ঢাকা ০১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বাড়ছে, কমছে নতুন অর্থায়ন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৬

বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ বাড়লেও কমছে নতুন অর্থায়ন। ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি ঋণ পরিশোধ নিয়ে বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। গত এক বছরে আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ অর্থ ঋণের কিস্তি হিসেবে পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি অর্থছাড় কমেছে। ফলে নতুন অর্থায়নের প্রবাহ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। অন্যদিকে, বিভিন্ন প্রকল্পে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ ছাড় কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ। দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঋণদাতা সংস্থাও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজন ও সক্ষমতা বিবেচনা করেই বিদেশি ঋণের আবেদন করা হচ্ছে। এতে সাময়িকভাবে অর্থের প্রবাহ কমলেও ভবিষ্যতে তা আবার বাড়তে পারে।

গত দুই বছরে বিদেশি ঋণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে এর চেয়েও বেশি অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসে বাংলাদেশ প্রায় ৪১৩ কোটি ডলার বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেছে। এর বড় অংশ গেছে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপানের ঋণ পরিশোধে।

এদিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে কয়েকটি দেশের কাছ থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী ভারত নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে আগের লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় অর্থ ছাড় অব্যাহত রয়েছে।

রাশিয়ার কাছ থেকেও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি আসেনি। দেশটির অর্থায়ন মূলত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যেই সীমিত রয়েছে। অন্যদিকে, জাপান আগের প্রতিশ্রুত ঋণের অর্থ ছাড় করেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মনজুর হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার কোটি ডলার। প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কমে যাওয়ায় উন্নয়ন সহযোগীরা নতুন প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড়ের ক্ষেত্রে ধীরগতি দেখাচ্ছে।

তবে আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। বাজেট সহায়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে বিশ্বব্যাংক থেকে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে।

অন্যদিকে, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিকদের মাথাপিছু বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি ঋণ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রাখতে হলে নতুন ঋণ গ্রহণের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়ানো এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশি ঋণ পরিশোধে চাপ বাড়ছে, কমছে নতুন অর্থায়ন

Update Time : ১২:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

বিদেশি ঋণ পরিশোধ নিয়ে বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। গত এক বছরে আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ অর্থ ঋণের কিস্তি হিসেবে পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি অর্থছাড় কমেছে। ফলে নতুন অর্থায়নের প্রবাহ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। অন্যদিকে, বিভিন্ন প্রকল্পে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ ছাড় কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ। দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঋণদাতা সংস্থাও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজন ও সক্ষমতা বিবেচনা করেই বিদেশি ঋণের আবেদন করা হচ্ছে। এতে সাময়িকভাবে অর্থের প্রবাহ কমলেও ভবিষ্যতে তা আবার বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-চীন জি-টু-জি চুক্তিতে গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা

গত দুই বছরে বিদেশি ঋণ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে এর চেয়েও বেশি অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসে বাংলাদেশ প্রায় ৪১৩ কোটি ডলার বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেছে। এর বড় অংশ গেছে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপানের ঋণ পরিশোধে।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালী সংকটে তেলের দাম আকাশছোঁয়া, বিশ্ববাজারে নতুন রেকর্ড

এদিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে কয়েকটি দেশের কাছ থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী ভারত নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে আগের লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় অর্থ ছাড় অব্যাহত রয়েছে।

রাশিয়ার কাছ থেকেও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি আসেনি। দেশটির অর্থায়ন মূলত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যেই সীমিত রয়েছে। অন্যদিকে, জাপান আগের প্রতিশ্রুত ঋণের অর্থ ছাড় করেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মনজুর হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার কোটি ডলার। প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কমে যাওয়ায় উন্নয়ন সহযোগীরা নতুন প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড়ের ক্ষেত্রে ধীরগতি দেখাচ্ছে।

আরও পড়ুন  সিম কার্ড কর প্রত্যাহার: সুখবর পেল মোবাইল ব্যবহারকারীরা

তবে আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। বাজেট সহায়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে বিশ্বব্যাংক থেকে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে।

অন্যদিকে, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিকদের মাথাপিছু বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি ঋণ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রাখতে হলে নতুন ঋণ গ্রহণের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়ানো এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।