ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ইনফান্তিনোর পাশে নেই ফ্রান্স, নির্বাচনের আগে বাড়ল চাপ

জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আগামী বছরের পুনর্নির্বাচনের জন্য সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। ফেডারেশনটির সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো জানিয়েছেন, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার প্রধানের ওপর তাদের আস্থা আর নেই। বৃহস্পতিবার এফএফএফের নির্বাহী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেয়।

সাংবাদিকদের দিয়ালো বলেন, ইনফান্তিনোর ওপর ফ্রান্স যে আস্থা রেখেছিল, তা এখন ভেঙে গেছে। বিশ্ব ফুটবল যেভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত বলে ফ্রান্স মনে করে, বর্তমান পরিচালন পদ্ধতি তার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণেই ইনফান্তিনোর প্রার্থিতাকে সমর্থন করার মতো অনুকূল পরিবেশ এখন নেই।

ফিফা সভাপতি হিসেবে আরেক মেয়াদের জন্য লড়ছেন ইনফান্তিনো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। গত জুলাইয়ে ফিফার প্রতিযোগিতা ও বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন সম্পদে ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

আঞ্চলিক কনফেডারেশন ও বিভিন্ন ফেডারেশনের বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই বিতর্কিত প্রস্তাব বাতিল করতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো। দিয়ালোর ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হয়নি। এতে ফিফার সুশাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ফ্রান্স অবশ্য শুরুতে ইনফান্তিনোর পাশে ছিল। জুনের শেষ দিকে তিনি যখন একমাত্র ঘোষিত প্রার্থী ছিলেন, তখন তাঁর প্রার্থিতাকে সমর্থন করেছিল এফএফএফ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা তাদের অবস্থান পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন দিয়ালো।

ইনফান্তিনোর প্রস্তাব বাতিল হওয়ার পর ইংল্যান্ড ও ইতালিসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি ফুটবল ফেডারেশন তাঁর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। আগামী মার্চের নির্বাচন সামনে রেখে ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।

এদিকে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর আমেরিকার কনকাকাফও ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইনফান্তিনোকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এমন একজন গ্রহণযোগ্য বিকল্প প্রার্থী খুঁজে বের করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

দিয়ালো জানিয়েছেন, ফ্রান্সের সিদ্ধান্ত শুধু তাদের নিজস্ব অবস্থান নয়, বরং উয়েফার বাইরে গড়ে ওঠা বৃহত্তর একটি উদ্যোগের অংশ। তাঁর মতে, এখন মূল লক্ষ্য হবে ফিফার সুশাসন ব্যবস্থায় সংস্কার আনা এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মতো শক্তিশালী বিকল্প প্রার্থী দাঁড় করানো।

তবে ইনফান্তিনো এখনো পুরোপুরি একা হয়ে যাননি। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবল এবং আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন ক্যাফের সমর্থন এখনো তাঁর সঙ্গে রয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচন ঘিরে ফিফার নেতৃত্বের লড়াই আরও জমে উঠতে পারে।

আগামী ১৮ মার্চ ২০২৭ মরক্কোর রাজধানী রাবাতে ফিফা সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থিতা জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর। এর আগে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ও বিভিন্ন ফেডারেশনের অবস্থান নিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোচনা আরও বাড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ

ইনফান্তিনোর পাশে নেই ফ্রান্স, নির্বাচনের আগে বাড়ল চাপ

Update Time : ০৯:৪৩:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আগামী বছরের পুনর্নির্বাচনের জন্য সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। ফেডারেশনটির সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো জানিয়েছেন, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার প্রধানের ওপর তাদের আস্থা আর নেই। বৃহস্পতিবার এফএফএফের নির্বাহী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেয়।

সাংবাদিকদের দিয়ালো বলেন, ইনফান্তিনোর ওপর ফ্রান্স যে আস্থা রেখেছিল, তা এখন ভেঙে গেছে। বিশ্ব ফুটবল যেভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত বলে ফ্রান্স মনে করে, বর্তমান পরিচালন পদ্ধতি তার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণেই ইনফান্তিনোর প্রার্থিতাকে সমর্থন করার মতো অনুকূল পরিবেশ এখন নেই।

ফিফা সভাপতি হিসেবে আরেক মেয়াদের জন্য লড়ছেন ইনফান্তিনো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। গত জুলাইয়ে ফিফার প্রতিযোগিতা ও বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন সম্পদে ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুন  আরেক নতুন রেকর্ড মেসির

আঞ্চলিক কনফেডারেশন ও বিভিন্ন ফেডারেশনের বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই বিতর্কিত প্রস্তাব বাতিল করতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো। দিয়ালোর ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হয়নি। এতে ফিফার সুশাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ফ্রান্স অবশ্য শুরুতে ইনফান্তিনোর পাশে ছিল। জুনের শেষ দিকে তিনি যখন একমাত্র ঘোষিত প্রার্থী ছিলেন, তখন তাঁর প্রার্থিতাকে সমর্থন করেছিল এফএফএফ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা তাদের অবস্থান পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন দিয়ালো।

আরও পড়ুন  ব্রুনো ফার্নান্দেজকে ছাড়বে না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ট্রান্সফারে বড় সিদ্ধান্ত

ইনফান্তিনোর প্রস্তাব বাতিল হওয়ার পর ইংল্যান্ড ও ইতালিসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি ফুটবল ফেডারেশন তাঁর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। আগামী মার্চের নির্বাচন সামনে রেখে ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।

এদিকে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর আমেরিকার কনকাকাফও ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইনফান্তিনোকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এমন একজন গ্রহণযোগ্য বিকল্প প্রার্থী খুঁজে বের করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

দিয়ালো জানিয়েছেন, ফ্রান্সের সিদ্ধান্ত শুধু তাদের নিজস্ব অবস্থান নয়, বরং উয়েফার বাইরে গড়ে ওঠা বৃহত্তর একটি উদ্যোগের অংশ। তাঁর মতে, এখন মূল লক্ষ্য হবে ফিফার সুশাসন ব্যবস্থায় সংস্কার আনা এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মতো শক্তিশালী বিকল্প প্রার্থী দাঁড় করানো।

আরও পড়ুন  ২০২৭-এর পর ইনফান্তিনোকে চায় না নেদারল্যান্ডস, কেন?

তবে ইনফান্তিনো এখনো পুরোপুরি একা হয়ে যাননি। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবল এবং আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন ক্যাফের সমর্থন এখনো তাঁর সঙ্গে রয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচন ঘিরে ফিফার নেতৃত্বের লড়াই আরও জমে উঠতে পারে।

আগামী ১৮ মার্চ ২০২৭ মরক্কোর রাজধানী রাবাতে ফিফা সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থিতা জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর। এর আগে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ও বিভিন্ন ফেডারেশনের অবস্থান নিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোচনা আরও বাড়বে।