ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় একটি পুলিশ স্টেশন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পুলিশ স্টেশনের পরিচালক, উপপরিচালক এবং আরও পাঁচজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য রয়েছেন। হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
গাজা সিটি থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, একটি ইসরায়েলি ড্রোন এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে পরপর চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশ স্টেশনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আশপাশের বাজার ও বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার সময় নিহত পুলিশ সদস্যরা বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের একটি শিবিরসংলগ্ন বাজার এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছিলেন। হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধার করেন।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোন হামলার কারণে আশপাশের কয়েকটি দোকান ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় অনেক মানুষ আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার ফলে প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে খাদ্য ও ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে, নিরাপত্তাহীনতা তীব্র হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের মধ্যে গাজার বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন, নিরাপত্তা কার্যালয় ও প্রশাসনিক অবকাঠামো একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। এসব হামলার ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকায় ক্ষমতার শূন্যতা আরও গভীর হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রায়ই দাবি করে যে তারা হামাসের সামরিক অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায়। তবে গাজার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো ও দায়িত্ব পালনরত সরকারি কর্মচারীরাও নিহত হচ্ছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর গাজায় হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার সতর্ক করে বলছে, অব্যাহত হামলা, খাদ্য সংকট, চিকিৎসাসেবার অভাব এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক মহল পুনরায় যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে।



























