ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সরকারবিরোধী মিছিলের অভিযোগে ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা Logo আমগাছ কাটার নিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাঃরাতের আধারে নবাবগঞ্জে আম বাগান ধ্বংস Logo রাষ্ট্রপতি বাছাইয়ে আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি চায় না বিএনপি Logo গ্রিনল্যান্ড হাঙর: অবিশ্বাস্য ৪০০ বছরের জীবনের রহস্য জানুন Logo ফ্যাসিবাদের শিকড় বাহাত্তরের সংবিধানে, দাবি ড. দিলারা চৌধুরীর Logo ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিনের নতুন দায়িত্ব: বঙ্গভবনে অফিস, স্পিকারের বাসভবনে অবস্থান Logo রান্নাঘর পরিষ্কার রাখার ৭ সহজ ও কার্যকর টিপস Logo সবুজ স্বর্গ নরওয়ে কেন বিদেশি বর্জ্য কিনে আনে? Logo মসুর ডালের সালাদ: প্রোটিনসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর ও সহজ রেসিপি Logo স্যামসাংয়ের নজিরের পর বাড়তি বোনাস দাবি, উত্তাল দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজার

গ্রিনল্যান্ড হাঙর: অবিশ্বাস্য ৪০০ বছরের জীবনের রহস্য জানুন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:০০:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩৪

গভীর সমুদ্রে সাঁতার কাটছে বিশ্বের দীর্ঘজীবী গ্রিনল্যান্ড হাঙর। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ড হাঙর পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী মেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলে এই বিরল প্রজাতির একটি মৃত হাঙর ভেসে ওঠার ঘটনা সামুদ্রিক বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাণীটির বয়স ছিল ১৫০ বছরেরও বেশি এবং এটি জীবনের এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যখন প্রজননের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ড হাঙর সাধারণ হাঙরের মতো দ্রুত বেড়ে ওঠে না। বরফশীতল গভীর সমুদ্রে ধীর গতিতে জীবন কাটানো এই প্রাণী প্রায় ৪০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বর্তমানে সমুদ্রে সাঁতার কাটা কিছু গ্রিনল্যান্ড হাঙর জন্ম নিয়েছিল সেই সময়ে, যখন উইলিয়াম শেক্সপিয়ার জীবিত ছিলেন। এত দীর্ঘ জীবনধারণের রহস্য এখনও পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি।

আয়ারল্যান্ডে উদ্ধার হওয়া গ্রিনল্যান্ড হাঙর
আয়ারল্যান্ড উপকূলে উদ্ধার হওয়া গ্রিনল্যান্ড হাঙরের দেহ। ছবি: সংগৃহীত

আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি স্লাইগো উপকূলে মৃত হাঙরটি দেখতে পেয়ে গবেষক ও স্বেচ্ছাসেবীরা বিস্মিত হয়ে যান। কারণ এর আগে ওই অঞ্চলে কখনও গ্রিনল্যান্ড হাঙরের দেহ ভেসে আসার ঘটনা রেকর্ড হয়নি। পরে প্রাণীটিকে বিশেষ ব্যবস্থায় একটি পরীক্ষাগারে নিয়ে গিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা বা নেক্রোপসি করা হয়। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা প্রাণীটির শরীর, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করছেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, শত শত বছর বেঁচে থাকা প্রাণীর শরীরে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস থাকতে পারে, যেগুলো সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞান এখনও খুব কম জানে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষকেরা বিশেষ পোশাক, মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করে পরীক্ষা চালান। তাদের মতে, মৃত প্রাণী থেকেও জীবিত প্রাণীর জীবনচক্র, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত পরিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা সম্ভব।

গ্রিনল্যান্ড হাঙর মূলত উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের গভীর, ঠান্ডা পানিতে বসবাস করে। এরা খুব ধীরে সাঁতার কাটে এবং বছরের পর বছর একই পরিবেশে জীবন কাটায়। ধীর বিপাকক্রিয়া, কম তাপমাত্রা এবং অনন্য জৈবিক বৈশিষ্ট্যই সম্ভবত এদের দীর্ঘ জীবনের অন্যতম কারণ। তবে ঠিক কী কারণে তারা এত দীর্ঘ সময় সুস্থভাবে বেঁচে থাকে, তা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, আয়ারল্যান্ডে পাওয়া এই বিরল গ্রিনল্যান্ড হাঙরের দেহ ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস হবে। এর মাধ্যমে শুধু এই রহস্যময় হাঙরের জীবন নয়, বরং দীর্ঘায়ু, বার্ধক্য এবং সমুদ্রের গভীর পরিবেশ সম্পর্কে নতুন বৈজ্ঞানিক ধারণাও পাওয়া যেতে পারে। তাই এই ঘটনাকে সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারবিরোধী মিছিলের অভিযোগে ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

গ্রিনল্যান্ড হাঙর: অবিশ্বাস্য ৪০০ বছরের জীবনের রহস্য জানুন

Update Time : ১২:০০:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

গ্রিনল্যান্ড হাঙর পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী মেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলে এই বিরল প্রজাতির একটি মৃত হাঙর ভেসে ওঠার ঘটনা সামুদ্রিক বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাণীটির বয়স ছিল ১৫০ বছরেরও বেশি এবং এটি জীবনের এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যখন প্রজননের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ড হাঙর সাধারণ হাঙরের মতো দ্রুত বেড়ে ওঠে না। বরফশীতল গভীর সমুদ্রে ধীর গতিতে জীবন কাটানো এই প্রাণী প্রায় ৪০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বর্তমানে সমুদ্রে সাঁতার কাটা কিছু গ্রিনল্যান্ড হাঙর জন্ম নিয়েছিল সেই সময়ে, যখন উইলিয়াম শেক্সপিয়ার জীবিত ছিলেন। এত দীর্ঘ জীবনধারণের রহস্য এখনও পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি।

আরও পড়ুন  ধান ছেড়ে পান চাষ, রংপুরের এই গ্রামে বাড়ছে কৃষকের আয়
আয়ারল্যান্ডে উদ্ধার হওয়া গ্রিনল্যান্ড হাঙর
আয়ারল্যান্ড উপকূলে উদ্ধার হওয়া গ্রিনল্যান্ড হাঙরের দেহ। ছবি: সংগৃহীত

আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি স্লাইগো উপকূলে মৃত হাঙরটি দেখতে পেয়ে গবেষক ও স্বেচ্ছাসেবীরা বিস্মিত হয়ে যান। কারণ এর আগে ওই অঞ্চলে কখনও গ্রিনল্যান্ড হাঙরের দেহ ভেসে আসার ঘটনা রেকর্ড হয়নি। পরে প্রাণীটিকে বিশেষ ব্যবস্থায় একটি পরীক্ষাগারে নিয়ে গিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা বা নেক্রোপসি করা হয়। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা প্রাণীটির শরীর, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করছেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, শত শত বছর বেঁচে থাকা প্রাণীর শরীরে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস থাকতে পারে, যেগুলো সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞান এখনও খুব কম জানে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষকেরা বিশেষ পোশাক, মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করে পরীক্ষা চালান। তাদের মতে, মৃত প্রাণী থেকেও জীবিত প্রাণীর জীবনচক্র, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত পরিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা সম্ভব।

আরও পড়ুন  বহরে ২১ নতুন বিমান, ২০ দেশে উড়তে চায় ইউএস–বাংলা

গ্রিনল্যান্ড হাঙর মূলত উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের গভীর, ঠান্ডা পানিতে বসবাস করে। এরা খুব ধীরে সাঁতার কাটে এবং বছরের পর বছর একই পরিবেশে জীবন কাটায়। ধীর বিপাকক্রিয়া, কম তাপমাত্রা এবং অনন্য জৈবিক বৈশিষ্ট্যই সম্ভবত এদের দীর্ঘ জীবনের অন্যতম কারণ। তবে ঠিক কী কারণে তারা এত দীর্ঘ সময় সুস্থভাবে বেঁচে থাকে, তা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।

আরও পড়ুন  শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ৫টি বড় সিদ্ধান্ত

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, আয়ারল্যান্ডে পাওয়া এই বিরল গ্রিনল্যান্ড হাঙরের দেহ ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস হবে। এর মাধ্যমে শুধু এই রহস্যময় হাঙরের জীবন নয়, বরং দীর্ঘায়ু, বার্ধক্য এবং সমুদ্রের গভীর পরিবেশ সম্পর্কে নতুন বৈজ্ঞানিক ধারণাও পাওয়া যেতে পারে। তাই এই ঘটনাকে সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।