ঢাকা ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: আতঙ্ক নয়, বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের আহ্বান Logo ৪৪ রাষ্ট্রীয় শিল্প ইজারা নয়, প্রতিরোধের ডাক জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল Logo ছোট আঁচড়, বড় বিপদ! পোষা প্রাণীর কামড়ে জলাতঙ্কের ঝুঁকি Logo রাকসু ভিপি সাংবাদিকদের সতর্কবার্তা দিলেন Logo চট্টগ্রাম ওয়াসা: সিস্টেম লসে ৭৮ কোটি টাকার পানি Logo আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সঞ্চয়পত্র, বাড়ছে বিনিয়োগকারীর আগ্রহ Logo কুমিল্লা মাদক ধ্বংস: বিজিবির বড় অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯২ লাখ টাকার সোনার বার উদ্ধার Logo সকালের মধ্যে ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত Logo ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা নিবাস কারাগারে, রিমান্ড শুনানি রবিবার

ভুঁড়ি বাড়লে পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে, জানুন কারণ ও প্রতিকার

  • Mir Yeaz Mahmud
  • Update Time : ১২:২১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ৫৫২

পেটের মেদ ও স্থূলতা পুরুষদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। | ছবি: সংগৃহীত

ভুঁড়ি বাড়লে পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বর্তমানে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। একসময় মধ্যবয়সীদের মধ্যে পেটের মেদ বেশি দেখা গেলেও এখন তরুণদের মাঝেও ভুঁড়ি বাড়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং মানসিক চাপ এই সমস্যার প্রধান কারণ।

পেটের চারপাশে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নষ্ট করে না, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ভুঁড়ি থাকলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং কিডনি জটিলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই পেটের মেদকে কেবল সৌন্দর্যের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

খাদ্যাভ্যাসের অনিয়ম ভুঁড়ি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি হলেও অনেক সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকে না। ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে জমে চর্বিতে রূপ নেয়। এছাড়া নিয়মিত কোমল পানীয়, মিষ্টি চা, বিস্কুট ও বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাসও ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

আধুনিক কর্মজীবনে দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করাও বড় একটি কারণ। অফিসের কাজ, যানজট এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার কারণে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে। এতে শরীরে জমা হওয়া ক্যালোরি খরচ না হয়ে পেটের চারপাশে চর্বি হিসেবে জমতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার পদক্ষেপ হাঁটার পরামর্শ দেন।

রাতের খাবার দেরিতে খাওয়ার অভ্যাসও ভুঁড়ি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। অনেকেই রাত ১০টা বা ১১টার পর খাবার খেয়ে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন। এতে খাবার হজমে সমস্যা হয় এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি চর্বি হিসেবে জমার সুযোগ পায়। তাই রাতের খাবার যতটা সম্ভব সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে শেষ করা ভালো।

এদিকে মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতিও স্থূলতার জন্য দায়ী। দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বাড়ে এবং ওজন বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।

ভুঁড়ি বাড়লে পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রতিদিনের খাবারে ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল, দুধ ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত। পাশাপাশি চিনি ও জাঙ্ক ফুড কম খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করলেই পেটের মেদ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: আতঙ্ক নয়, বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের আহ্বান

ভুঁড়ি বাড়লে পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে, জানুন কারণ ও প্রতিকার

Update Time : ১২:২১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ভুঁড়ি বাড়লে পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বর্তমানে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। একসময় মধ্যবয়সীদের মধ্যে পেটের মেদ বেশি দেখা গেলেও এখন তরুণদের মাঝেও ভুঁড়ি বাড়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং মানসিক চাপ এই সমস্যার প্রধান কারণ।

পেটের চারপাশে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নষ্ট করে না, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ভুঁড়ি থাকলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং কিডনি জটিলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই পেটের মেদকে কেবল সৌন্দর্যের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন  স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: শূন্যপদের তথ্য চাইল সরকার

খাদ্যাভ্যাসের অনিয়ম ভুঁড়ি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি হলেও অনেক সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকে না। ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে জমে চর্বিতে রূপ নেয়। এছাড়া নিয়মিত কোমল পানীয়, মিষ্টি চা, বিস্কুট ও বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাসও ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

আধুনিক কর্মজীবনে দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করাও বড় একটি কারণ। অফিসের কাজ, যানজট এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার কারণে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে। এতে শরীরে জমা হওয়া ক্যালোরি খরচ না হয়ে পেটের চারপাশে চর্বি হিসেবে জমতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার পদক্ষেপ হাঁটার পরামর্শ দেন।

আরও পড়ুন  রাতের খাবার না খেলে কী হয়? বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

রাতের খাবার দেরিতে খাওয়ার অভ্যাসও ভুঁড়ি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। অনেকেই রাত ১০টা বা ১১টার পর খাবার খেয়ে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন। এতে খাবার হজমে সমস্যা হয় এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি চর্বি হিসেবে জমার সুযোগ পায়। তাই রাতের খাবার যতটা সম্ভব সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে শেষ করা ভালো।

এদিকে মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতিও স্থূলতার জন্য দায়ী। দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বাড়ে এবং ওজন বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন  হটস্পট ৩০ উপজেলায় হামের সংক্রমণ কমেছে দ্রুত

ভুঁড়ি বাড়লে পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রতিদিনের খাবারে ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল, দুধ ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত। পাশাপাশি চিনি ও জাঙ্ক ফুড কম খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করলেই পেটের মেদ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।