ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ফুটবলারদের পানি কুলি করার রহস্য, জানুন বিজ্ঞান কী বলে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৩১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ৫২৬

কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স ক্রীড়াবিদদের পরিচিত একটি কৌশল। ছবি: সংগৃহীত

ফুটবলারদের পানি কুলি করার দৃশ্য ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুবই পরিচিত। ম্যাচ চলাকালে অনেক খেলোয়াড়কে বোতল থেকে পানীয় মুখে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড কুলি করে তা মাঠেই ফেলে দিতে দেখা যায়। প্রথম দেখায় এটি অস্বাভাবিক মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে ক্রীড়াবিজ্ঞানে স্বীকৃত একটি বিশেষ কৌশল, যা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সহায়তা করে।

এই পদ্ধতির নাম কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স। সাধারণত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ স্পোর্টস ড্রিংক কয়েক সেকেন্ড মুখে রেখে পরে গিলে না ফেলে ফেলে দেওয়া হয়। শুধু ফুটবলার নয়, ম্যারাথন দৌড়বিদ, সাইক্লিস্ট এবং দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রার ব্যায়াম করা অনেক ক্রীড়াবিদও এই কৌশল ব্যবহার করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শরীরে অতিরিক্ত শক্তি যোগানোর জন্য নয়; বরং মস্তিষ্ককে দ্রুত উদ্দীপিত করার একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।

গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মুখের ভেতরে এমন কিছু সংবেদনশীল রিসেপ্টর রয়েছে, যা কার্বোহাইড্রেট শনাক্ত করতে পারে। মুখে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় পৌঁছানোর পর সেই তথ্য মস্তিষ্কের এমন অংশে সংকেত পাঠায়, যা মনোযোগ, উদ্দীপনা এবং শরীরের নড়াচড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে শরীরে নতুন শক্তি প্রবেশ না করলেও মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে মনে করে শক্তির জোগান এসেছে, যা খেলোয়াড়ের মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা কিছু সময়ের জন্য বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

অনেকেই প্রশ্ন করেন, যদি উপকারই হয় তাহলে খেলোয়াড়রা পানীয়টি গিলে ফেলেন না কেন? এর কারণ হলো, ম্যাচের মাঝখানে অতিরিক্ত পানি বা স্পোর্টস ড্রিংক পান করলে পেট ভারী লাগতে পারে এবং দৌড়ানোর সময় অস্বস্তি সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে পানীয় গিলে ফেললে সেটি শরীরে কাজ করতে কিছুটা সময় লাগে, কিন্তু মুখে কয়েক সেকেন্ড রাখলেই মস্তিষ্ক প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সংকেত পেয়ে যায়। তাই দ্রুত ফল পেতে অনেক পেশাদার ফুটবলার এই পদ্ধতিই অনুসরণ করেন।

২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে এই কৌশলটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সে সময় ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন, পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ একাধিক ফুটবলারকে ম্যাচ চলাকালে কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স ব্যবহার করতে দেখা যায়। এরপর থেকেই বিষয়টি সাধারণ দর্শকদের মধ্যেও কৌতূহলের জন্ম দেয় এবং ক্রীড়াবিজ্ঞান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স কখনোই শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করতে পারে না। এটি শুধু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পারফরম্যান্সে সাময়িক সহায়তা করতে পারে। তাই খেলোয়াড়দের নিয়মিত পানি ও ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পান করতেই হয়। অর্থাৎ মাঠে ফুটবলারদের মুখে পানীয় নিয়ে কুলি করে ফেলে দিতে দেখলে সেটিকে পানি অপচয় ভাবার সুযোগ নেই; বরং এটি আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞানের একটি কার্যকর ও পরীক্ষিত কৌশল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুটবলারদের পানি কুলি করার রহস্য, জানুন বিজ্ঞান কী বলে

Update Time : ০১:৩১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ফুটবলারদের পানি কুলি করার দৃশ্য ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুবই পরিচিত। ম্যাচ চলাকালে অনেক খেলোয়াড়কে বোতল থেকে পানীয় মুখে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড কুলি করে তা মাঠেই ফেলে দিতে দেখা যায়। প্রথম দেখায় এটি অস্বাভাবিক মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে ক্রীড়াবিজ্ঞানে স্বীকৃত একটি বিশেষ কৌশল, যা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে সহায়তা করে।

এই পদ্ধতির নাম কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স। সাধারণত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ স্পোর্টস ড্রিংক কয়েক সেকেন্ড মুখে রেখে পরে গিলে না ফেলে ফেলে দেওয়া হয়। শুধু ফুটবলার নয়, ম্যারাথন দৌড়বিদ, সাইক্লিস্ট এবং দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রার ব্যায়াম করা অনেক ক্রীড়াবিদও এই কৌশল ব্যবহার করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শরীরে অতিরিক্ত শক্তি যোগানোর জন্য নয়; বরং মস্তিষ্ককে দ্রুত উদ্দীপিত করার একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।

আরও পড়ুন  হাসছেন ঠিকই, কিন্তু ভিতরে চাপ? চিনে নিন সাইলেন্ট স্ট্রেস

গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মুখের ভেতরে এমন কিছু সংবেদনশীল রিসেপ্টর রয়েছে, যা কার্বোহাইড্রেট শনাক্ত করতে পারে। মুখে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত পানীয় পৌঁছানোর পর সেই তথ্য মস্তিষ্কের এমন অংশে সংকেত পাঠায়, যা মনোযোগ, উদ্দীপনা এবং শরীরের নড়াচড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে শরীরে নতুন শক্তি প্রবেশ না করলেও মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে মনে করে শক্তির জোগান এসেছে, যা খেলোয়াড়ের মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা কিছু সময়ের জন্য বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

অনেকেই প্রশ্ন করেন, যদি উপকারই হয় তাহলে খেলোয়াড়রা পানীয়টি গিলে ফেলেন না কেন? এর কারণ হলো, ম্যাচের মাঝখানে অতিরিক্ত পানি বা স্পোর্টস ড্রিংক পান করলে পেট ভারী লাগতে পারে এবং দৌড়ানোর সময় অস্বস্তি সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে পানীয় গিলে ফেললে সেটি শরীরে কাজ করতে কিছুটা সময় লাগে, কিন্তু মুখে কয়েক সেকেন্ড রাখলেই মস্তিষ্ক প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সংকেত পেয়ে যায়। তাই দ্রুত ফল পেতে অনেক পেশাদার ফুটবলার এই পদ্ধতিই অনুসরণ করেন।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর প্রস্তাব

২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে এই কৌশলটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সে সময় ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন, পর্তুগালের তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোসহ একাধিক ফুটবলারকে ম্যাচ চলাকালে কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স ব্যবহার করতে দেখা যায়। এরপর থেকেই বিষয়টি সাধারণ দর্শকদের মধ্যেও কৌতূহলের জন্ম দেয় এবং ক্রীড়াবিজ্ঞান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, কার্বোহাইড্রেট মাউথ রিন্স কখনোই শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করতে পারে না। এটি শুধু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পারফরম্যান্সে সাময়িক সহায়তা করতে পারে। তাই খেলোয়াড়দের নিয়মিত পানি ও ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পান করতেই হয়। অর্থাৎ মাঠে ফুটবলারদের মুখে পানীয় নিয়ে কুলি করে ফেলে দিতে দেখলে সেটিকে পানি অপচয় ভাবার সুযোগ নেই; বরং এটি আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞানের একটি কার্যকর ও পরীক্ষিত কৌশল।

আরও পড়ুন  অবাক করা তথ্য: ক্যানসার রোগীরা আসলে কী কারণে মারা যাচ্ছেন?