সাকিবের দেশে ফেরা নিয়ে আবারও সরগরম বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গন। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরতে চান জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দেশের মাটিতে নিজের বিদায়ী সিরিজ খেলা এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। তবে তার এমন বক্তব্যের পর সরকারের পক্ষ থেকে এসেছে কঠোর প্রতিক্রিয়া।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে বাংলাদেশে ফিরতে তার আপত্তি নেই। নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোকে তিনি ‘মিথ্যা’ বলেও দাবি করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে ফিরলে আদালতসহ যেকোনো আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত। সাকিবের এই অবস্থানের পর তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাকিবের দেশে ফেরা নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অবশ্য ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সাকিবকে নিয়ে সরকারের আগের নমনীয় অবস্থানের আর কোনো সুযোগ নেই। তার ভাষ্য, সাকিব একজন ক্রিকেটার হিসেবে নিজের অবস্থান থেকে সরে গিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন। ফলে এখন তাকে শুধু একজন ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
আমিনুল হক আরও বলেন, এতদিন সরকার সাকিবের বিষয়টি একজন ক্রিকেটার হিসেবে দেখেছে এবং সে কারণে কিছুটা সহনশীল অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পর সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। দেশে ফিরলে সাকিবকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এতে তার দেশে ফেরার বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের পর থেকে দেশে ফেরেননি সাকিব। এরপর বিভিন্ন সময়ে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে তিনি বাংলাদেশে আসেননি। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর সাকিবকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা আবারও বাড়ে। এর মধ্যেই নিরাপত্তা পেলে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান তিনি।
দেশে ফিরতে পারলে নিজের ক্যারিয়ারের শেষটা বাংলাদেশের মাটিতে করতে চান সাকিব। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। একদিকে সাকিব আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতির কথা বলছেন, অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে তার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে সাকিবের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।


























