ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাল কার্ডে ক্ষুব্ধ সুইস কোচ, ‘এই নিয়মে ম্যাচ নষ্ট হয়েছে’

লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রিল এমবলো

ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-১ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর রেফারিং এবং নতুন ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়ম নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন। তার দাবি, বিতর্কিত লাল কার্ডের সিদ্ধান্তই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের বিদায়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শুরু হওয়া ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পিছিয়ে পড়লেও সুইজারল্যান্ড ধৈর্য ধরে খেলতে থাকে এবং সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরে সুইসরা। ৬৭ মিনিটে ড্যান এনডয়ে গোল করে স্কোরলাইন ১-১ করেন। গোলের পর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং দুই দলই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময়েই ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা।

একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবলো। প্রথমে রেফারি পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। তবে পরে ভিএআরের পরামর্শে রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন ম্যাচ কর্মকর্তা।

রিপ্লেতে দেখা যায়, পারেদেসের সংস্পর্শে আসার আগেই এমবলো পড়ে যান। এরপর রেফারি মনে করেন, সুইস ফরোয়ার্ড ইচ্ছাকৃতভাবে ডাইভ দিয়েছেন। নতুন ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ প্রটোকল প্রয়োগ করে পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করা হয় এবং এমবলোকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই একটি হলুদ কার্ড পাওয়া ছিল এমবলোর। ফলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে তাকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য করেন রেফারি। ১০ জনের দলে পরিণত হলেও সুইজারল্যান্ড দারুণ লড়াই চালিয়ে যায় এবং ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

তবে অতিরিক্ত সময়ে সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগায় আর্জেন্টিনা। ১১২ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে এগিয়ে যায় দলটি। পরে যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজ গোল করলে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন। তিনি বলেন, রেফারির একটি ভুলের জন্য তাদের বড় মূল্য দিতে হয়েছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে ভিএআরের হস্তক্ষেপ এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইয়াকিন আরও বলেন, তিনি আগে এই নিয়ম সম্পর্কে জানতেন না এবং তার মতে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরোর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। সুইস কোচের ভাষায়, এমন নিয়মের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া অত্যন্ত কষ্টের এবং তার দল এই পরাজয়ের যোগ্য ছিল না।

সুইজারল্যান্ডের অধিনায়ক গ্রানিত জাকাও একই সুরে কথা বলেন। তার মতে, এমবলোর লাল কার্ডই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তিনি জানান, ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে হতাশার ছাপ ছিল স্পষ্ট এবং এমন একটি সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া খেলোয়াড়দের জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

লাল কার্ডে ক্ষুব্ধ সুইস কোচ, ‘এই নিয়মে ম্যাচ নষ্ট হয়েছে’

Update Time : ১২:৪৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-১ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর রেফারিং এবং নতুন ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়ম নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন। তার দাবি, বিতর্কিত লাল কার্ডের সিদ্ধান্তই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের বিদায়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শুরু হওয়া ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০ মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে এগিয়ে যায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। পিছিয়ে পড়লেও সুইজারল্যান্ড ধৈর্য ধরে খেলতে থাকে এবং সুযোগের অপেক্ষায় থাকে।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরে সুইসরা। ৬৭ মিনিটে ড্যান এনডয়ে গোল করে স্কোরলাইন ১-১ করেন। গোলের পর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং দুই দলই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময়েই ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টিনা পাকিস্তান ম্যাচ: মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আলোচনা শুরু

একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবলো। প্রথমে রেফারি পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। তবে পরে ভিএআরের পরামর্শে রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন ম্যাচ কর্মকর্তা।

রিপ্লেতে দেখা যায়, পারেদেসের সংস্পর্শে আসার আগেই এমবলো পড়ে যান। এরপর রেফারি মনে করেন, সুইস ফরোয়ার্ড ইচ্ছাকৃতভাবে ডাইভ দিয়েছেন। নতুন ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ প্রটোকল প্রয়োগ করে পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করা হয় এবং এমবলোকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই একটি হলুদ কার্ড পাওয়া ছিল এমবলোর। ফলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে তাকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য করেন রেফারি। ১০ জনের দলে পরিণত হলেও সুইজারল্যান্ড দারুণ লড়াই চালিয়ে যায় এবং ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টিনাকে হারানো অসম্ভব নয়, কোয়ার্টার ফাইনালের আগে হুঁশিয়ারি

তবে অতিরিক্ত সময়ে সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগায় আর্জেন্টিনা। ১১২ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে এগিয়ে যায় দলটি। পরে যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজ গোল করলে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা।

ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন। তিনি বলেন, রেফারির একটি ভুলের জন্য তাদের বড় মূল্য দিতে হয়েছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে ভিএআরের হস্তক্ষেপ এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন  আর্জেন্টিনাকে সবচেয়ে বেশি গোল দেওয়া দলগুলো কারা? জানুন ইতিহাস

ইয়াকিন আরও বলেন, তিনি আগে এই নিয়ম সম্পর্কে জানতেন না এবং তার মতে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরোর সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। সুইস কোচের ভাষায়, এমন নিয়মের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া অত্যন্ত কষ্টের এবং তার দল এই পরাজয়ের যোগ্য ছিল না।

সুইজারল্যান্ডের অধিনায়ক গ্রানিত জাকাও একই সুরে কথা বলেন। তার মতে, এমবলোর লাল কার্ডই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তিনি জানান, ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে হতাশার ছাপ ছিল স্পষ্ট এবং এমন একটি সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া খেলোয়াড়দের জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়েছিল।