ঢাকা ১১:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স বাতিলের জোর দাবি

চিত্রঃ সংবাদ সম্মেলনে অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানায় সংগঠনটি

অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানিয়েছে মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে চালু হওয়া এই বিশেষ বিধানের মাধ্যমে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা এবং বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাই দ্রুত এই বিধান বাতিল করে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী নিয়োগ ব্যবস্থা কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। শনিবার রাজধানীর তোপখানা রোডে শিশু কল্যাণ পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদের সভাপতি কাজী ছাব্বীর।

 

তিনি বলেন, অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স প্রদান পদ্ধতি দেশে দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়োগ ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিদ্যমান মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা-২০০৯ অনুযায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন গ্রহণ এবং সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে গ্রহণযোগ্য এবং কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কাজী ছাব্বীরের দাবি, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একটি বিশেষ মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিধান চালু করেছিল।

 

তাদের অভিযোগ, তড়িঘড়ি করে বিশেষ বিধান জারি করে স্বল্প সময়ের মধ্যে শত শত অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সংগঠনটির নেতাদের মতে, অস্থায়ী লাইসেন্স প্রদান ব্যবস্থার কারণে অনেক স্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব ও অধিক্ষেত্র নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং একাধিক মামলার উদ্ভব হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স চালুর পর বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে এই লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। তবে বর্তমানে আবারও কিছু গোষ্ঠী এটি পুনরায় চালুর জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। নেতারা দাবি করেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তাদের মতে, অস্থায়ী নিয়োগ পদ্ধতি পুনরায় চালু হলে দেশের নিকাহ নিবন্ধন ব্যবস্থায় আবারও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে স্থায়ীভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

 

সংবাদ সম্মেলনে নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কেও প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য ন্যূনতম কামিল পাস শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা উচিত। এতে ধর্মীয়, সামাজিক এবং আইনি বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তিরা এই দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন। এছাড়া বাল্যবিবাহ এবং একাধিক বিবাহ প্রতিরোধে নতুন কিছু উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির মতে, কনের এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়কে কেন্দ্র করে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলে অনিয়ম কমে আসবে। একই সঙ্গে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের কল্যাণ সম্পর্কিত কয়েকটি দাবিও উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে অবসর গ্রহণের পর সরকারিভাবে এককালীন ৫০ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের দাবি অন্যতম। সংগঠনের নেতারা মনে করেন, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য একটি আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তারা আরও দাবি করেন, নিয়োগের সময় যে অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়, তা অবসর গ্রহণ পর্যন্ত বহাল রাখা উচিত। এতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাও সহজ হবে।

 

সংগঠনটির আরেকটি আলোচিত দাবি হলো উত্তরাধিকার ভিত্তিক লাইসেন্স প্রদানের সুযোগ বৃদ্ধি করা। বর্তমানে যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে পুত্র সন্তান নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে তারা এই বিধান সংশোধন করে সরাসরি পুত্র সন্তানকে নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স দেওয়ার জন্য আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের দায়িত্ব শুধু বিবাহ নিবন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা সমাজে আইনসম্মত বিবাহ নিশ্চিত করা, পারিবারিক বিরোধ কমানো এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই এই পেশার মর্যাদা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।

 

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং আইন সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী মেহেদী হাসান নোমান সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সংগঠনটির দাবি বাস্তবায়ন হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আইন ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘোমটা পরে ওমর সানীর বাসায় হাজির মৌসুমী, জানুন সেই দিনের গল্প

অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স বাতিলের জোর দাবি

Update Time : ০৮:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানিয়েছে মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে চালু হওয়া এই বিশেষ বিধানের মাধ্যমে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা এবং বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাই দ্রুত এই বিধান বাতিল করে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী নিয়োগ ব্যবস্থা কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। শনিবার রাজধানীর তোপখানা রোডে শিশু কল্যাণ পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদের সভাপতি কাজী ছাব্বীর।

 

তিনি বলেন, অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স প্রদান পদ্ধতি দেশে দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়োগ ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিদ্যমান মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা-২০০৯ অনুযায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন গ্রহণ এবং সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে গ্রহণযোগ্য এবং কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কাজী ছাব্বীরের দাবি, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একটি বিশেষ মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিধান চালু করেছিল।

 

তাদের অভিযোগ, তড়িঘড়ি করে বিশেষ বিধান জারি করে স্বল্প সময়ের মধ্যে শত শত অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সংগঠনটির নেতাদের মতে, অস্থায়ী লাইসেন্স প্রদান ব্যবস্থার কারণে অনেক স্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব ও অধিক্ষেত্র নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং একাধিক মামলার উদ্ভব হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

আরও পড়ুন  ডেঙ্গু হেমোরেজিক ঝুঁকি বাড়ছে, ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স চালুর পর বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে এই লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। তবে বর্তমানে আবারও কিছু গোষ্ঠী এটি পুনরায় চালুর জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। নেতারা দাবি করেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তাদের মতে, অস্থায়ী নিয়োগ পদ্ধতি পুনরায় চালু হলে দেশের নিকাহ নিবন্ধন ব্যবস্থায় আবারও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে স্থায়ীভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

 

সংবাদ সম্মেলনে নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কেও প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য ন্যূনতম কামিল পাস শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা উচিত। এতে ধর্মীয়, সামাজিক এবং আইনি বিষয়ে দক্ষ ব্যক্তিরা এই দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন। এছাড়া বাল্যবিবাহ এবং একাধিক বিবাহ প্রতিরোধে নতুন কিছু উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির মতে, কনের এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়কে কেন্দ্র করে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলে অনিয়ম কমে আসবে। একই সঙ্গে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুন  ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইল বাংলাদেশ সরকার

 

সংবাদ সম্মেলনে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের কল্যাণ সম্পর্কিত কয়েকটি দাবিও উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে অবসর গ্রহণের পর সরকারিভাবে এককালীন ৫০ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের দাবি অন্যতম। সংগঠনের নেতারা মনে করেন, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য একটি আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তারা আরও দাবি করেন, নিয়োগের সময় যে অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়, তা অবসর গ্রহণ পর্যন্ত বহাল রাখা উচিত। এতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাও সহজ হবে।

 

সংগঠনটির আরেকটি আলোচিত দাবি হলো উত্তরাধিকার ভিত্তিক লাইসেন্স প্রদানের সুযোগ বৃদ্ধি করা। বর্তমানে যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে পুত্র সন্তান নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে তারা এই বিধান সংশোধন করে সরাসরি পুত্র সন্তানকে নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স দেওয়ার জন্য আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের দায়িত্ব শুধু বিবাহ নিবন্ধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা সমাজে আইনসম্মত বিবাহ নিশ্চিত করা, পারিবারিক বিরোধ কমানো এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই এই পেশার মর্যাদা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।

আরও পড়ুন  চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে তরুণ নিহত, আহত ১

 

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং আইন সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী মেহেদী হাসান নোমান সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অস্থায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রার লাইসেন্স নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সংগঠনটির দাবি বাস্তবায়ন হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আইন ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।