বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ইতিহাস বদলের লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রাজিল। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে একমাত্র নরওয়ের বিপক্ষেই একাধিক ম্যাচ খেলেও এখন পর্যন্ত একটি জয়ও পায়নি পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেই হতাশাজনক পরিসংখ্যানই এবার ব্রাজিল দলের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন ডিফেন্ডার ডগলাস সান্তোস।
বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ২টায় নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত রয়েছে সেলেসাওরা। শক্তিমত্তা, অভিজ্ঞতা এবং বিশ্বকাপ ইতিহাস বিবেচনায় ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখা হলেও অতীতের রেকর্ড তাদের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে আছে।
দুই দলের মধ্যকার পরিসংখ্যান ব্রাজিলের জন্য মোটেও সুখকর নয়। এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। এর মধ্যে দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে নরওয়ে এবং বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ চারবারের দেখায় একবারও জয়ের স্বাদ পায়নি ব্রাজিল।
এই চার ম্যাচের মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয়টি ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল নরওয়ে। সেই জয় আজও দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয় এবং বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবেও আলোচিত।
সবশেষ ২০০৬ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। এরপর দীর্ঘ বিরতি শেষে আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চেই দেখা হচ্ছে তাদের। ফলে ম্যাচটি ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যেও।
১৯৯৮ সালের সেই ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম নায়ক জেটিল রেকডাল মনে করেন, এবার চাপটা পুরোপুরি ব্রাজিলের ওপরই থাকবে। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সফল দল হিসেবে প্রত্যাশার ভারও বহন করতে হবে তাদেরই। অন্যদিকে নরওয়ে তুলনামূলক চাপমুক্ত থেকেই খেলতে পারবে।
তবে ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ডগলাস সান্তোস এই চাপকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। তার মতে, নরওয়ের বিপক্ষে কখনও জয় না পাওয়ার রেকর্ডই দলের খেলোয়াড়দের আরও বেশি উজ্জীবিত করছে। অতীতের ব্যর্থতা এবার জয়ের অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়েছে বলেই বিশ্বাস তার।
ডগলাস বলেন, নরওয়েকে কখনও হারাতে না পারাটাই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রেরণা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশেষ এই ম্যাচে ব্রাজিল নিজেদের সেরাটা উপহার দিতে পারবে এবং জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে। দলের সবাই ইতিহাস বদলাতে মুখিয়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তির খবরও রয়েছে। ইনজুরি কাটিয়ে ইতোমধ্যে অনুশীলনে ফিরেছেন তারকা ফরোয়ার্ড রাফিনহা। কোচ কার্লো আনচেলত্তিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, নরওয়ের বিপক্ষে তাকে মাঠে নামানো হতে পারে। তার ফেরায় আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন সমর্থকরা।
অন্যদিকে নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা থাকবেন গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড এবং অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। ইউরোপের এই দুই তারকাকে নিয়েই ব্রাজিলের রক্ষণভাগের জন্য কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। সব মিলিয়ে ইতিহাস, পরিসংখ্যান এবং বর্তমান ফর্ম—সবকিছুর মিশেলে শেষ ষোলোর এই লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হয়ে উঠতে যাচ্ছে।




























