বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নিলেও নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে মোটেও হতাশ নন কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনিয়া। তার বিশ্বাস, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা এমন ফুটবল খেলেছে, যা একটি জয়ী দলেরই প্রতিচ্ছবি। ভাগ্য সহায় হলে ম্যাচের ফল ভিন্নও হতে পারত বলে মনে করেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেপ ভার্দেকে নিয়ে খুব বেশি প্রত্যাশা ছিল না ফুটবলবিশ্বের। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশটিকে সবাই আন্ডারডগ হিসেবেই দেখেছিল। কিন্তু মাঠে নেমে তারা দেখিয়ে দিয়েছে সাহস, শৃঙ্খলা এবং লড়াই করার মানসিকতা। টুর্নামেন্টজুড়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তারা প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোরে মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হারায় কেপ ভার্দেকে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে দুই দল ১-১ গোলে সমতায় ছিল। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে, যেখানে শেষ মুহূর্তের গোলে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণ সামলাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল ভোজিনিয়ার। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। বিশেষ করে লিওনেল মেসির নেওয়া কয়েকটি বিপজ্জনক ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি।
এই ম্যাচে ভোজিনিয়া মোট আটটি সেভ করেন, যা ছিল ম্যাচের অন্যতম বড় আকর্ষণ। পুরো বিশ্বকাপে চার ম্যাচ মিলিয়ে তার মোট সেভের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮টি। গোলবারের নিচে তার দৃঢ় উপস্থিতির কারণেই কেপ ভার্দে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আর্জেন্টিনার আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।
কেপ ভার্দের রক্ষণভাগও ছিল বেশ সংগঠিত। দলগতভাবে সবাই নিজেদের দায়িত্ব পালন করায় আর্জেন্টিনাকে গোল করতে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলেছে এবং ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সহায় হয়নি আফ্রিকার প্রতিনিধিদের। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল মেসির কর্নার থেকে উড়ে আসা বল প্রথমে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো এবং পরে কেপ ভার্দের এক ডিফেন্ডারের মাথায় লেগে জালে জড়িয়ে যায়। সেই গোলেই টাইব্রেকারের স্বপ্ন ভেঙে বিদায় নিতে হয় কেপ ভার্দেকে।
ম্যাচ শেষে ফিফাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ভোজিনিয়া বলেন, “আমার মনে হয়, ম্যাচটি জেতার জন্য আমরা যথেষ্ট ভালো খেলেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, ফুটবল এমনই। আর্জেন্টিনা সেট পিস থেকে তৃতীয় গোলটি করেছে, কিন্তু আমরা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দিয়ে খেলেছি।”
নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্ব প্রকাশের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের প্রতিও সম্মান দেখাতে ভোলেননি এই গোলরক্ষক। তিনি বলেন, “মেসি এবং আর্জেন্টিনার প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রতি আমাদের অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে মাঠে নামার পর প্রতিপক্ষ কতটা শক্তিশালী, সেটি ভেবে নয়; আমরা নিজেদের খেলা এবং পরিকল্পনার দিকেই মনোযোগ দিয়েছি।”
যদিও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে কেপ ভার্দে, তবুও তাদের এই লড়াকু পারফরম্যান্স দীর্ঘদিন মনে রাখবে ফুটবলপ্রেমীরা। বিশেষ করে গোলকিপার ভোজিনিয়ার দুর্দান্ত নৈপুণ্য এবং দলের সাহসী ফুটবল প্রমাণ করেছে, বড় মঞ্চে নতুন দলও শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে। এই বিশ্বকাপ হয়তো তাদের জন্য শেষ হয়েছে, তবে ভবিষ্যতের জন্য তারা রেখে গেছে বড় সম্ভাবনার বার্তা।



























