ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ ক্রুদের উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীও ওই পাইলটদের খুঁজছে। ইতোমধ্যে ওয়াশিংটন তাদের একজন ক্রুকে সফলভাবে উদ্ধারের দাবি করলেও বাকিদের সন্ধানে এখনো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু: দক্ষিণ ইরান ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমান মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
-
উদ্ধার অভিযান: নিখোঁজ ক্রুদের অবস্থান শনাক্ত করতে দুটি হেলিকপ্টার এবং একটি এ-১০ (A-10) যুদ্ধবিমান নিয়ে তল্লাশি শুরু করে মার্কিন বাহিনী।
-
হামলার শিকার হেলিকপ্টার: সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া একটি হেলিকপ্টার ছোট অস্ত্রের গুলির মুখে পড়ে। এতে ভেতরের কয়েকজন ক্রু আহত হলেও হেলিকপ্টারটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
দ্বিতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি প্রথম যুদ্ধবিমানটির উদ্ধার অভিযান চলাকালেই পারস্য উপসাগরের আকাশে আরও একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান (এ-১০) ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, এ-১০ বিমানটিতে আঘাত লাগার পর এর পাইলট নিরাপদে প্যারাস্যুটের সাহায্যে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন এবং পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য তৎপরতা
-
যাচাইকৃত ফুটেজ: খুজেস্তান প্রদেশের কারুন নদীর ওপর একটি সেতুর কাছে ধারণ করা একটি ভিডিও সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। এআই-মুক্ত এই ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি মার্কিন বিমান ও দুটি হেলিকপ্টার ওই এলাকায় নিবিড় তল্লাশি চালাচ্ছে।
-
ইসরায়েলের পদক্ষেপ: এই উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্ন করতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সাময়িকভাবে ওই অঞ্চলে তাদের পরিকল্পিত হামলা স্থগিত রেখেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
আলোচনায় প্রভাব পড়বে না: ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসি নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার এই আকস্মিক ঘটনা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কোনো কূটনৈতিক বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় প্রভাব ফেলবে না।
মাঠে নামছে বিমানবাহিনীর ‘সুইস আর্মি নাইফ’ নিখোঁজ মার্কিন ক্রুদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকা চষে বেড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল। মার্কিন বিমানবাহিনীর প্যারা-রেসকিউ জাম্পারদের (যাদের বিমানবাহিনীর ‘সুইস আর্মি নাইফ’ বলা হয়) এক সাবেক কমান্ডার জানিয়েছেন:
-
হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারে না এমন দুর্গম অঞ্চলে প্রয়োজনে এসি-১৩০ (AC-130) গানশিপ থেকে স্কোয়াড নামিয়ে স্থলপথে অভিযান চলবে।
-
এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য হলো নিখোঁজ ক্রুদের সাথে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করা, প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া, শত্রুদের এড়িয়ে বা প্রতিহত করে তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা।
এই বাহিনীর কাজকে ‘ভয়াবহ এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ওই কর্মকর্তা। নিখোঁজ অপর ক্রুর ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছে, তা জানতে এখনো প্রহর গুনছে সবাই।
সূত্র : বিবিসি
























