ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

১৬ কেজির ওলকচু: ৫২ পদে কৃষকদের ব্যতিক্রমী শুভেচ্ছা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৩৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২৩

১৬ কেজির ওলকচুসহ ৫২ পদের কৃষিপণ্য দিয়ে বিভাগীয় কমিশনারকে শুভেচ্ছা জানান কৃষকেরা। ছবি: সংগৃহীত

১৬ কেজির ওলকচুসহ নিজেদের উৎপাদিত ৫২ ধরনের ফলমূল ও সবজি নিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পাবনা ও নাটোরের ৩৮ জন কৃষক। ব্যতিক্রমী এই শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি কৃষকেরা তাঁদের নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরেন।

বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের হলরুমে এ আয়োজন করা হয়। কৃষকদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফলমূল ও কৃষিপণ্য প্রদর্শন করা হয়। এসব পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে ১৬ কেজি ওজনের বিশাল একটি ওলকচু।

কৃষকদের আনা ৫২ ধরনের পণ্যের তালিকায় ছিল গাজর, টমেটো, আলু, বেগুন, বাদাম, পেঁয়াজ, রসুন, বরবটি, ড্রাগন ফল, পেঁপে, সুগন্ধি চাল, পেয়ারা, কলা, শসা, মুলা, মিষ্টিকুমড়া, ঢ্যাঁড়স, আমড়া, করলা ও লাউসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য। শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত ও সংরক্ষণে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা জানান তাঁরা।

বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান কৃষকদের ঋণব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণ নিয়ে কথা বলেন। তাঁর মতে, ফসল উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে ঋণের কিস্তি শুরু হলে কৃষকের ওপর চাপ তৈরি হয়। তিনি কৃষিপণ্য পরিবহনে ভটভটি ব্যবহারের সমস্যা সমাধান এবং প্রয়োজনে কৃষকদের জন্য আলাদা চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

কৃষকদের দেওয়া ফলমূল ও সবজির শুভেচ্ছা গ্রহণ করছেন বিভাগীয় কমিশনার
কৃষকদের উৎপাদিত ফলমূল ও সবজি দিয়ে দেওয়া শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। ছবি: সংগৃহীত

কৃষকেরা আরও বলেন, লিচু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত বাজারজাত করতে না পারলে ফল নষ্ট হয়ে যায়। একইভাবে দেশি রসুন ও পেঁয়াজের ন্যায্য দাম না পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। সার ব্যবস্থাপনায় ফসলভিত্তিক চাহিদা নির্ধারণের দাবি জানান কৃষকেরা। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে জুসসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরির সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী কৃষকদের বক্তব্য শোনেন এবং সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে কাজ করার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, কৃষিকে এগিয়ে নিতে মাটির স্বাস্থ্য, জৈব সার ব্যবহার ও বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদের দিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়ে কৃষির বিপণনব্যবস্থার দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ

১৬ কেজির ওলকচু: ৫২ পদে কৃষকদের ব্যতিক্রমী শুভেচ্ছা

Update Time : ০৮:৩৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৬ কেজির ওলকচুসহ নিজেদের উৎপাদিত ৫২ ধরনের ফলমূল ও সবজি নিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পাবনা ও নাটোরের ৩৮ জন কৃষক। ব্যতিক্রমী এই শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি কৃষকেরা তাঁদের নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরেন।

বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের হলরুমে এ আয়োজন করা হয়। কৃষকদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফলমূল ও কৃষিপণ্য প্রদর্শন করা হয়। এসব পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে ১৬ কেজি ওজনের বিশাল একটি ওলকচু।

আরও পড়ুন  ডিলিট করা ছবি উদ্ধার: সহজ উপায়ে ফিরে পাবেন ছবি

কৃষকদের আনা ৫২ ধরনের পণ্যের তালিকায় ছিল গাজর, টমেটো, আলু, বেগুন, বাদাম, পেঁয়াজ, রসুন, বরবটি, ড্রাগন ফল, পেঁপে, সুগন্ধি চাল, পেয়ারা, কলা, শসা, মুলা, মিষ্টিকুমড়া, ঢ্যাঁড়স, আমড়া, করলা ও লাউসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য। শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত ও সংরক্ষণে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা জানান তাঁরা।

বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান কৃষকদের ঋণব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণ নিয়ে কথা বলেন। তাঁর মতে, ফসল উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে ঋণের কিস্তি শুরু হলে কৃষকের ওপর চাপ তৈরি হয়। তিনি কৃষিপণ্য পরিবহনে ভটভটি ব্যবহারের সমস্যা সমাধান এবং প্রয়োজনে কৃষকদের জন্য আলাদা চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

আরও পড়ুন  ইতিহাসের সাক্ষী গৌরীপুর লজ, ২০০ বছর পর নতুন পরিচয়ে
কৃষকদের দেওয়া ফলমূল ও সবজির শুভেচ্ছা গ্রহণ করছেন বিভাগীয় কমিশনার
কৃষকদের উৎপাদিত ফলমূল ও সবজি দিয়ে দেওয়া শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। ছবি: সংগৃহীত

কৃষকেরা আরও বলেন, লিচু সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত বাজারজাত করতে না পারলে ফল নষ্ট হয়ে যায়। একইভাবে দেশি রসুন ও পেঁয়াজের ন্যায্য দাম না পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। সার ব্যবস্থাপনায় ফসলভিত্তিক চাহিদা নির্ধারণের দাবি জানান কৃষকেরা। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে জুসসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরির সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক: দ্রুত অ্যাকাউন্ট উদ্ধারের সহজ উপায় জানুন

 

বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী কৃষকদের বক্তব্য শোনেন এবং সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে কাজ করার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, কৃষিকে এগিয়ে নিতে মাটির স্বাস্থ্য, জৈব সার ব্যবহার ও বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদের দিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়ে কৃষির বিপণনব্যবস্থার দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।