ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়ান দিয়োমান্দে: রিয়ালের নতুন তারকার অনুপ্রেরণা রোনালদো

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:০০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫৪৭

রিয়াল মাদ্রিদের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া তরুণ উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দে। ছবি: সংগৃহীত

ইয়ান দিয়োমান্দে এখন ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তরুণ নাম। মাত্র কয়েক মাস আগেও যাঁকে খুব কম মানুষ চিনতেন, সেই আইভরিকোস্টের ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার এখন রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে। তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা ইতোমধ্যেই বড় বড় ক্লাবের নজর কাড়েছে। যদিও অনেকেই তাঁকে ‘নতুন মেসি’ বলে ডাকেন, কিন্তু ছোটবেলা থেকেই তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

দিয়োমান্দের ফুটবল যাত্রা শুরু হয়েছিল অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফুটবল একাডেমিতে খেলতে খেলতেই তাঁর প্রতিভা নজরে আসে লেগানেসের মালিক জেফ লুনাওয়ের। একটি ভিডিও দেখেই তিনি কোচকে বলেছিলেন, ‘আমরা নতুন মেসিকে পেয়ে গেছি।’ এরপর লেগানেসে সুযোগ পেয়ে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেন এই তরুণ। দুই পায়ে সমান দক্ষতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং আক্রমণে ধারাবাহিকতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

লেগানেসের হয়ে কয়েকটি ম্যাচ খেলেই দিয়োমান্দে ইউরোপীয় ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। কোচ বোর্হা হিমেনেস তাঁর পারফরম্যান্সে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, তিনি বিশ্বাস করতেন মৌসুমের শুরু থেকেই দলে থাকলে ক্লাবের অবস্থানই বদলে যেত। পরবর্তীতে আরবি লাইপজিগে যোগ দিয়ে নিজের উন্নতির ধারা ধরে রাখেন। সেখানে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরই তাঁকে দলে ভেড়াতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে রাজি হয় রিয়াল মাদ্রিদ।

তবে দিয়োমান্দের জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই ছিল মাঠের বাইরে। তাঁর ছোট বোন রোকসানের অকাল মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে তিনি ফুটবলে আরও মনোযোগী হন। এক খোলা চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, বোনকে হারানোর কষ্ট তাঁকে প্রতিদিন নতুন করে লড়াই করার অনুপ্রেরণা দেয়। ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন অভিজ্ঞতা তাঁর মানসিক দৃঢ়তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

জাতীয় দলের হয়েও দ্রুত নিজের ছাপ রাখেন ইয়ান দিয়োমান্দে। বিশ্বকাপে আইভরিকোস্টের হয়ে অভিষেকেই ম্যাচসেরা হন এবং দেশের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ ফুটবলার হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েন। পরের ম্যাচেই অ্যাসিস্ট করে আরেকটি কীর্তি গড়েন। তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে, বয়স কম হলেও বড় মঞ্চের চাপ সামলানোর সক্ষমতা তাঁর রয়েছে।

এখন ইয়ান দিয়োমান্দের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। রোনালদোকে আদর্শ মানা এই তরুণের স্বপ্ন এখন বিশ্বের অন্যতম সফল ক্লাবের জার্সিতে নিজের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটানো। যদি বর্তমান ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন, তাহলে আগামী কয়েক বছরে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা উইঙ্গার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা তাঁর জন্য অসম্ভব হবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়ান দিয়োমান্দে: রিয়ালের নতুন তারকার অনুপ্রেরণা রোনালদো

Update Time : ০১:০০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ইয়ান দিয়োমান্দে এখন ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তরুণ নাম। মাত্র কয়েক মাস আগেও যাঁকে খুব কম মানুষ চিনতেন, সেই আইভরিকোস্টের ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার এখন রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে। তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা ইতোমধ্যেই বড় বড় ক্লাবের নজর কাড়েছে। যদিও অনেকেই তাঁকে ‘নতুন মেসি’ বলে ডাকেন, কিন্তু ছোটবেলা থেকেই তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

দিয়োমান্দের ফুটবল যাত্রা শুরু হয়েছিল অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফুটবল একাডেমিতে খেলতে খেলতেই তাঁর প্রতিভা নজরে আসে লেগানেসের মালিক জেফ লুনাওয়ের। একটি ভিডিও দেখেই তিনি কোচকে বলেছিলেন, ‘আমরা নতুন মেসিকে পেয়ে গেছি।’ এরপর লেগানেসে সুযোগ পেয়ে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেন এই তরুণ। দুই পায়ে সমান দক্ষতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং আক্রমণে ধারাবাহিকতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

আরও পড়ুন  রেকর্ড ভেঙে হ্যাটট্রিক, ম্যাচসেরা মেসি

লেগানেসের হয়ে কয়েকটি ম্যাচ খেলেই দিয়োমান্দে ইউরোপীয় ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। কোচ বোর্হা হিমেনেস তাঁর পারফরম্যান্সে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, তিনি বিশ্বাস করতেন মৌসুমের শুরু থেকেই দলে থাকলে ক্লাবের অবস্থানই বদলে যেত। পরবর্তীতে আরবি লাইপজিগে যোগ দিয়ে নিজের উন্নতির ধারা ধরে রাখেন। সেখানে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরই তাঁকে দলে ভেড়াতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে রাজি হয় রিয়াল মাদ্রিদ।

আরও পড়ুন  আজ রাতে মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ-রিয়াল সোসিয়েদাদ

তবে দিয়োমান্দের জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই ছিল মাঠের বাইরে। তাঁর ছোট বোন রোকসানের অকাল মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে তিনি ফুটবলে আরও মনোযোগী হন। এক খোলা চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, বোনকে হারানোর কষ্ট তাঁকে প্রতিদিন নতুন করে লড়াই করার অনুপ্রেরণা দেয়। ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন অভিজ্ঞতা তাঁর মানসিক দৃঢ়তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

জাতীয় দলের হয়েও দ্রুত নিজের ছাপ রাখেন ইয়ান দিয়োমান্দে। বিশ্বকাপে আইভরিকোস্টের হয়ে অভিষেকেই ম্যাচসেরা হন এবং দেশের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ ফুটবলার হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েন। পরের ম্যাচেই অ্যাসিস্ট করে আরেকটি কীর্তি গড়েন। তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই প্রমাণ করে, বয়স কম হলেও বড় মঞ্চের চাপ সামলানোর সক্ষমতা তাঁর রয়েছে।

আরও পড়ুন  রোনালদোর গোল, পর্তুগালের

এখন ইয়ান দিয়োমান্দের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। রোনালদোকে আদর্শ মানা এই তরুণের স্বপ্ন এখন বিশ্বের অন্যতম সফল ক্লাবের জার্সিতে নিজের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটানো। যদি বর্তমান ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন, তাহলে আগামী কয়েক বছরে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা উইঙ্গার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা তাঁর জন্য অসম্ভব হবে না।