ইংরেজি শেখা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সহজ হওয়ার কথা। কারণ স্মার্টফোন, অনলাইন ডিকশনারি, ভিডিও, ভাষা শেখার অ্যাপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের হাতের কাছেই রয়েছে। কয়েক দশক আগে একটি শব্দের অর্থ বা সঠিক উচ্চারণ জানতে অভিধান খুঁজতে হতো। এখন কয়েক সেকেন্ডেই সেই তথ্য পাওয়া যায়। তারপরও অনেক শিক্ষার্থী ইংরেজিতে কথা বলা ও নিজের ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগে। প্রযুক্তির সুযোগ বাড়লেও ভাষা শেখার এই সমস্যাটি এখনো বড় হয়ে আছে।
এর অন্যতম কারণ হলো আমাদের ইংরেজি শেখা অনেকটাই পরীক্ষাকেন্দ্রিক। একটি ভাষা ভালোভাবে আয়ত্ত করতে শোনা, বলা, পড়া ও লেখা—এই চারটি দক্ষতার প্রয়োজন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে দীর্ঘদিন ধরে পড়া ও লেখার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য ব্যাকরণ, লিখিত উত্তর ও মুখস্থনির্ভর প্রস্তুতিতে বেশি সময় দেওয়া হয়। বাস্তব জীবনে ইংরেজিতে কথা বলা কিংবা ইংরেজি শুনে দ্রুত বোঝার অনুশীলন তুলনামূলকভাবে কম হয়। এতে পরীক্ষার ফল ভালো হলেও ব্যবহারিক ভাষাদক্ষতায় ঘাটতি থেকে যেতে পারে।
শ্রেণিকক্ষের পরিবেশও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রত্যেককে ইংরেজিতে কথা বলার সুযোগ দেওয়া কঠিন। অথচ ইংরেজি শেখা কার্যকর করতে নিয়মিত কথা বলা, প্রশ্ন করা, আলোচনা করা এবং ভুল করার সুযোগ থাকা দরকার। অনেক শিক্ষার্থী ভুল বললে সহপাঠীরা হাসবে—এই ভয়েও কথা বলতে চায় না। পাশাপাশি সব শিক্ষক আধুনিক ভাষা শিক্ষার পদ্ধতি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সমান সুযোগ পান না। ফলে বইয়ের পাঠ শেষ হলেও বাস্তব কথোপকথনের দক্ষতা তৈরি হতে সময় লাগে।
শুধু শ্রেণিকক্ষ নয়, শিক্ষা নীতির সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার দূরত্বও সমস্যাটিকে জটিল করে। ওপর থেকে নতুন পদ্ধতি বা নীতি তৈরি করা হলেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বাস্তবে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তা সব সময় যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। বড় ক্লাস, সীমিত প্রযুক্তি, শিক্ষকসংকট কিংবা প্রত্যন্ত এলাকার ভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিলে নতুন কোনো পদ্ধতি প্রত্যাশিত ফল নাও দিতে পারে। তাই ইংরেজি শেখা নিয়ে পরিকল্পনা করার সময় মাঠপর্যায়ের শিক্ষকদের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতি বদলাতে মূল্যায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে। ইংরেজি পরীক্ষায় শুধু লিখিত অংশের ওপর নির্ভর না করে শোনা ও বলার দক্ষতাকেও মূল্যায়নের আওতায় আনা যেতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা এবং ছোট ছোট গ্রুপে ভাষা চর্চার ব্যবস্থা করা দরকার। শিক্ষার্থীদের এমন পরিবেশ দিতে হবে, যেখানে ভুল করাকে ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে শেখার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এতে ধীরে ধীরে ইংরেজিতে কথা বলার ভয় কমতে পারে।
প্রযুক্তি একা সমস্যার সমাধান নয়। ইংরেজি শেখা সহজ করতে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ভিডিও, ডিজিটাল ডিকশনারি, ভাষা শেখার অ্যাপ ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারে। তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন, শ্রেণিকক্ষে কথোপকথনের সুযোগ এবং বাস্তবভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। এসব বিষয় একসঙ্গে উন্নত করা গেলে শিক্ষার্থীদের ইংরেজিভীতি কমিয়ে ব্যবহারিক ভাষাদক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।



























