ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল: পাসে স্পেন, শটে এগিয়ে ফ্রান্স

মুখোমুখি এমবাপ্পে-ইয়ামাল

স্পেনের কাছে বেলজিয়ামের হারের পরই নিশ্চিত হয়েছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ছন্দে থাকা দুই দল ফ্রান্স ও স্পেন এবার মুখোমুখি হচ্ছে শেষ চারের মহারণে। অনেকের মতে, এটি ফাইনালের আগেই আরেকটি ফাইনাল। এমনকি বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াও বলেছেন, এই ম্যাচের বিজয়ীই হতে পারে বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার।

মাঠের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বল দখল ও পাসিং ফুটবলে স্পেন কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, সেমিফাইনালে ওঠা দলগুলোর মধ্যে কেবল আর্জেন্টিনা স্পেনের চেয়ে বেশি পাস খেলেছে। প্রথম ছয় ম্যাচে স্পেন মোট ৪ হাজার ৭৫টি পাস সম্পন্ন করেছে। প্রতি ম্যাচে তাদের গড় পাসের সংখ্যা ৬৭৯.২।

অন্যদিকে ফ্রান্সের গড় পাস প্রতি ম্যাচে ৫৬১.৫টি, যা স্পেনের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ কম। তবে দুই দলের পাস সফলতার হারে খুব বেশি পার্থক্য নেই। স্পেনের পাস সফলতার হার ৯১ শতাংশ, যেখানে ফ্রান্সের হার ৯০ শতাংশ। ফলে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে স্পেন সামান্য এগিয়ে থাকলেও ফরাসিরাও খুব বেশি পিছিয়ে নেই।

তবে আক্রমণাত্মক কার্যকারিতার বিচারে এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দুই দলই সমান ১১০টি করে শট নিয়েছে। কিন্তু ফরাসিদের ১১০ শটের মধ্যে ৪৭টি ছিল লক্ষ্যে। সেই সুযোগগুলোর ১৬টিই তারা গোলে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছে, যা তাদের আক্রমণভাগের ধারালো অবস্থানকে স্পষ্ট করে।

স্পেনও আক্রমণে কম যায় না, তবে কার্যকারিতায় কিছুটা পিছিয়ে। তাদের ১১০ শটের মধ্যে ৪০টি ছিল লক্ষ্যে এবং সেখান থেকে এসেছে ১১ গোল। অর্থাৎ সুযোগ তৈরিতে দুই দল সমান হলেও গোল করার দক্ষতায় ফ্রান্স এগিয়ে রয়েছে। সেমিফাইনালের মতো বড় ম্যাচে এই পার্থক্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

দুই দলের আক্রমণ কৌশলেও রয়েছে ভিন্নতা। স্পেন উইং ব্যবহার করে বেশি আক্রমণ গড়ে তোলে এবং প্রতি ম্যাচে গড়ে ২৪.৩টি ক্রস করে। বিপরীতে ফ্রান্স তুলনামূলকভাবে সরাসরি আক্রমণে বিশ্বাসী। তারা প্রতি ম্যাচে গড়ে ১৬.৫টি ক্রস করে, যা স্পেনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

শৃঙ্খলার দিক থেকেও ফরাসিরা সামান্য এগিয়ে। দিদিয়ের দেশমের দল এখন পর্যন্ত ৫৯টি ফাউল করেছে, যা ম্যাচপ্রতি প্রায় ১০টি। অন্যদিকে স্পেন করেছে ৬৮টি ফাউল, অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড়ে ১১.৩টি। হলুদ কার্ডের হিসাবেও ফ্রান্স এগিয়ে, তাদের কার্ড সংখ্যা ৪টি, যেখানে স্পেন পেয়েছে ৫টি।

দুই দলের সাম্প্রতিক ইতিহাসও এই ম্যাচে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করছে। দুই বছর আগে ইউরোর সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল তারা। সেই ম্যাচে লামিন ইয়ামালের স্পেন ২-১ ব্যবধানে জয় পায় এবং পরে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জেতে। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই লড়াইয়ের নতুন অধ্যায় দেখতে মুখিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল: পাসে স্পেন, শটে এগিয়ে ফ্রান্স

Update Time : ০২:৪১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

স্পেনের কাছে বেলজিয়ামের হারের পরই নিশ্চিত হয়েছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ছন্দে থাকা দুই দল ফ্রান্স ও স্পেন এবার মুখোমুখি হচ্ছে শেষ চারের মহারণে। অনেকের মতে, এটি ফাইনালের আগেই আরেকটি ফাইনাল। এমনকি বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াও বলেছেন, এই ম্যাচের বিজয়ীই হতে পারে বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার।

মাঠের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বল দখল ও পাসিং ফুটবলে স্পেন কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, সেমিফাইনালে ওঠা দলগুলোর মধ্যে কেবল আর্জেন্টিনা স্পেনের চেয়ে বেশি পাস খেলেছে। প্রথম ছয় ম্যাচে স্পেন মোট ৪ হাজার ৭৫টি পাস সম্পন্ন করেছে। প্রতি ম্যাচে তাদের গড় পাসের সংখ্যা ৬৭৯.২।

আরও পড়ুন  জার্মানির রোমাঞ্চকর জয়, ১২ বছর পর নকআউট নিশ্চিত

অন্যদিকে ফ্রান্সের গড় পাস প্রতি ম্যাচে ৫৬১.৫টি, যা স্পেনের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ কম। তবে দুই দলের পাস সফলতার হারে খুব বেশি পার্থক্য নেই। স্পেনের পাস সফলতার হার ৯১ শতাংশ, যেখানে ফ্রান্সের হার ৯০ শতাংশ। ফলে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে স্পেন সামান্য এগিয়ে থাকলেও ফরাসিরাও খুব বেশি পিছিয়ে নেই।

তবে আক্রমণাত্মক কার্যকারিতার বিচারে এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দুই দলই সমান ১১০টি করে শট নিয়েছে। কিন্তু ফরাসিদের ১১০ শটের মধ্যে ৪৭টি ছিল লক্ষ্যে। সেই সুযোগগুলোর ১৬টিই তারা গোলে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছে, যা তাদের আক্রমণভাগের ধারালো অবস্থানকে স্পষ্ট করে।

আরও পড়ুন  কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার সামনে নতুন ‘ভোজিনিয়া’

স্পেনও আক্রমণে কম যায় না, তবে কার্যকারিতায় কিছুটা পিছিয়ে। তাদের ১১০ শটের মধ্যে ৪০টি ছিল লক্ষ্যে এবং সেখান থেকে এসেছে ১১ গোল। অর্থাৎ সুযোগ তৈরিতে দুই দল সমান হলেও গোল করার দক্ষতায় ফ্রান্স এগিয়ে রয়েছে। সেমিফাইনালের মতো বড় ম্যাচে এই পার্থক্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

দুই দলের আক্রমণ কৌশলেও রয়েছে ভিন্নতা। স্পেন উইং ব্যবহার করে বেশি আক্রমণ গড়ে তোলে এবং প্রতি ম্যাচে গড়ে ২৪.৩টি ক্রস করে। বিপরীতে ফ্রান্স তুলনামূলকভাবে সরাসরি আক্রমণে বিশ্বাসী। তারা প্রতি ম্যাচে গড়ে ১৬.৫টি ক্রস করে, যা স্পেনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

আরও পড়ুন  ‘দুঃখজনক, ইনশাআল্লাহ আগামীবার’

শৃঙ্খলার দিক থেকেও ফরাসিরা সামান্য এগিয়ে। দিদিয়ের দেশমের দল এখন পর্যন্ত ৫৯টি ফাউল করেছে, যা ম্যাচপ্রতি প্রায় ১০টি। অন্যদিকে স্পেন করেছে ৬৮টি ফাউল, অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড়ে ১১.৩টি। হলুদ কার্ডের হিসাবেও ফ্রান্স এগিয়ে, তাদের কার্ড সংখ্যা ৪টি, যেখানে স্পেন পেয়েছে ৫টি।

দুই দলের সাম্প্রতিক ইতিহাসও এই ম্যাচে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করছে। দুই বছর আগে ইউরোর সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল তারা। সেই ম্যাচে লামিন ইয়ামালের স্পেন ২-১ ব্যবধানে জয় পায় এবং পরে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জেতে। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই লড়াইয়ের নতুন অধ্যায় দেখতে মুখিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব।