ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিশ্বকাপ ২০২৬ সেমিফাইনালের টিকিটের দাম কত? Logo ডে ট্রেডিং সুবিধা কি চালু হচ্ছে? বিএসইসির বড় সিদ্ধান্ত Logo মেসিকে নিয়ে আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিসর কোচ হোসাম হাসান Logo ‘সবাই একে অপরকে পিষছিল’: ব্যাংককের পানশালায় কান্নার সেই রাত! Logo ২৪ ঘণ্টা পর রাজশাহীতে বাস চলাচল শুরু Logo কেপ ভার্দের অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের আশাবাদী প্রতিবেদন Logo বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর প্রথম সেমিফাইনালে এমবাপ্পের ফ্রান্স ও ইয়ামালের স্পেন মুখোমুখি হচ্ছে Logo নকলায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের ৬ কর্মী গ্রেপ্তার Logo জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকারের পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে : সারজিস আলম Logo এয়ার ফ্রায়ারে রান্না কি পুষ্টিগুণ বজায় রাখে? জানুন সত্য

ফের উত্তপ্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর, পুলিশের গুলিতে নিহত ৬

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পুলিশের গুলিতে নিহত ৬।ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান-অধ্যুষিত কাশ্মীরে (পিওকে) আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে অন্তত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। নতুন করে প্রাণহানির ঘটনায় পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাওয়ালকোটের নিউ বাস টার্মিনাল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির সমর্থনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করছিলেন। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং শেষ পর্যন্ত গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং অনেকে আহত হন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুন থেকে চলমান আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। তবে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) দাবি করেছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ৪০ জনেরও বেশি। তাদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অনেক হতাহতের তথ্য সরকারি হিসাবের বাইরে রাখা হচ্ছে।

পাকিস্তান-অধ্যুষিত কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরেই নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য, বিদ্যুতের দাম এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে অসন্তোষ রয়েছে। এর আগে ২০২৩ ও ২০২৫ সালেও একই ধরনের দাবিতে বড় আন্দোলন হয়েছিল। বর্তমান আন্দোলন শুরু হয় ৯ জুন, যেখানে আন্দোলনকারীরা ৩৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  1. আটা, ময়দা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো।
  2. বিদ্যুতের দামে ভর্তুকি বৃদ্ধি।
  3. ভিআইপি প্রটোকল ও বিশেষ সুবিধা বাতিল।
  4. স্থানীয় জনগণের জন্য সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
  5. প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো।

আন্দোলনের সবচেয়ে আলোচিত দাবিগুলোর একটি হলো, আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কাশ্মীরের বাইরে বসবাসকারী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল করা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার কাশ্মীরের রাজনীতিতে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করছে। তাদের দাবি, এসব আসনের কারণে স্থানীয় জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দাবি বাস্তবায়নের পরিবর্তে পাকিস্তান সরকার কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছে। আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, ধরপাকড় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় সংগঠনের অভিযোগ, অঞ্চলটিতে খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি পণ্যের সরবরাহ সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ না করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধান এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।

এদিকে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলন দমনে নেওয়া পদক্ষেপকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের ন্যায্য দাবির পরিবর্তে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

পাকিস্তান-অধ্যুষিত কাশ্মীর (আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর) দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জনঅসন্তোষের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্চ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও বেকারত্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বর্তমান আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) নামে একটি অরাজনৈতিক নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই জোট শুরুতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো ও বিদ্যুতের ভর্তুকির দাবিতে আন্দোলন শুরু করলেও পরে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বসহ আরও কয়েকটি বিষয় তাদের দাবির তালিকায় যুক্ত হয়।

আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ৩৮ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—

  1. আটা, ময়দা, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো।
  2. বিদ্যুতের দামে ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং বিল কমানো।
  3. স্থানীয় জনগণের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি।
  4. ভিআইপি প্রটোকল ও সরকারি বিশেষ সুবিধা কমানো।
  5. সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
  6. কাশ্মীরের বাইরে থাকা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল।

আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সংরক্ষিত আসনের বর্তমান ব্যবস্থা স্থানীয় জনগণের ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্বকে প্রভাবিত করছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার বলছে, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, গণগ্রেপ্তার এবং বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা, আটক ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া এবং সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

চলমান উত্তেজনার কারণে রাওয়ালকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাকিস্তান সরকার আন্দোলনকে আইন-শৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের দাবিগুলো অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন সামনে রেখে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দ্রুত সংলাপ না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট ও জনঅসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে পাকিস্তান-অধ্যুষিত কাশ্মীরের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ ২০২৬ সেমিফাইনালের টিকিটের দাম কত?

ফের উত্তপ্ত পাক অধিকৃত কাশ্মীর, পুলিশের গুলিতে নিহত ৬

Update Time : ০৯:৪৫:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তান-অধ্যুষিত কাশ্মীরে (পিওকে) আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে অন্তত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। নতুন করে প্রাণহানির ঘটনায় পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাওয়ালকোটের নিউ বাস টার্মিনাল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির সমর্থনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করছিলেন। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং শেষ পর্যন্ত গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং অনেকে আহত হন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুন থেকে চলমান আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। তবে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) দাবি করেছে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ৪০ জনেরও বেশি। তাদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অনেক হতাহতের তথ্য সরকারি হিসাবের বাইরে রাখা হচ্ছে।

পাকিস্তান-অধ্যুষিত কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরেই নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য, বিদ্যুতের দাম এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে অসন্তোষ রয়েছে। এর আগে ২০২৩ ও ২০২৫ সালেও একই ধরনের দাবিতে বড় আন্দোলন হয়েছিল। বর্তমান আন্দোলন শুরু হয় ৯ জুন, যেখানে আন্দোলনকারীরা ৩৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  1. আটা, ময়দা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো।
  2. বিদ্যুতের দামে ভর্তুকি বৃদ্ধি।
  3. ভিআইপি প্রটোকল ও বিশেষ সুবিধা বাতিল।
  4. স্থানীয় জনগণের জন্য সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
  5. প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো।

আন্দোলনের সবচেয়ে আলোচিত দাবিগুলোর একটি হলো, আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কাশ্মীরের বাইরে বসবাসকারী কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল করা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার কাশ্মীরের রাজনীতিতে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করছে। তাদের দাবি, এসব আসনের কারণে স্থানীয় জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দাবি বাস্তবায়নের পরিবর্তে পাকিস্তান সরকার কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছে। আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, ধরপাকড় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় সংগঠনের অভিযোগ, অঞ্চলটিতে খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি পণ্যের সরবরাহ সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ না করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধান এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।

এদিকে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলন দমনে নেওয়া পদক্ষেপকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের ন্যায্য দাবির পরিবর্তে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

পাকিস্তান-অধ্যুষিত কাশ্মীর (আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর) দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জনঅসন্তোষের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্চ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও বেকারত্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বর্তমান আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) নামে একটি অরাজনৈতিক নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই জোট শুরুতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো ও বিদ্যুতের ভর্তুকির দাবিতে আন্দোলন শুরু করলেও পরে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বসহ আরও কয়েকটি বিষয় তাদের দাবির তালিকায় যুক্ত হয়।

আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ৩৮ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—

  1. আটা, ময়দা, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো।
  2. বিদ্যুতের দামে ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং বিল কমানো।
  3. স্থানীয় জনগণের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি।
  4. ভিআইপি প্রটোকল ও সরকারি বিশেষ সুবিধা কমানো।
  5. সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
  6. কাশ্মীরের বাইরে থাকা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল।

আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সংরক্ষিত আসনের বর্তমান ব্যবস্থা স্থানীয় জনগণের ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্বকে প্রভাবিত করছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার বলছে, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, গণগ্রেপ্তার এবং বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা, আটক ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া এবং সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

চলমান উত্তেজনার কারণে রাওয়ালকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাকিস্তান সরকার আন্দোলনকে আইন-শৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের দাবিগুলো অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন সামনে রেখে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দ্রুত সংলাপ না হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট ও জনঅসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে পাকিস্তান-অধ্যুষিত কাশ্মীরের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।