ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হকিতে ইউরোপের ছোঁয়া, বাংলাদেশকে বদলে দিতে চান কোচ

বাংলাদেশ হকি দল

বাংলাদেশ হকি দলকে ইউরোপীয় ঘরানায় রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছেন নবনিযুক্ত জার্মান হেড কোচ পিটার গেরহার্ড। এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে লাল-সবুজদের প্রথম অনুশীলন সেশন পরিচালনা করেন তিনি। অনুশীলনের প্রথম দিনেই নিজের পরিকল্পনা ও লক্ষ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন এই জার্মান কোচ। তার মতে, আধুনিক ইউরোপীয় হকির ধাঁচ আয়ত্ত করতে পারলে বাংলাদেশ এশিয়ার যেকোনো দলের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠবে।

এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির জন্য গেরহার্ডের হাতে সময় খুব বেশি নেই। মাত্র চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যেই দলকে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। সীমিত সময়ের এই চ্যালেঞ্জকে তিনি ‘মিশন ইম্পসিবল’ বা অসম্ভব মিশন হিসেবে উল্লেখ করলেও সাফল্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। তার বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই কঠিন লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গেরহার্ড বলেন, “আমাদের লক্ষ্য অর্জনে হাতে সময় মাত্র চার-পাঁচ সপ্তাহ। কাজটা নিঃসন্দেহে মিশন ইম্পসিবল। কিন্তু আমরা এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখাব।” তার এই দৃঢ় প্রত্যয় নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে দেশের হকি অঙ্গনকে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ হকির জন্য এটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইউরোপীয় হকির কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গেরহার্ড বেশ কিছু আন্তর্জাতিক উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১২ সালে আর্জেন্টিনা তাদের পুরো দলকে জার্মানিতে নিয়ে গিয়ে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে খেলিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ফল হিসেবেই ২০১৬ রিও অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতেছিল দেশটি। এই উদাহরণ তার পরিকল্পনার বাস্তবতা ও কার্যকারিতাকেই সামনে আনে।

শুধু আর্জেন্টিনা নয়, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলগুলোর খেলোয়াড়রাও এখন নিয়মিত ইউরোপে অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। গেরহার্ডের মতে, আধুনিক হকির গতি ও কৌশল এতটাই বদলে গেছে যে আন্তর্জাতিক মানে টিকে থাকতে ইউরোপীয় অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই। বিশ্বের অনেক দেশই এখন নিজেদের খেলোয়াড়দের দক্ষতা বাড়াতে এই পথ অনুসরণ করছে।

আধুনিক হকির সঙ্গে তাল মেলাতে দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো এশিয়ার সফল দলগুলোও তাদের খেলোয়াড়দের ইউরোপের ক্লাবগুলোতে পাঠাচ্ছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকতে চায় না। তাই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতীয় দলকে জার্মানি সফরে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বিএইচএফ)।

পরিকল্পনা অনুযায়ী জার্মানিতে অবস্থানকালে ইউরোপের কয়েকটি শীর্ষ দলের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সফরের শেষ দিকে বর্তমান জার্মান চ্যাম্পিয়ন ক্লাবের বিপক্ষেও মাঠে নামার কথা রয়েছে। এই ম্যাচগুলো খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজের দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পিটার গেরহার্ড বলেন, “ইউরোপীয় হকির খেলার ধরণ সম্পূর্ণ আলাদা। আমার মূল লক্ষ্য দলে এই আধুনিক ও ইউরোপীয় শৈলী নিয়ে আসা। আমরা যদি এটি ঠিকঠাক আয়ত্ত করতে পারি, তবে এশিয়ান গেমসে এশিয়ার অন্য দলগুলো আমাদের বিপক্ষে চরম বিপদে পড়বে।” তার এই আত্মবিশ্বাসই এখন বাংলাদেশের হকির নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হকিতে ইউরোপের ছোঁয়া, বাংলাদেশকে বদলে দিতে চান কোচ

Update Time : ০৮:০২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ হকি দলকে ইউরোপীয় ঘরানায় রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছেন নবনিযুক্ত জার্মান হেড কোচ পিটার গেরহার্ড। এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে লাল-সবুজদের প্রথম অনুশীলন সেশন পরিচালনা করেন তিনি। অনুশীলনের প্রথম দিনেই নিজের পরিকল্পনা ও লক্ষ্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন এই জার্মান কোচ। তার মতে, আধুনিক ইউরোপীয় হকির ধাঁচ আয়ত্ত করতে পারলে বাংলাদেশ এশিয়ার যেকোনো দলের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠবে।

এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির জন্য গেরহার্ডের হাতে সময় খুব বেশি নেই। মাত্র চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যেই দলকে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। সীমিত সময়ের এই চ্যালেঞ্জকে তিনি ‘মিশন ইম্পসিবল’ বা অসম্ভব মিশন হিসেবে উল্লেখ করলেও সাফল্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। তার বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই কঠিন লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

আরও পড়ুন  ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গেরহার্ড বলেন, “আমাদের লক্ষ্য অর্জনে হাতে সময় মাত্র চার-পাঁচ সপ্তাহ। কাজটা নিঃসন্দেহে মিশন ইম্পসিবল। কিন্তু আমরা এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখাব।” তার এই দৃঢ় প্রত্যয় নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে দেশের হকি অঙ্গনকে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ হকির জন্য এটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইউরোপীয় হকির কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গেরহার্ড বেশ কিছু আন্তর্জাতিক উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১২ সালে আর্জেন্টিনা তাদের পুরো দলকে জার্মানিতে নিয়ে গিয়ে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে খেলিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ফল হিসেবেই ২০১৬ রিও অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতেছিল দেশটি। এই উদাহরণ তার পরিকল্পনার বাস্তবতা ও কার্যকারিতাকেই সামনে আনে।

আরও পড়ুন  যে ৬ কারণে বিশ্বকাপ জিততে পারে ব্রাজিল

শুধু আর্জেন্টিনা নয়, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলগুলোর খেলোয়াড়রাও এখন নিয়মিত ইউরোপে অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। গেরহার্ডের মতে, আধুনিক হকির গতি ও কৌশল এতটাই বদলে গেছে যে আন্তর্জাতিক মানে টিকে থাকতে ইউরোপীয় অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই। বিশ্বের অনেক দেশই এখন নিজেদের খেলোয়াড়দের দক্ষতা বাড়াতে এই পথ অনুসরণ করছে।

আধুনিক হকির সঙ্গে তাল মেলাতে দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো এশিয়ার সফল দলগুলোও তাদের খেলোয়াড়দের ইউরোপের ক্লাবগুলোতে পাঠাচ্ছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকতে চায় না। তাই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাতীয় দলকে জার্মানি সফরে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বিএইচএফ)।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ র‌্যাঙ্কিং অভিশাপ: ইতিহাস কি এবার বদলাবে?

পরিকল্পনা অনুযায়ী জার্মানিতে অবস্থানকালে ইউরোপের কয়েকটি শীর্ষ দলের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সফরের শেষ দিকে বর্তমান জার্মান চ্যাম্পিয়ন ক্লাবের বিপক্ষেও মাঠে নামার কথা রয়েছে। এই ম্যাচগুলো খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজের দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পিটার গেরহার্ড বলেন, “ইউরোপীয় হকির খেলার ধরণ সম্পূর্ণ আলাদা। আমার মূল লক্ষ্য দলে এই আধুনিক ও ইউরোপীয় শৈলী নিয়ে আসা। আমরা যদি এটি ঠিকঠাক আয়ত্ত করতে পারি, তবে এশিয়ান গেমসে এশিয়ার অন্য দলগুলো আমাদের বিপক্ষে চরম বিপদে পড়বে।” তার এই আত্মবিশ্বাসই এখন বাংলাদেশের হকির নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।