ঢাকা ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আট মাসের রেকর্ড ভেঙে স্বস্তির পথে মূল্যস্ফীতি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৫৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে। | ছবি: সংগৃহীত

মূল্যস্ফীতি কমে জুলাইয়ে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে এই হার আগের মাস জুনের ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমেছে। এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কমেছে ০ দশমিক ৮৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। জুলাইয়ের এই হার গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম। জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে, যেখানে জুনে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও কিছুটা কমেছে। জুনে এই খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। জুলাইয়ে তা কমে ৯ দশমিক ২৮ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিতে কমেছে ০ দশমিক ৩৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে এই হার এখনো ৯ শতাংশের ওপরে থাকায় সাধারণ মানুষের ব্যয়ের ওপর চাপ পুরোপুরি কমেনি।

বিবিএসের তথ্য বলছে, জুলাইয়ের ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন হলেও এটিকে দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত। কারণ মূল্যস্ফীতির হার কমার অর্থ বাজারে পণ্যের দাম কমে গেছে—এমন নয়। বরং আগের বছরের তুলনায় দাম যে হারে বেড়েছে, সেই বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। ফলে সাধারণ ভোক্তার জন্য বাজারদরের চাপ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

তথ্য যাচাইয়ে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ ছিল—এ তথ্যটি সঠিক নয়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিবিএসের সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। তাই জুলাইয়ের ৮ দশমিক ৩২ শতাংশকে আট মাসের সর্বনিম্ন বলা ঠিক হলেও নভেম্বর ২০২৫-এর সঙ্গে তুলনা করার সময় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশের সংশোধিত তথ্য ব্যবহার করা উচিত।

সব মিলিয়ে জুলাইয়ের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে নামায় সার্বিক মূল্যস্ফীতিতেও বড় প্রভাব পড়েছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৮ শতাংশে থাকায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো চ্যালেঞ্জের মধ্যেই রয়েছে। তাই আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি আরও কমে কি না, সেটিই হবে অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

আট মাসের রেকর্ড ভেঙে স্বস্তির পথে মূল্যস্ফীতি

Update Time : ০৯:৫৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

মূল্যস্ফীতি কমে জুলাইয়ে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে এই হার আগের মাস জুনের ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমেছে। এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি কমেছে ০ দশমিক ৮৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। জুলাইয়ের এই হার গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম। জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে, যেখানে জুনে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

আরও পড়ুন  জাল নোট আইন ২০২৬, নিজের কাছে রাখলেও হতে পারে ৭ বছরের কারাদণ্ড

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও কিছুটা কমেছে। জুনে এই খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। জুলাইয়ে তা কমে ৯ দশমিক ২৮ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিতে কমেছে ০ দশমিক ৩৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে এই হার এখনো ৯ শতাংশের ওপরে থাকায় সাধারণ মানুষের ব্যয়ের ওপর চাপ পুরোপুরি কমেনি।

বিবিএসের তথ্য বলছে, জুলাইয়ের ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন হলেও এটিকে দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত। কারণ মূল্যস্ফীতির হার কমার অর্থ বাজারে পণ্যের দাম কমে গেছে—এমন নয়। বরং আগের বছরের তুলনায় দাম যে হারে বেড়েছে, সেই বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। ফলে সাধারণ ভোক্তার জন্য বাজারদরের চাপ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

আরও পড়ুন  করমুক্ত আয় বাড়লেও বাড়ছে করের হার, উদ্বেগে চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্ত

তথ্য যাচাইয়ে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ ছিল—এ তথ্যটি সঠিক নয়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিবিএসের সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। তাই জুলাইয়ের ৮ দশমিক ৩২ শতাংশকে আট মাসের সর্বনিম্ন বলা ঠিক হলেও নভেম্বর ২০২৫-এর সঙ্গে তুলনা করার সময় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশের সংশোধিত তথ্য ব্যবহার করা উচিত।

আরও পড়ুন  রিহ্যাবের আবাসন মেলা স্থগিত: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অনিশ্চয়তায় এজিএম

সব মিলিয়ে জুলাইয়ের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে নামায় সার্বিক মূল্যস্ফীতিতেও বড় প্রভাব পড়েছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৮ শতাংশে থাকায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো চ্যালেঞ্জের মধ্যেই রয়েছে। তাই আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি আরও কমে কি না, সেটিই হবে অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।