বিশ্বকাপ ২০২৬কে সামনে রেখে নিজেদের চূড়ান্ত স্কোয়াডের জার্সি নম্বর প্রকাশ করেছে স্পেন। ঘোষণার পর থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের জার্সি নম্বর বণ্টন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল তার পরিচিত ১৯ নম্বর জার্সিতেই মাঠে নামবেন। ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখানো এই ফুটবলারকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। বিশ্বকাপের মঞ্চে এবারই প্রথমবারের মতো স্পেনের হয়ে খেলতে যাচ্ছেন তিনি।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গাভি। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে দেওয়া হয়েছে ৯ নম্বর জার্সি, যা সাধারণত দলের প্রধান স্ট্রাইকারদের জন্য সংরক্ষিত বলে বিবেচিত হয়। অতীতে স্পেনের বেশ কয়েকজন কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড এই নম্বর পরে মাঠ কাঁপিয়েছেন। ফলে গাভির হাতে এই নম্বর তুলে দেওয়াকে অনেকেই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে বহুল কাঙ্ক্ষিত ১০ নম্বর জার্সির মালিক হয়েছেন দানি ওলমো। জাতীয় দলের আক্রমণভাগে তার সৃজনশীল ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই মর্যাদাপূর্ণ নম্বর তাকে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া নিকো উইলিয়ামস ১৭ এবং মিকেল ওইয়ারসাবাল ২১ নম্বর জার্সি পরে খেলবেন।
গোলরক্ষকদের মধ্যে প্রথম পছন্দের জার্সি পেয়েছেন ডেভিড রায়া। অন্যদিকে অভিজ্ঞ উনাই সিমনকে দেখা যাবে ২৩ নম্বর জার্সিতে। স্পেনের স্কোয়াডে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয় এবারও বিশেষভাবে নজর কাড়ছে।
জার্সি নম্বর ঘোষণার পর অনেক সমর্থক মত দিয়েছেন যে, ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত কিছু নম্বরের বণ্টনে ভিন্নধর্মী চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে। দলের কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়কে প্রচলিত ১ থেকে ১১ নম্বরের বাইরে রাখা হয়েছে, যা স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার মতে, শিরোপার লড়াইয়ে স্পেন অবশ্যই অন্যতম দাবিদার। তবে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি না দেখিয়ে বাস্তবতা মাথায় রেখে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

কোচের ভাষ্য অনুযায়ী, শক্তিশালী কয়েকটি দলের মধ্যে স্পেনও রয়েছে। তবে ইংল্যান্ড, ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ বিশ্বকাপ জয়ের সামর্থ্য রাখে বলে তিনি মনে করেন। তাই প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মূল টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে স্পেন। এই ম্যাচগুলোতে নিজেদের কৌশল ও সমন্বয় আরও ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে দলটি। এরপর পুরো মনোযোগ থাকবে বিশ্বকাপ মিশনের দিকে।
গ্রুপ পর্বে স্পেনের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে কেপ ভার্দে, সৌদি আরব এবং উরুগুয়ে। তুলনামূলকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই গ্রুপ থেকে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়াই হবে ‘লা রোহা’র প্রথম লক্ষ্য। বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেন এবার কতদূর যেতে পারে, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের বড় কৌতূহলের বিষয়।






















