ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত দম সিনেমাটি শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং বাস্তব জীবনের এক গভীর সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। পরিচালক রেদওয়ান রনি এই গল্পকে বড় পর্দায় নিয়ে আসেন, যেখানে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো। সিনেমাটি ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
এই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু মো. নূর ইসলাম, যিনি ২০০৮ সালে আফগানিস্তানে ভয়াবহ এক অপহরণের শিকার হন। অজানা অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে বন্দি করে রাখা হয় এবং তাঁর জীবনের ওপর নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। দীর্ঘ সময় তিনি মৃত্যুভয়ের মধ্যে দিন কাটান।
নূর ইসলামের অভিজ্ঞতা শুধু শারীরিক কষ্টের নয়, মানসিকভাবেও ছিল অত্যন্ত কঠিন। একসময় তাঁকে হত্যা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং তিনি বুঝতে পারেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত ঘনিয়ে এসেছে। সেই সংকটময় সময়ে তিনি নিজেকে মানসিকভাবে শক্ত রাখার চেষ্টা করেন।
তিনি জানান, সবচেয়ে ভয়ংকর মুহূর্তে তিনি আল্লাহর কাছে সাহায্য চান এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে দোয়া পড়তে থাকেন। তাঁর ভাষায়, সেই মুহূর্তে তিনি এমন এক শক্তি অনুভব করেন যা তাঁকে আশা ধরে রাখতে সাহায্য করে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, বহুবার চেষ্টা করার পরও অপহরণকারীরা তাঁকে হত্যা করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে তিনি আল্লাহর রহমত এবং মানুষের দোয়ার ফল হিসেবে দেখেন।
এই পুরো ঘটনার পেছনে তাঁর স্ত্রীর সংগ্রাম ছিল সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আনোয়ারা পারভীন কখনোই আশা হারাননি এবং বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে স্বামীর খোঁজ চালিয়ে যান। তাঁর অটুট বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত এই গল্পকে একটি সফল পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।
সিনেমাটিতে নূর ইসলামের চরিত্রে অভিনয় করে আফরান নিশো নতুনভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। তাঁর অভিনয় বাস্তব জীবনের আবেগকে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, পূজা চেরী-র অভিনয়ও গল্পটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
পরিচালক রেদওয়ান রনি এই গল্প নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি মনে করেন, এটি শুধু একজন মানুষের গল্প নয়, বরং এটি সংগ্রাম, বিশ্বাস এবং বেঁচে থাকার এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
নূর ইসলাম তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে তরুণদের উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন—জীবনে যত কঠিন পরিস্থিতিই আসুক, আশা হারানো যাবে না। তাঁর মতে, যতক্ষণ জীবনে ‘দম’ আছে, ততক্ষণ লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
বর্তমানে ‘দম’ সিনেমাটি দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং এমন একটি গল্প যা মানুষকে অনুপ্রাণিত করে এবং জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয়।






























