ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে রংপুরে কফিন মিছিল, বিক্ষোভে ছাত্রশক্তি Logo অফিসে অনবরত হাই উঠছে? মুহূর্তেই চাঙা হওয়ার উপায় Logo ফরাসি নারীদের সুন্দর চুলের গোপন ৫ রহস্য জানুন Logo কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়েছে, সর্বোচ্চ উৎপাদনে বিদ্যুৎ কেন্দ্র Logo বিদেশে উচ্চশিক্ষায় একাকিত্ব? ভয় কাটানোর কার্যকর উপায় Logo দেশি নাকি ফার্মের মুরগি? পুষ্টিগুণে কোনটি এগিয়ে Logo পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা আবার নেওয়ার ঘোষণা, দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর Logo শবনম ফারিয়া মন্তব্য: সাহসী দাবি, ‘খারাপ প্রস্তাব দেওয়ার সাহস পায়নি’ Logo ত্বকে চুলকানি? ঘরেই স্বস্তি পেতে জেনে নিন ১২ উপায় Logo এলফাতকে ‘মেসির প্রিয় রেফারি’ আখ্যা ব্রিটিশ গণমাধ্যম ও সমর্থকদের

নবীজি (সা.) যে ১০ শ্রেণির মানুষকে লানত করেছেন

কোরআন-হাদিস অনুসারে জীবন পরিচালনার আহ্বান। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে মানুষের সফলতার মূল ভিত্তি হলো ঈমান ও নেক আমল। পার্থিব জীবনকে মহান আল্লাহ একটি পরীক্ষা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এই পরীক্ষায় যারা আল্লাহর আদেশ মেনে চলবে, হারাম থেকে বিরত থাকবে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করবে, তারাই পরকালে সফল হবে। অন্যদিকে, গুনাহ ও হারাম কাজে জড়িয়ে পড়লে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার সতর্কবার্তা এসেছে কোরআন ও হাদিসে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন,

আমি পৃথিবীর ওপর যা কিছু আছে, তা তার শোভা হিসেবে সৃষ্টি করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি—তাদের মধ্যে কে উত্তম আমল করে।
(সুরা আল-কাহফ: ৭)

এছাড়া জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে আল্লাহ বলেন,

যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত হবে।
(সুরা আল-বাকারা: ২৫)

আরও ইরশাদ হয়েছে,

যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী; সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
(সুরা আল-বাকারা: ৮২)

ইসলামে মাদকদ্রব্য, বিশেষ করে মদ সম্পূর্ণ হারাম। শুধু পান করাই নয়, মদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকাও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কারণ, মদ মানুষের বিবেক নষ্ট করে, অপরাধ প্রবণতা বাড়ায়, পরিবার ও সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,

হে ঈমানদারগণ! মদ, জুয়া, মূর্তি এবং ভাগ্য নির্ধারণের শরগুলো শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাক, যাতে সফল হতে পারো।
(সুরা আল-মায়িদা: ৯০)

হজরত আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ শ্রেণির মানুষের ওপর লানত (অভিশাপ) করেছেন। তারা হলেন—

১. মদ প্রস্তুতকারী।
২. যে মদ প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেয়।
৩. মদ পানকারী।
৪. মদ বহনকারী।
৫. যার জন্য মদ বহন করা হয়।
৬. যে অন্যকে মদ পান করায়।
৭. মদ বিক্রেতা।
৮. মদ বিক্রি করে যে অর্থ গ্রহণ করে।
৯. যে মদ ক্রয় করে।
১০. যার জন্য মদ ক্রয় করা হয়।

(সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ১২৯৮)

এই হাদিসের মাধ্যমে ইসলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি শিক্ষা দিয়েছে। শুধু হারাম কাজ করা নয়, সেই কাজকে সহযোগিতা করা, অর্থায়ন করা, পরিবহন করা, বিক্রি করা বা অন্যকে সুযোগ করে দেওয়াও সমানভাবে গুনাহের কাজ। অর্থাৎ মদের পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকেই ইসলাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সবকিছুর জন্য ধ্বংস ডেকে আনে। এটি মানুষের চিন্তাশক্তি ও বিবেককে নষ্ট করে, অপরাধ বৃদ্ধি করে এবং নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হয়। তাই ইসলাম শুরু থেকেই মদ ও সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

একজন মুসলমানের উচিত—

  1. হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকা।
  2. মদ ও সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য বর্জন করা।
  3. হারাম কাজে কাউকে সহযোগিতা না করা।
  4. আল্লাহর কাছে তাওবা করা এবং নেক আমল বৃদ্ধি করা।
  5. কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।

পরকালের সফলতা অর্জনের জন্য শুধু ইবাদত করাই যথেষ্ট নয়; হারাম ও গুনাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) যে ১০ শ্রেণির মানুষকে মদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে লানত করেছেন, তা ইসলামে মদের ভয়াবহতা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তাই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য প্রত্যেক মুসলমানের উচিত আল্লাহর বিধান মেনে চলা এবং সব ধরনের হারাম কাজ থেকে নিজেকে রক্ষা করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে রংপুরে কফিন মিছিল, বিক্ষোভে ছাত্রশক্তি

নবীজি (সা.) যে ১০ শ্রেণির মানুষকে লানত করেছেন

Update Time : ০৭:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ইসলামে মানুষের সফলতার মূল ভিত্তি হলো ঈমান ও নেক আমল। পার্থিব জীবনকে মহান আল্লাহ একটি পরীক্ষা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এই পরীক্ষায় যারা আল্লাহর আদেশ মেনে চলবে, হারাম থেকে বিরত থাকবে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করবে, তারাই পরকালে সফল হবে। অন্যদিকে, গুনাহ ও হারাম কাজে জড়িয়ে পড়লে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার সতর্কবার্তা এসেছে কোরআন ও হাদিসে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন,

আমি পৃথিবীর ওপর যা কিছু আছে, তা তার শোভা হিসেবে সৃষ্টি করেছি, যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি—তাদের মধ্যে কে উত্তম আমল করে।
(সুরা আল-কাহফ: ৭)

এছাড়া জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে আল্লাহ বলেন,

যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত হবে।
(সুরা আল-বাকারা: ২৫)

আরও ইরশাদ হয়েছে,

যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী; সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
(সুরা আল-বাকারা: ৮২)

ইসলামে মাদকদ্রব্য, বিশেষ করে মদ সম্পূর্ণ হারাম। শুধু পান করাই নয়, মদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকাও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কারণ, মদ মানুষের বিবেক নষ্ট করে, অপরাধ প্রবণতা বাড়ায়, পরিবার ও সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন  বৃষ্টির সময় যে দোয়া পড়বেন, জেনে নিন সুন্নাহর আমল

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,

হে ঈমানদারগণ! মদ, জুয়া, মূর্তি এবং ভাগ্য নির্ধারণের শরগুলো শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাক, যাতে সফল হতে পারো।
(সুরা আল-মায়িদা: ৯০)

হজরত আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ শ্রেণির মানুষের ওপর লানত (অভিশাপ) করেছেন। তারা হলেন—

১. মদ প্রস্তুতকারী।
২. যে মদ প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেয়।
৩. মদ পানকারী।
৪. মদ বহনকারী।
৫. যার জন্য মদ বহন করা হয়।
৬. যে অন্যকে মদ পান করায়।
৭. মদ বিক্রেতা।
৮. মদ বিক্রি করে যে অর্থ গ্রহণ করে।
৯. যে মদ ক্রয় করে।
১০. যার জন্য মদ ক্রয় করা হয়।

আরও পড়ুন  আশুরা নিয়ে প্রচলিত ১১ ভুল ধারণা ও ইসলামের সঠিক দিকনির্দেশনা

(সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ১২৯৮)

এই হাদিসের মাধ্যমে ইসলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি শিক্ষা দিয়েছে। শুধু হারাম কাজ করা নয়, সেই কাজকে সহযোগিতা করা, অর্থায়ন করা, পরিবহন করা, বিক্রি করা বা অন্যকে সুযোগ করে দেওয়াও সমানভাবে গুনাহের কাজ। অর্থাৎ মদের পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকেই ইসলাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সবকিছুর জন্য ধ্বংস ডেকে আনে। এটি মানুষের চিন্তাশক্তি ও বিবেককে নষ্ট করে, অপরাধ বৃদ্ধি করে এবং নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হয়। তাই ইসলাম শুরু থেকেই মদ ও সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন  ইসলামে উৎসাহিত খেলাধুলা: সুস্থতা, দক্ষতা ও আত্মরক্ষার শিক্ষা

একজন মুসলমানের উচিত—

  1. হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকা।
  2. মদ ও সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য বর্জন করা।
  3. হারাম কাজে কাউকে সহযোগিতা না করা।
  4. আল্লাহর কাছে তাওবা করা এবং নেক আমল বৃদ্ধি করা।
  5. কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।

পরকালের সফলতা অর্জনের জন্য শুধু ইবাদত করাই যথেষ্ট নয়; হারাম ও গুনাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) যে ১০ শ্রেণির মানুষকে মদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে লানত করেছেন, তা ইসলামে মদের ভয়াবহতা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তাই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য প্রত্যেক মুসলমানের উচিত আল্লাহর বিধান মেনে চলা এবং সব ধরনের হারাম কাজ থেকে নিজেকে রক্ষা করা।