মেসির পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করল, বয়স শুধু একটি সংখ্যা। গোল না করেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ম্যাচের সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেন লিওনেল মেসি। তাঁর দুই দুর্দান্ত অ্যাসিস্টে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য সহজ ছিল না আলবিসেলেস্তেদের জন্য। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ মেসিকে বেশ ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণে রাখে। বল পেলেও তাঁকে বিপজ্জনক জায়গায় খেলতে দেওয়া হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়েও যায় ইংল্যান্ড। তখন অনেকেই ভেবেছিলেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে।
কিন্তু গোল হজমের পর বদলে যায় আর্জেন্টিনার কৌশল। কোচ লিওনেল স্কালোনি মেসিকে মাঝমাঠ থেকে ডান প্রান্তে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। এই ছোট পরিবর্তনই পুরো ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয়। নতুন পজিশনে খেলতে শুরু করার পর মেসিকে সামলাতে একাধিক ডিফেন্ডারকে এগিয়ে আসতে হয়। ফলে ইংল্যান্ডের রক্ষণে বড় বড় ফাঁকা জায়গা তৈরি হতে থাকে, যার পুরো সুবিধা নেয় আর্জেন্টিনা।
এরপর থেকেই বলের দখল চলে যায় আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণে। ম্যাচের শেষভাগে দীর্ঘ সময় ইংল্যান্ড কার্যত নিজেদের অর্ধেই আটকে ছিল। একের পর এক আক্রমণ, নিখুঁত পাস এবং ড্রিবলিং দিয়ে ম্যাচের গতি নিজের হাতে তুলে নেন মেসি। প্রতিপক্ষের দুই-তিনজন খেলোয়াড়কে টেনে এনে সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করেন তিনি।
পরিসংখ্যানও মেসির আধিপত্যের প্রমাণ দেয়। ম্যাচে সবচেয়ে বেশি সফল ড্রিবল করেন তিনি। সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি, সবচেয়ে বেশি ক্রস এবং প্রতিপক্ষের বক্সে সবচেয়ে বেশি কার্যকর উপস্থিতিও ছিল তাঁর। গোল না করেও পুরো ম্যাচের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ম্যাচের ৮৫ মিনিটে কর্নার থেকে মেসির দারুণ পাস পেয়ে দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ে আবারও মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাওতারো মার্তিনেজ। ফলে দুই গোলেই সরাসরি অবদান রেখে ম্যাচসেরার মতোই প্রভাব বিস্তার করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বলেন, মেসির পজিশন পরিবর্তনই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার মিকা রিচার্ডসের ভাষায়, মেসি হয়তো অনেক সময় হেঁটে বেড়ান, কিন্তু বল পায়ে এলেই পুরো ম্যাচ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও মেসির প্রশংসা করতে ভুল করেননি। তাঁর মতে, দীর্ঘ সময় মেসিকে আটকে রাখা সম্ভব হলেও বিশ্বসেরা ফুটবলারদের মাত্র একটি মুহূর্তই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। এই ম্যাচেও ঠিক সেটাই ঘটেছে।
ফাইনালের আগে এই জয় আর্জেন্টিনাকে যেমন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে, তেমনি আবারও প্রমাণ করেছে—লিওনেল মেসি এখনও বড় ম্যাচের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম। গোল না করেও কীভাবে একটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়া যায়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেটিরই আরেকটি দুর্দান্ত উদাহরণ দেখালেন তিনি।



























