছে, যখন এডিবি পুরো এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতেও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও সরবরাহগত ঝুঁকির প্রভাব দেখছে। সংস্থাটির সেপ্টেম্বরের আলোচনায় জ্বালানি সংকট, সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাবকে আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাত, জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি আগামী দিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প-মেলানিয়ার নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান

অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমবে কেন, মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা

Update Time : ০১:২৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশের জন্য নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ শতাংশ করেছে। এর আগে জুলাইয়ের পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছিল এডিবি। অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানেই পূর্বাভাসে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের পরিবর্তন এসেছে।

২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এডিবির ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’ বা এডিওর সেপ্টেম্বর হালনাগাদে বাংলাদেশের অর্থনীতির এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির মূল্যায়নে ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘস্থায়ী চাপ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করছে। জুলাইয়ের ADO-তে বাংলাদেশে FY2027 প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হয়েছিল।

আরও পড়ুন  কোরবানির পর থেকে ব্রয়লার মুরগির দাম কমছেই

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার পেছনে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে এডিবি। উচ্চ খেলাপি ঋণ, ব্যাংকের দুর্বল ব্যালান্স শিট এবং ঋণের তুলনামূলক বেশি সুদহারের কারণে বেসরকারি খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি কমাতে সরকারি সিকিউরিটিতে অর্থ বিনিয়োগের প্রবণতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

এডিবির পর্যবেক্ষণে শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, উৎপাদন ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামোগত বাধাও অর্থনীতির গতিকে প্রভাবিত করছে। এর সঙ্গে তীব্র জ্বালানি ঘাটতি যুক্ত হওয়ায় শিল্প ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন  গ্যাস সংকটে বন্ধ নিত্যপণ্যের কারখানা, বাড়ছে সরবরাহের শঙ্কা!

অন্যদিকে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়েও সতর্ক করেছে এডিবি। সেপ্টেম্বরের হালনাগাদ অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এর আগে জুলাইয়ের পূর্বাভাসে এই হার ৮ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়েছিল। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও শূন্য দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির এই পূর্বাভাস এমন সময়ে এসেছে, যখন এডিবি পুরো এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতেও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও সরবরাহগত ঝুঁকির প্রভাব দেখছে। সংস্থাটির সেপ্টেম্বরের আলোচনায় জ্বালানি সংকট, সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাবকে আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাত, জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি আগামী দিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন  আইএমএফের পূর্বাভাস, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.৫%