ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

রেকর্ড ভেঙে হ্যাটট্রিক, ম্যাচসেরা মেসি

ম্যাচসেরা মেসি

৩৮ বছর বয়সেও থামার কোনো লক্ষণ নেই লিওনেল মেসির। রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে নেমেই হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় এনে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় কানসাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর্জেন্টিনার খেলার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি, যিনি একাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে প্রথম গোলটি আসে মেসির পা থেকে। মিডফিল্ড থেকে রদ্রিগো দি পলের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শট নেন তিনি। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক দুই হাত লাগিয়েও বলের গতি থামাতে পারেননি।

প্রথম গোলের পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় আর্জেন্টিনার। বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে লিওনেল স্কালোনির দল। তবে প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে নেমে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন মেসি। ম্যাচের ৬০ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান ঠেকালেও বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এই গোলটি ছিল বিশ্বকাপে মেসির ১৫তম গোল। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে আসা এই মহাতারকা আরও একবার নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেন। বয়স যে শুধুই একটি সংখ্যা, সেটিও দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি।

ম্যাচের ৭৬ মিনিটে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। নিকোলাস গঞ্জালেসের কাছ থেকে বল পেয়ে বুলেট গতির শটে বল জালে জড়ান তিনি। সেই মুহূর্তেই কানসাস স্টেডিয়ামে উপস্থিত সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো গ্যালারি।

এই ম্যাচটি মেসির জন্য আরও বিশেষ ছিল আরেকটি কারণে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি ছিল তাঁর ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এমন একটি মাইলফলকের দিনে হ্যাটট্রিক করে স্মরণীয় করে রাখলেন নিজের উপস্থিতি।

হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০-এ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এত দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা খুব কম ফুটবলারের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। সেই তালিকায় মেসি নিজেকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছেন।

বিশ্বকাপে নামার আগে পাঁচটি আসরে মেসির গোল ছিল ১৩টি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিন গোল যোগ হওয়ায় তাঁর বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। এতে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি।

এখন আর মাত্র একটি গোল করলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসবেন মেসি। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই এমন এক সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর অসাধারণ ক্যারিয়ারেরই আরেকটি অধ্যায়।

ম্যাচের ৮০ মিনিটে অধিনায়ককে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তখন পর্যন্ত ম্যাচের ফল অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতেও দেখা যায়।

ম্যাচ শেষে প্রকাশিত রেটিংয়ে মেসি পেয়েছেন ৮.৯৯ পয়েন্ট। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এটিই ছিল ম্যাচের সর্বোচ্চ রেটিং। গোল, নেতৃত্ব এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্স মিলিয়ে তিনিই ছিলেন দিনের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা।

এই জয়ে বিশ্বকাপ মিশন দারুণভাবে শুরু করল আর্জেন্টিনা। ‘জে’ গ্রুপে তাদের পরবর্তী দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। প্রথম ম্যাচের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারলে টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন আরও শক্ত ভিত্তি পাবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

টঙ্গীতে ৯৯৯-এর ফোনকলে ১৬ পাখি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

রেকর্ড ভেঙে হ্যাটট্রিক, ম্যাচসেরা মেসি

Update Time : ০২:১৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

৩৮ বছর বয়সেও থামার কোনো লক্ষণ নেই লিওনেল মেসির। রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে নেমেই হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের জয় এনে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় কানসাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর্জেন্টিনার খেলার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি, যিনি একাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে প্রথম গোলটি আসে মেসির পা থেকে। মিডফিল্ড থেকে রদ্রিগো দি পলের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শট নেন তিনি। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক দুই হাত লাগিয়েও বলের গতি থামাতে পারেননি।

প্রথম গোলের পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় আর্জেন্টিনার। বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে লিওনেল স্কালোনির দল। তবে প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় তারা।

আরও পড়ুন  প্রথমবার বিশ্বকাপে উঠে চমকে দিল কেপ ভার্দে

দ্বিতীয়ার্ধে নেমে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন মেসি। ম্যাচের ৬০ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান ঠেকালেও বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এই গোলটি ছিল বিশ্বকাপে মেসির ১৫তম গোল। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে আসা এই মহাতারকা আরও একবার নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেন। বয়স যে শুধুই একটি সংখ্যা, সেটিও দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি।

ম্যাচের ৭৬ মিনিটে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। নিকোলাস গঞ্জালেসের কাছ থেকে বল পেয়ে বুলেট গতির শটে বল জালে জড়ান তিনি। সেই মুহূর্তেই কানসাস স্টেডিয়ামে উপস্থিত সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো গ্যালারি।

আরও পড়ুন  মেসির হুঁশিয়ারি: আমাদের হারানো অনেক কঠিন

এই ম্যাচটি মেসির জন্য আরও বিশেষ ছিল আরেকটি কারণে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি ছিল তাঁর ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এমন একটি মাইলফলকের দিনে হ্যাটট্রিক করে স্মরণীয় করে রাখলেন নিজের উপস্থিতি।

হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০-এ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এত দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা খুব কম ফুটবলারের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। সেই তালিকায় মেসি নিজেকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছেন।

বিশ্বকাপে নামার আগে পাঁচটি আসরে মেসির গোল ছিল ১৩টি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে তিন গোল যোগ হওয়ায় তাঁর বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। এতে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি।

এখন আর মাত্র একটি গোল করলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসবেন মেসি। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই এমন এক সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর অসাধারণ ক্যারিয়ারেরই আরেকটি অধ্যায়।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল কিংবদন্তি ব্রিতো আর নেই, শোকে ফুটবল বিশ্ব

ম্যাচের ৮০ মিনিটে অধিনায়ককে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তখন পর্যন্ত ম্যাচের ফল অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতেও দেখা যায়।

ম্যাচ শেষে প্রকাশিত রেটিংয়ে মেসি পেয়েছেন ৮.৯৯ পয়েন্ট। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এটিই ছিল ম্যাচের সর্বোচ্চ রেটিং। গোল, নেতৃত্ব এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্স মিলিয়ে তিনিই ছিলেন দিনের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা।

এই জয়ে বিশ্বকাপ মিশন দারুণভাবে শুরু করল আর্জেন্টিনা। ‘জে’ গ্রুপে তাদের পরবর্তী দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। প্রথম ম্যাচের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারলে টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন আরও শক্ত ভিত্তি পাবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।