ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজে নতুন নৌপথে ইরান-ওমানের ঐকমত্য

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:৩৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২১

হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নিয়ে সমঝোতার পথে ইরান ও ওমান। ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন একটি নৌপথ নির্ধারণে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছেছে। দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে যৌথ ব্যবস্থাপনার খসড়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইরানের দাবি, তৃতীয় কোনো পক্ষের বাধা না এলে শিগগিরই একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে সমঝোতার মূল বিষয়গুলো প্রকাশ করা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ উপস্থিতি ও অবরোধ পরিস্থিতি এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নতুন নৌপথের কাঠামো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে এবং যৌথ বিবৃতির খসড়া বর্তমানে পর্যালোচনায় রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত কোনো জটিলতা তৈরি না হলে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে। তবে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন ইসমাইল বাঘাই। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং ধারাবাহিক হুমকিমূলক অবস্থানের কারণে এই জলপথ এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। ফলে নতুন সমঝোতা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি কীভাবে এগোবে, তা অনেকটাই আঞ্চলিক উত্তেজনার ওপর নির্ভর করবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক বেশি। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে যেত। তবে সংঘাতের পর থেকে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ চলাচল নিয়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

হরমুজ প্রণালির উত্তর অংশ ইরানের উপকূল এবং দক্ষিণ অংশ ওমানের উপকূল ঘেঁষে অবস্থিত। গত সপ্তাহে ওমান একটি প্রস্তাব দেয়, যেখানে মালাক্কা প্রণালির আদলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেবা ফি আদায়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাশাপাশি প্রণালির নৌপথ দুই দেশের মধ্যে ভাগ করে পরিচালনার প্রস্তাবও রাখা হয়। তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে ইরান নিজস্ব একটি বিকল্প পরিকল্পনা তুলে ধরে।

এরপর দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা শুরু হয়। মঙ্গলবারও ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছিলেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে। একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ওমান-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়টি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছিলেন, তেহরান হরমুজ ইস্যুতে একটি সমঝোতায় আগ্রহ দেখিয়েছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনার পুরো প্রক্রিয়া দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, সমঝোতা অনুযায়ী নতুন নৌপথের বড় অংশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে যাবে এবং একটি অংশ ওমানের জলসীমা অতিক্রম করবে। প্রাথমিকভাবে এই ব্যবস্থা দুই থেকে চার মাস কার্যকর রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এদিকে তেহরানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আলী আকবর দারেইনি আল-জাজিরাকে বলেন, ওমানের সঙ্গে এই সমঝোতা ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অর্জন। তাঁর মতে, তেহরানের লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা। তবে একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

হরমুজে নতুন নৌপথে ইরান-ওমানের ঐকমত্য

Update Time : ০৪:৩৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন একটি নৌপথ নির্ধারণে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছেছে। দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে যৌথ ব্যবস্থাপনার খসড়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইরানের দাবি, তৃতীয় কোনো পক্ষের বাধা না এলে শিগগিরই একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে সমঝোতার মূল বিষয়গুলো প্রকাশ করা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ উপস্থিতি ও অবরোধ পরিস্থিতি এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নতুন নৌপথের কাঠামো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে এবং যৌথ বিবৃতির খসড়া বর্তমানে পর্যালোচনায় রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত কোনো জটিলতা তৈরি না হলে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে। তবে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

আরও পড়ুন  ইরান যুদ্ধের প্রভাব: জ্বালানি সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি নড়বড়ে, কী হতে পারে ভবিষ্যৎ?

একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন ইসমাইল বাঘাই। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং ধারাবাহিক হুমকিমূলক অবস্থানের কারণে এই জলপথ এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। ফলে নতুন সমঝোতা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি কীভাবে এগোবে, তা অনেকটাই আঞ্চলিক উত্তেজনার ওপর নির্ভর করবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অনেক বেশি। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে যেত। তবে সংঘাতের পর থেকে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ চলাচল নিয়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুন  শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের যমুনায় আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

হরমুজ প্রণালির উত্তর অংশ ইরানের উপকূল এবং দক্ষিণ অংশ ওমানের উপকূল ঘেঁষে অবস্থিত। গত সপ্তাহে ওমান একটি প্রস্তাব দেয়, যেখানে মালাক্কা প্রণালির আদলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেবা ফি আদায়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাশাপাশি প্রণালির নৌপথ দুই দেশের মধ্যে ভাগ করে পরিচালনার প্রস্তাবও রাখা হয়। তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে ইরান নিজস্ব একটি বিকল্প পরিকল্পনা তুলে ধরে।

এরপর দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা শুরু হয়। মঙ্গলবারও ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছিলেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে। একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও ওমান-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়টি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছিলেন, তেহরান হরমুজ ইস্যুতে একটি সমঝোতায় আগ্রহ দেখিয়েছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনার পুরো প্রক্রিয়া দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

আরও পড়ুন  বড় ঘোষণা: বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকারে সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি | ডাবল ইঞ্জিন সরকার

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, সমঝোতা অনুযায়ী নতুন নৌপথের বড় অংশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে যাবে এবং একটি অংশ ওমানের জলসীমা অতিক্রম করবে। প্রাথমিকভাবে এই ব্যবস্থা দুই থেকে চার মাস কার্যকর রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এদিকে তেহরানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আলী আকবর দারেইনি আল-জাজিরাকে বলেন, ওমানের সঙ্গে এই সমঝোতা ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অর্জন। তাঁর মতে, তেহরানের লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা। তবে একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।