ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর একটি ব্যালন ডি’অর। প্রতি বছর বিশ্বের সেরা ফুটবলারকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে অনেক ফুটবলপ্রেমীর কাছেই প্রশ্ন থাকে, ব্যালন ডি’অর ভোটের নিয়ম আসলে কী এবং কোন প্রক্রিয়ায় একজন খেলোয়াড়কে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
ব্যালন ডি’অর ভোটের নিয়ম মূলত দুই ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথমে নির্দিষ্ট সময়ের পারফরম্যান্স বিবেচনা করে ৩০ জন খেলোয়াড়ের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হয়। এরপর নির্বাচিত দেশগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সাংবাদিকরা সেই তালিকা থেকে নিজেদের পছন্দের খেলোয়াড়দের ক্রমানুসারে ভোট দেন। সব ভোটের পয়েন্ট যোগ করার পর সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া খেলোয়াড়ই হন ব্যালন ডি’অর বিজয়ী।
কারা ব্যালন ডি’অরে ভোট দেন
বর্তমান ব্যবস্থায় বিশ্বের শীর্ষ র্যাঙ্কিংয়ের ১০০টি দেশের একজন করে সাংবাদিক ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। অর্থাৎ প্রতিটি নির্বাচিত দেশ থেকে একজন সাংবাদিক ব্যালন ডি’অরের ভোটিং প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। অতীতে ফিফার সঙ্গে যৌথভাবে পুরস্কার দেওয়ার সময় জাতীয় দলের অধিনায়ক ও কোচরাও ভোট দিতে পারতেন। বর্তমানে সেই ব্যবস্থা নেই।
কীভাবে দেওয়া হয় ভোট
প্রতিটি দেশের সাংবাদিক শর্টলিস্টে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে সেরা ১০ জনকে পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করেন। প্রথম পছন্দের খেলোয়াড় সর্বোচ্চ পয়েন্ট পান। এরপর দ্বিতীয়, তৃতীয়সহ ক্রমান্বয়ে পরের অবস্থানের খেলোয়াড়দের পয়েন্ট দেওয়া হয়। সব দেশের ভোট সংগ্রহের পর মোট পয়েন্ট হিসাব করা হয় এবং সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়া খেলোয়াড়কে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় থাকে
ব্যালন ডি’অর ভোটের সময় শুধু গোল বা অ্যাসিস্টের হিসাব দেখা হয় না। একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার প্রভাব এবং পুরো মৌসুমে ধারাবাহিকতা বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি দলীয় সাফল্য এবং মাঠে খেলোয়াড়ের আচরণ ও খেলাধুলার মানসিকতাও ভোটের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পায়।
১ নম্বরে থাকা খেলোয়াড় কত পয়েন্ট পান
ভোটে সাংবাদিকদের নির্বাচিত সেরা ১০ খেলোয়াড়ের প্রত্যেকের জন্য আলাদা পয়েন্ট নির্ধারিত থাকে। প্রথম স্থানে থাকা খেলোয়াড় সর্বোচ্চ ১৫ পয়েন্ট পান। এরপর অবস্থান অনুযায়ী পয়েন্ট কমতে থাকে এবং দশম স্থানে থাকা খেলোয়াড় পান ১ পয়েন্ট। সব ভোট থেকে পাওয়া পয়েন্ট যোগ করে চূড়ান্ত ফল তৈরি করা হয়।
৩০ জনের তালিকা কীভাবে হয়
ব্যালন ডি’অরের মূল ভোটের আগে ৩০ জন খেলোয়াড়ের একটি শর্টলিস্ট তৈরি করা হয়। এই তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে আগের মৌসুমে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, ব্যক্তিগত অর্জন এবং দলীয় সাফল্য বিবেচনা করা হয়। এরপর এই তালিকাতেই সাংবাদিকদের ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
বেশি গোল করলেই কি ব্যালন ডি’অর পাওয়া যায়
শুধু গোলসংখ্যা বেশি হলেই ব্যালন ডি’অর নিশ্চিত হয় না। একজন স্ট্রাইকারের গোলের পাশাপাশি একজন মিডফিল্ডার বা ডিফেন্ডারের ম্যাচে প্রভাবও ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দলকে বড় শিরোপা জেতাতে খেলোয়াড়ের অবদান, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পারফরম্যান্স এবং সামগ্রিক মানও ফলাফলে প্রভাব ফেলে।
এ কারণেই ব্যালন ডি’অর নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক দেখা যায়। কোনো খেলোয়াড় ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকলেও অন্য একজন খেলোয়াড় বড় দলীয় সাফল্য অর্জন করলে ভোটের লড়াই ভিন্ন দিকে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকদের সম্মিলিত ভোটেই নির্ধারিত হয় কে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পেয়েছেন।
ভোট সমান হলে কী হয়
দুই বা তার বেশি খেলোয়াড়ের মোট পয়েন্ট সমান হলে প্রথম স্থানের ভোট গণনা করা হয়। যে খেলোয়াড় প্রথম স্থানের বেশি ভোট পেয়েছেন, তিনি এগিয়ে থাকেন। এরপরও যদি সমতা থেকে যায়, দ্বিতীয় স্থানের ভোটসহ পরবর্তী অবস্থানের ভোট বিবেচনা করে ধাপে ধাপে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।
কোন সময়ের পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়
ব্যালন ডি’অরের যোগ্যতা নির্ধারণের সময়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। আগে একটি ক্যালেন্ডার বছরের পারফরম্যান্সকে ভিত্তি করে পুরস্কারের মূল্যায়ন করা হতো। পরবর্তীতে নিয়ম পরিবর্তন করে একটি পূর্ণ ফুটবল মৌসুমের পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া শুরু হয়।
তাই ব্যালন ডি’অর শুধু একজন খেলোয়াড়ের গোল, অ্যাসিস্ট কিংবা ব্যক্তিগত রেকর্ডের পুরস্কার নয়। পুরো মৌসুমে তার পারফরম্যান্স, দলের সাফল্যে অবদান এবং মাঠের সামগ্রিক প্রভাব মিলিয়েই ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেন। এই কারণেই বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ব্যালন ডি’অরের ভোটিং প্রক্রিয়া এতটা আলোচিত।


























