তেলের দাম ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সোমবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সর্বশেষ বাজার তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের সেপ্টেম্বর ডেলিভারি চুক্তির দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০.১৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও বেড়ে ৮৪.২০ ডলারে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের কারণে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও সামনে এসেছে। যদিও এসব ঘটনার সব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবুও বাজারে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। অতীতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, লোডশেডিং বৃদ্ধি এবং ডলারের ওপর চাপের মতো পরিস্থিতিও দেখা গিয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে বৈশ্বিক তেলের মজুত তুলনামূলক কম থাকায় সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় বা হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন আরও ব্যাহত হয়, তাহলে আগামী দিনগুলোতে তেলের দাম ৯০ ডলার থেকে আরও ওপরে ওঠার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।



























