ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

চোখে ছানি? অস্ত্রোপচারই কি একমাত্র চিকিৎসা, জানুন সত্য

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৫

চোখের ছানির কার্যকর চিকিৎসা হলো সময়মতো অস্ত্রোপচার। আধুনিক পদ্ধতিতে কৃত্রিম লেন্স প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগীর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

চোখে ছানি পড়লে কি ওষুধেই চিকিৎসা সম্ভব, নাকি অস্ত্রোপচারই একমাত্র সমাধান—এ প্রশ্ন অনেকেরই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছানির কোনো কার্যকর ওষুধ নেই। একবার চোখের স্বচ্ছ লেন্স অস্বচ্ছ হয়ে গেলে তা আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব নয়। তাই সময়মতো অস্ত্রোপচারই ছানির একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা। চিকিৎসায় দেরি হলে চোখের স্থায়ী ক্ষতি এমনকি দৃষ্টিশক্তিও হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশে প্রায় ৭ লাখ মানুষ অন্ধত্ব নিয়ে জীবনযাপন করছেন, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশের অন্ধত্বের প্রধান কারণ ছানি। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ছানির ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। আমাদের চোখে একটি স্বচ্ছ প্রাকৃতিক লেন্স থাকে, যা আলোকে রেটিনায় পৌঁছে দেয়। এই লেন্স ধীরে ধীরে অস্বচ্ছ হয়ে গেলে আলো ঠিকভাবে প্রবেশ করতে পারে না, ফলে ঝাপসা দেখা শুরু হয়। এ অবস্থাকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ছানি বলা হয়।

চিকিৎসকদের মতে, শুধু বয়স নয়, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, চোখে আঘাত, জন্মগত সমস্যা এবং কিছু হরমোনজনিত রোগ থেকেও ছানি হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘদিন স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ সেবন, ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ, চোখের দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ, অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে কাজ করা এবং ভিটামিনের ঘাটতিও ছানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ওয়েল্ডিং বা বিকিরণযুক্ত পরিবেশে কর্মরত ব্যক্তিদেরও এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ছানির সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো ঝাপসা দেখা। অনেক রোগী আলোর চারপাশে রংধনুর মতো বৃত্ত দেখতে পান। কারও কারও চোখে অতিরিক্ত পানি আসে অথবা একটি বস্তুকে দুটি দেখা যায়। দীর্ঘদিন চশমা ব্যবহারকারীদের মধ্যে হঠাৎ চশমা ছাড়াই কাছের লেখা পরিষ্কার দেখার অনুভূতিও ছানির একটি লক্ষণ হতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ছানির চিকিৎসায় কোনো ড্রপ বা ওষুধ স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। সময়মতো অস্ত্রোপচার না করলে ছানি অতিরিক্ত পরিণত হয়ে লেন্সের ক্যাপসুল ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এতে চোখের চাপ বেড়ে তীব্র ব্যথা, প্রদাহ এবং স্থায়ী দৃষ্টিহানির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে লেন্স ফুলে গিয়ে আরও বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

বর্তমানে ছানির অস্ত্রোপচার অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অস্বচ্ছ লেন্স অপসারণ করে সেখানে কৃত্রিম স্বচ্ছ লেন্স প্রতিস্থাপন করা হয়। যদি চোখের রেটিনা বা ভিট্রিয়াসে অন্য কোনো জটিলতা না থাকে, তাহলে অধিকাংশ রোগীর দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে ফিরে আসে। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি অল্প সময়েই সম্পন্ন করা সম্ভব।

বর্তমানে এসআইসিএস (SICS) এবং ফ্যাকো ইমালসিফিকেশন (Phacoemulsification) পদ্ধতিতে ছানির অস্ত্রোপচার সবচেয়ে বেশি করা হয়। এসআইসিএস পদ্ধতিতে ছোট একটি কাটা দিয়ে ছানি অপসারণ করা হয়, আর ফ্যাকো পদ্ধতিতে আরও ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে বিশেষ মেশিন ব্যবহার করে লেন্স অপসারণ ও কৃত্রিম লেন্স বসানো হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, নিরাপদ ও সফল ফলাফলের জন্য অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে সময়মতো অস্ত্রোপচার করানোই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান|

ওজন কমাতে চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্সসিড না ইসবগুল?

চোখে ছানি? অস্ত্রোপচারই কি একমাত্র চিকিৎসা, জানুন সত্য

Update Time : ১১:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

চোখে ছানি পড়লে কি ওষুধেই চিকিৎসা সম্ভব, নাকি অস্ত্রোপচারই একমাত্র সমাধান—এ প্রশ্ন অনেকেরই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছানির কোনো কার্যকর ওষুধ নেই। একবার চোখের স্বচ্ছ লেন্স অস্বচ্ছ হয়ে গেলে তা আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব নয়। তাই সময়মতো অস্ত্রোপচারই ছানির একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা। চিকিৎসায় দেরি হলে চোখের স্থায়ী ক্ষতি এমনকি দৃষ্টিশক্তিও হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশে প্রায় ৭ লাখ মানুষ অন্ধত্ব নিয়ে জীবনযাপন করছেন, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশের অন্ধত্বের প্রধান কারণ ছানি। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ছানির ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। আমাদের চোখে একটি স্বচ্ছ প্রাকৃতিক লেন্স থাকে, যা আলোকে রেটিনায় পৌঁছে দেয়। এই লেন্স ধীরে ধীরে অস্বচ্ছ হয়ে গেলে আলো ঠিকভাবে প্রবেশ করতে পারে না, ফলে ঝাপসা দেখা শুরু হয়। এ অবস্থাকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ছানি বলা হয়।

আরও পড়ুন  কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো কলা চিনবেন যেভাবে

চিকিৎসকদের মতে, শুধু বয়স নয়, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, চোখে আঘাত, জন্মগত সমস্যা এবং কিছু হরমোনজনিত রোগ থেকেও ছানি হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘদিন স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ সেবন, ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ, চোখের দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ, অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে কাজ করা এবং ভিটামিনের ঘাটতিও ছানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ওয়েল্ডিং বা বিকিরণযুক্ত পরিবেশে কর্মরত ব্যক্তিদেরও এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ছানির সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো ঝাপসা দেখা। অনেক রোগী আলোর চারপাশে রংধনুর মতো বৃত্ত দেখতে পান। কারও কারও চোখে অতিরিক্ত পানি আসে অথবা একটি বস্তুকে দুটি দেখা যায়। দীর্ঘদিন চশমা ব্যবহারকারীদের মধ্যে হঠাৎ চশমা ছাড়াই কাছের লেখা পরিষ্কার দেখার অনুভূতিও ছানির একটি লক্ষণ হতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন  আলু বেশি খেলে হতে পারে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ছানির চিকিৎসায় কোনো ড্রপ বা ওষুধ স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। সময়মতো অস্ত্রোপচার না করলে ছানি অতিরিক্ত পরিণত হয়ে লেন্সের ক্যাপসুল ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এতে চোখের চাপ বেড়ে তীব্র ব্যথা, প্রদাহ এবং স্থায়ী দৃষ্টিহানির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে লেন্স ফুলে গিয়ে আরও বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

বর্তমানে ছানির অস্ত্রোপচার অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অস্বচ্ছ লেন্স অপসারণ করে সেখানে কৃত্রিম স্বচ্ছ লেন্স প্রতিস্থাপন করা হয়। যদি চোখের রেটিনা বা ভিট্রিয়াসে অন্য কোনো জটিলতা না থাকে, তাহলে অধিকাংশ রোগীর দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে ফিরে আসে। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি অল্প সময়েই সম্পন্ন করা সম্ভব।

আরও পড়ুন  ধূমপান ছাড়ার ৪ সহজ উপায়, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বর্তমানে এসআইসিএস (SICS) এবং ফ্যাকো ইমালসিফিকেশন (Phacoemulsification) পদ্ধতিতে ছানির অস্ত্রোপচার সবচেয়ে বেশি করা হয়। এসআইসিএস পদ্ধতিতে ছোট একটি কাটা দিয়ে ছানি অপসারণ করা হয়, আর ফ্যাকো পদ্ধতিতে আরও ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে বিশেষ মেশিন ব্যবহার করে লেন্স অপসারণ ও কৃত্রিম লেন্স বসানো হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, নিরাপদ ও সফল ফলাফলের জন্য অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে সময়মতো অস্ত্রোপচার করানোই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান|