মঞ্জুর অভিযোগ বিএনপি—এই বক্তব্যকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর দাবি, একসময় আপসহীন রাজনীতির পরিচয় দেওয়া বিএনপি এখন আপসকামী অবস্থান নিয়ে জনগণের রায়কে উপেক্ষা করছে। বুধবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত ১১–দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সমাবেশটি আয়োজন করা হয় জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মঞ্জু বলেন, আগে মানুষ আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া ও আপসহীন বিএনপিকে চিনত। কিন্তু বর্তমান বিএনপির অবস্থান আগের সেই রাজনৈতিক অবস্থান থেকে ভিন্ন বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে দলটির বর্তমান অবস্থানের মিল পাওয়া যাচ্ছে না।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টানেন। তাঁর মতে, অতীতে যেভাবে ছাত্রদল ও যুবদলকে দেখা হতো, বর্তমান পরিস্থিতি তার থেকে অনেকটাই আলাদা। যৌথ নেতৃত্ব নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যারা একসময় অন্যদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করত, এখন তাদের মধ্যেই সেই একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
গণভোটের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যদি একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া হয়, তাহলে গণভোটের ফলাফল কেন বাস্তবায়ন করা হবে না? তাঁর মতে, জনগণের দেওয়া রায়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব।
মঞ্জু আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে হরতাল, অবরোধ ও ঘেরাও দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের প্রধান মাধ্যম ছিল। তবে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান দেখিয়ে দিয়েছে, আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়াও জনগণের অংশগ্রহণে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি এটিকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নতুন বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি ৫ আগস্টকে মুক্তি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জুলাইয়ের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দ্রুত গণভোটের রায় কার্যকর করার আহ্বান জানান। তাঁর এই বক্তব্য ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটিই হবে পরবর্তী সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।



























