মেসি গোল করে আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। বিশ্বকাপ শুরুর আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষ দিকে মাঠে নেমে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
মেসি গোল করার আগে আর্জেন্টিনা ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। প্রথমার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণের ধার দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল লাতিন আমেরিকার দলটি। বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করার পর অবশেষে ভ্যালেন্তিন বারকোর দুর্দান্ত শটে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল তার আরেকটি স্মরণীয় গোল।
প্রথম গোলের পরও আক্রমণের গতি কমায়নি আর্জেন্টিনা। মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগের সমন্বিত ফুটবলে আইসল্যান্ডকে চাপে রাখে তারা। যদিও বিরতির আগে আর কোনো গোল পায়নি দলটি, তবুও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরো সময় তাদের হাতেই ছিল। আইসল্যান্ড মাঝে মধ্যে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ছিল যথেষ্ট দৃঢ়।
দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করেন লাওতারো মার্তিনেজ। তবে ম্যাচের ৬৯ মিনিটে মাঠে নামেন মেসি এবং খেলার চিত্র আরও বদলে যায়। মাঠে নামার পরপরই তিনি একটি চমৎকার আক্রমণ তৈরি করেন। তার নিখুঁত পাস থেকে সুযোগ পান মার্তিনেজ। সেই আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ফাউল করেন আইসল্যান্ড গোলরক্ষক, আর রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিক থেকে সহজেই জাল খুঁজে নেন মেসি।
মেসি গোল করার পর আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। শেষ দিকে আবারও তার নেতৃত্বে তৈরি হয় আরেকটি আক্রমণ। সেই আক্রমণ থেকেই তৃতীয় গোলটি করেন থিয়াগো আলমাদা। ফলে ম্যাচটি ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার গতি, পাসিং এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা ছিল প্রশংসনীয়।
বিশ্বকাপের আগে এই জয় আর্জেন্টিনার জন্য বড় আত্মবিশ্বাসের উৎস হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে মেসির ফিটনেস ও ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলেছে। দলটির কোচিং স্টাফও প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সফল হতে হলে এমন পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে ধরে রাখতে হবে।
আগামী ১৭ জুন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। তার আগে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া এই জয় দলটির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। সমর্থকদের বিশ্বাস, মেসি গোল এবং দলের সমন্বিত পারফরম্যান্স বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

























