ট্রেন চুরি ঠেকাতে কুড়িগ্রামে অভিযান চালিয়ে আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রীদের মালামাল হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পার্বতীপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, যাত্রীরা ট্রেনে ওঠার ব্যস্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র কৃত্রিম ব্লকেড তৈরি করে চুরি ও ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছিল। গ্রেফতারদের মধ্যে কথিত চক্রের মূল হোতাও রয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে রেলযাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেসে যাত্রীরা ওঠার সময় সন্দেহজনকভাবে ভিড় ও কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করা হয়। এ সময় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেনে ওঠার সময় যাত্রীদের মনোযোগ যখন ব্যাগ, টিকিট ও আসন নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখনই চক্রটি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করত। এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ভাংনি দক্ষিণপাড়ার কেরামত আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (৫৯), গাইবান্ধা শহরের পুলিশ লাইন সংলগ্ন আদর্শপাড়ার সুরিং বিশ্বাসের ছেলে সুরুজ মিয়া (৪৮), কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার মন্ডলপাড়া গ্রামের রশিদ মিয়ার ছেলে লিটন রানা (৩০), একই উপজেলার তেলীপাড়া মেকুরটারী এলাকার কুব্বাত আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৪) এবং নড়াইল সদর উপজেলার ফুলসর পশ্চিমপাড়ার কুটি মিয়া মোল্লার ছেলে রুহুল আমিন (৫৯)।
পার্বতীপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রীদের লক্ষ্য করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করতেন। বিশেষ করে ট্রেনে ওঠা-নামার সময় তৈরি হওয়া ভিড়কে কাজে লাগানো ছিল তাদের কৌশলের অন্যতম অংশ। পুলিশ তাদের আন্তঃজেলা ছিনতাই ও কথিত ‘মলম পার্টি’র সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার ওসি মাহমুদ উন নবী জানান, যাত্রীদের ওঠার সময় কৃত্রিম ব্লকেড তৈরি করে মালামাল চুরির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতারদের দিনাজপুর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটনাটি তদন্ত করে চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রেলযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ব্যস্ত স্টেশন ও ট্রেনে ওঠার সময় বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি। অপরিচিত কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে পথ আটকে দিলে বা অস্বাভাবিক ভিড় তৈরি করলে নিজের ব্যাগ ও মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদে রাখা উচিত। সন্দেহজনক কোনো ঘটনা চোখে পড়লে দ্রুত রেলওয়ে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো যেতে পারে। ট্রেন চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে যাত্রীদের সচেতনতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ।


























