বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সাবেক আইজিপিকে গ্রেফতারের পর নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ রয়েছে। গত ১২ জুন ইউএইর ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে তার গ্রেফতারের বিষয়টি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এরপর ১৬ জুন কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠানো হয়। একই সঙ্গে আবুধাবির এনসিবিকেও আবেদনের অনুলিপি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে সরাসরি কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় দেশটির অভ্যন্তরীণ আইন এবং পারস্পরিকতার নীতির ভিত্তিতে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য, ৮ জুলাই ইউএইর বিচার মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের কাছে অতিরিক্ত কিছু তথ্য ও নথি চায়। পরে ৪ আগস্ট প্রয়োজনীয় সহায়ক নথি পাঠানো হয়। এরপর ২২ আগস্ট ইউএই কর্তৃপক্ষ আরও কিছু আইনি ব্যাখ্যা ও নথি চেয়েছে। এসব বিষয়ে আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জবাব দেওয়ার সময়সীমা রয়েছে।
বেনজীরকে ফেরানোর কাজে সহায়তার জন্য আবুধাবিতে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠানকেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, প্রত্যর্পণের বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করতে হয়। তাই শুধু কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কাউকে অন্য দেশ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
ইউএই থেকে বেনজীর আহমেদ সেন্ট লুসিয়ায় চলে গেছেন—এমন খবরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। অন্য কোনো দেশে তার অবস্থান নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদেশে বেনজীর ও তার পরিবারের সম্পদের তথ্য সংগ্রহেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (এমএলএ) অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী সম্পদ জব্দ, বাজেয়াপ্ত বা দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেনজীরের জামিনের বিষয়েও সংসদে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জামিন পাওয়ার অর্থ প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। আদালতের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই একজন আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হয়। এ কারণে জামিনকে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা বা ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।




























