ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা আবার নেওয়ার ঘোষণা, দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর Logo শবনম ফারিয়া মন্তব্য: সাহসী দাবি, ‘খারাপ প্রস্তাব দেওয়ার সাহস পায়নি’ Logo ত্বকে চুলকানি? ঘরেই স্বস্তি পেতে জেনে নিন ১২ উপায় Logo এলফাতকে ‘মেসির প্রিয় রেফারি’ আখ্যা ব্রিটিশ গণমাধ্যম ও সমর্থকদের Logo মেসিকে থামানোর চ্যালেঞ্জ! ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার নিকো ও’রাইলির বিস্ফোরক বার্তা Logo চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার Logo বর্ষায় ছাদবাগানের যত্ন নেবেন যেভাবে, জানুন সহজ উপায় Logo হরমুজে ভারতীয় নাবিক নিহত, ইরানের কাছে দিল্লির প্রতিবাদ Logo নবীজি (সা.) যে ১০ শ্রেণির মানুষকে লানত করেছেন Logo সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, উত্তপ্ত পরিস্থিতি

গাজার পুলিশ স্টেশনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত ৭

ড্রোন হামলার পর ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার তৎপরতার একটি দৃশ্য।ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় একটি পুলিশ স্টেশন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুলিশ স্টেশনের পরিচালক, উপপরিচালক এবং আরও পাঁচজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য রয়েছেন। হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

গাজা সিটি থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, একটি ইসরায়েলি ড্রোন এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে পরপর চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশ স্টেশনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আশপাশের বাজার ও বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হামলার সময় নিহত পুলিশ সদস্যরা বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের একটি শিবিরসংলগ্ন বাজার এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছিলেন। হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধার করেন।

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোন হামলার কারণে আশপাশের কয়েকটি দোকান ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় অনেক মানুষ আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার ফলে প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে খাদ্য ও ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে, নিরাপত্তাহীনতা তীব্র হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের মধ্যে গাজার বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন, নিরাপত্তা কার্যালয় ও প্রশাসনিক অবকাঠামো একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। এসব হামলার ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকায় ক্ষমতার শূন্যতা আরও গভীর হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রায়ই দাবি করে যে তারা হামাসের সামরিক অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায়। তবে গাজার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো ও দায়িত্ব পালনরত সরকারি কর্মচারীরাও নিহত হচ্ছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর গাজায় হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার সতর্ক করে বলছে, অব্যাহত হামলা, খাদ্য সংকট, চিকিৎসাসেবার অভাব এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক মহল পুনরায় যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা আবার নেওয়ার ঘোষণা, দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর

গাজার পুলিশ স্টেশনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত ৭

Update Time : ০৭:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় একটি পুলিশ স্টেশন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুলিশ স্টেশনের পরিচালক, উপপরিচালক এবং আরও পাঁচজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য রয়েছেন। হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

গাজা সিটি থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, একটি ইসরায়েলি ড্রোন এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে পরপর চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশ স্টেশনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আশপাশের বাজার ও বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন  ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল বুর্কিনা ফাসো

হামলার সময় নিহত পুলিশ সদস্যরা বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের একটি শিবিরসংলগ্ন বাজার এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছিলেন। হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধার করেন।

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোন হামলার কারণে আশপাশের কয়েকটি দোকান ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় অনেক মানুষ আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার ফলে প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে খাদ্য ও ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে, নিরাপত্তাহীনতা তীব্র হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন  থালাপতি বিজয়ের শপথে নতুন ইতিহাস, তামিলনাড়ুতে জোট সরকার

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের মধ্যে গাজার বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন, নিরাপত্তা কার্যালয় ও প্রশাসনিক অবকাঠামো একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। এসব হামলার ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকায় ক্ষমতার শূন্যতা আরও গভীর হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রায়ই দাবি করে যে তারা হামাসের সামরিক অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায়। তবে গাজার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো ও দায়িত্ব পালনরত সরকারি কর্মচারীরাও নিহত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন  ১০০ কোটি ডলার প্রতারণা! ৩০ বছরের কারাদণ্ড পেলেন চীনা ধনকুবের

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর গাজায় হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার সতর্ক করে বলছে, অব্যাহত হামলা, খাদ্য সংকট, চিকিৎসাসেবার অভাব এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক মহল পুনরায় যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে।