ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিশ্বকাপ ২০২৬ সেমিফাইনালের টিকিটের দাম কত? Logo ডে ট্রেডিং সুবিধা কি চালু হচ্ছে? বিএসইসির বড় সিদ্ধান্ত Logo মেসিকে নিয়ে আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিসর কোচ হোসাম হাসান Logo ‘সবাই একে অপরকে পিষছিল’: ব্যাংককের পানশালায় কান্নার সেই রাত! Logo ২৪ ঘণ্টা পর রাজশাহীতে বাস চলাচল শুরু Logo কেপ ভার্দের অর্থনীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের আশাবাদী প্রতিবেদন Logo বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর প্রথম সেমিফাইনালে এমবাপ্পের ফ্রান্স ও ইয়ামালের স্পেন মুখোমুখি হচ্ছে Logo নকলায় মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের ৬ কর্মী গ্রেপ্তার Logo জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকারের পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে : সারজিস আলম Logo এয়ার ফ্রায়ারে রান্না কি পুষ্টিগুণ বজায় রাখে? জানুন সত্য

বন্যায় ৫৪ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ

বন্যায় ৫৪ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত লাখো মানুষ

দেশের আট জেলায় ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬ লাখের বেশি মানুষ। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয় বিষয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

সভায় দেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, উদ্ধার কার্যক্রম এবং দুর্গত মানুষের সহায়তার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বন্যায় কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত খাত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পাহাড়ের পাদদেশ ও পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বন্যার কারণে কৃষি খাতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় ধানের বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতায় আগামী দুই দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জমিতে নতুন বীজতলা তৈরি করা হবে। পরে এসব বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

বন্যার পানিতে দেশের বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গত এলাকার মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকটে পড়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ বিভিন্ন সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।

বন্যার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দুর্গত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছাতে বাড়তি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

সরকার জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যার ক্ষতি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নদী ব্যবস্থাপনা, বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষের নিরাপদ পুনর্বাসন জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ ২০২৬ সেমিফাইনালের টিকিটের দাম কত?

বন্যায় ৫৪ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ

Update Time : ০৯:৫৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

দেশের আট জেলায় ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬ লাখের বেশি মানুষ। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয় বিষয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

সভায় দেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, উদ্ধার কার্যক্রম এবং দুর্গত মানুষের সহায়তার বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-তুরস্ক কৌশলগত অংশীদারি, বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা

সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বন্যায় কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত খাত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি পাহাড়ের পাদদেশ ও পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন  মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর এপিএসদের বেতন বেড়ে ৩২,৫৪০ টাকা

এদিকে বন্যার কারণে কৃষি খাতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় ধানের বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতায় আগামী দুই দিনের মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জমিতে নতুন বীজতলা তৈরি করা হবে। পরে এসব বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

বন্যার পানিতে দেশের বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গত এলাকার মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকটে পড়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ বিভিন্ন সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।

আরও পড়ুন  জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস কর্মসূচি: শক্তিশালী প্রস্তুতিতে সরকার

বন্যার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দুর্গত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছাতে বাড়তি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

সরকার জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যার ক্ষতি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নদী ব্যবস্থাপনা, বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষের নিরাপদ পুনর্বাসন জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।