আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি। ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর মাধ্যমে এই বিধান যুক্ত করে তা পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে প্রস্তুতকৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।
গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, যাচাইকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টিকে কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি আইনে পরিণত করার পক্ষে মত দিয়েছে কমিটি। এর বাইরে ১৫টি অধ্যাদেশকে পরিমার্জন করে বিল আকারে সংসদে তোলার, ১৬টির উত্থাপন আপাতত স্থগিত রাখার এবং ৪টি অধ্যাদেশ সম্পূর্ণ বাতিল করে আর্কাইভে সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংশোধনের জন্য বাছাই করা ১৫টি অধ্যাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে গত বছরের ১১ মে জারি হওয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে মূলত ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ও ২০ নম্বর ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার লক্ষ্য আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। প্রতিবেদনে আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, একই আইনি প্রক্রিয়ায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা নিয়ে নানা মহলে ভিন্নমত থাকলেও, পরিশেষে এই অধ্যাদেশটিকে আইনি রূপ দেওয়ার পদক্ষেপই নেওয়া হলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সংশোধিত আইনটি কার্যকর হলে দলটির যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা আরও কঠোরভাবে রুদ্ধ হবে। তবে বর্তমান নির্বাহী আদেশটি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞাই বহাল থাকছে।
এদিকে, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী— সংসদে অনুমোদন না পেলে যেকোনো অধ্যাদেশের মেয়াদ ৩০ দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। সেই হিসেবে আগামী ১২ এপ্রিলের পর এই অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভর করছে সংসদের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর। বিশেষ কমিটির এই সুপারিশগুলো বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতি ও আইনি কাঠামোতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



























