উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, চিকিৎসা পেশা শুধু একটি চাকরি নয়, এটি একটি মানবিক দায়িত্ব। তাই সীমিত জনবল ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আন্তরিকতা, নিষ্ঠা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে মানুষের জন্য আরও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল হাসপাতালের বর্তমান কার্যক্রম পর্যালোচনা, বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নির্ধারণ।
‘রোগীর সেবাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অসুস্থ মানুষ সর্বশেষ ভরসা হিসেবে হাসপাতালের দ্বারস্থ হন। তাই চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করা এবং সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইল জেলার সাধারণ মানুষ যাতে রাজধানীতে না গিয়ে নিজ জেলাতেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সরকার স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
জনবল সংকট দ্রুত সমাধানের আশ্বাস
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতির বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য হবে না।
হাসপাতালের সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন
সভায় হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুল কুদ্দুস হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন।
তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের রোগীর চাপ, শয্যা সংকট, আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির প্রয়োজনীয়তা এবং সেবার মান আরও উন্নত করার বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।
যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে
সমন্বয় সভায় হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—
- চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল সংকট দূর করা।
- প্রয়োজনীয় ওষুধের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান উন্নত করা।
- হাসপাতালের ওয়ার্ড ও আশপাশের পরিবেশ আরও পরিচ্ছন্ন রাখা।
- রোগী ও স্বজনদের হয়রানি বন্ধে দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
- অ্যাম্বুল্যান্স সেবাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করা।
- রোগীদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
রোগীবান্ধব হাসপাতাল গড়ার লক্ষ্য
সভায় বক্তারা বলেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থাও একটি আধুনিক হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। তাই সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন
সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মুস্তাফিজুর রহমান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুল কুদ্দুস, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যখাতে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব
সভা শেষে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির এ ধরনের নিয়মিত সমন্বয় সভা হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন, সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিমন্ত্রীও সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।



























