ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিশ্বকাপ ফাইনাল বিশ্রাম সুবিধা: আর্জেন্টিনা কি ইতিহাসের চাপে? Logo বিশ্বকাপের হাফটাইমে তারকাখচিত জমজমাট আয়োজন Logo সৌদি ইস্যুতে ইরানকে কড়া বার্তা দিল পাকিস্তান Logo সয়াবিন নয়, সরিষার তেল কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? জানুন সত্য Logo বায়ু ও শব্দদূষণ কমাতে নতুন নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo প্রেমের টানে চীনা নাগরিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, ধর্মান্তরিত হয়ে করলেন বিয়ে Logo এমিলিয়ানো মার্তিনেজ: অবিশ্বাস্য ত্যাগে খেলছেন বিশ্বকাপ ফাইনাল Logo ভৈরব নদে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ গৃহবধূ, ৩০ ঘণ্টা পর মিলল মরদেহ Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে তরুণ নিহত, আহত ১ Logo কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযান, জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার ৩

নিষিদ্ধ হচ্ছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি, সংসদে সংশোধিত অধ্যাদেশ

নিষিদ্ধ হচ্ছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি, সংসদে সংশোধিত অধ্যাদেশ

আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি। ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর মাধ্যমে এই বিধান যুক্ত করে তা পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে প্রস্তুতকৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, যাচাইকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টিকে কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি আইনে পরিণত করার পক্ষে মত দিয়েছে কমিটি। এর বাইরে ১৫টি অধ্যাদেশকে পরিমার্জন করে বিল আকারে সংসদে তোলার, ১৬টির উত্থাপন আপাতত স্থগিত রাখার এবং ৪টি অধ্যাদেশ সম্পূর্ণ বাতিল করে আর্কাইভে সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংশোধনের জন্য বাছাই করা ১৫টি অধ্যাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে গত বছরের ১১ মে জারি হওয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে মূলত ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ও ২০ নম্বর ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার লক্ষ্য আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। প্রতিবেদনে আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, একই আইনি প্রক্রিয়ায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা নিয়ে নানা মহলে ভিন্নমত থাকলেও, পরিশেষে এই অধ্যাদেশটিকে আইনি রূপ দেওয়ার পদক্ষেপই নেওয়া হলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সংশোধিত আইনটি কার্যকর হলে দলটির যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা আরও কঠোরভাবে রুদ্ধ হবে। তবে বর্তমান নির্বাহী আদেশটি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞাই বহাল থাকছে।

এদিকে, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী— সংসদে অনুমোদন না পেলে যেকোনো অধ্যাদেশের মেয়াদ ৩০ দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। সেই হিসেবে আগামী ১২ এপ্রিলের পর এই অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভর করছে সংসদের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর। বিশেষ কমিটির এই সুপারিশগুলো বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতি ও আইনি কাঠামোতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ ফাইনাল বিশ্রাম সুবিধা: আর্জেন্টিনা কি ইতিহাসের চাপে?

নিষিদ্ধ হচ্ছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি, সংসদে সংশোধিত অধ্যাদেশ

Update Time : ০৮:৪৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি। ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর মাধ্যমে এই বিধান যুক্ত করে তা পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে প্রস্তুতকৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, যাচাইকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টিকে কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি আইনে পরিণত করার পক্ষে মত দিয়েছে কমিটি। এর বাইরে ১৫টি অধ্যাদেশকে পরিমার্জন করে বিল আকারে সংসদে তোলার, ১৬টির উত্থাপন আপাতত স্থগিত রাখার এবং ৪টি অধ্যাদেশ সম্পূর্ণ বাতিল করে আর্কাইভে সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  দেশের মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে: নাহিদ ইসলাম

সংশোধনের জন্য বাছাই করা ১৫টি অধ্যাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে গত বছরের ১১ মে জারি হওয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে মূলত ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ও ২০ নম্বর ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার লক্ষ্য আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। প্রতিবেদনে আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, একই আইনি প্রক্রিয়ায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালি বন্ধ: ইরানের কঠোর ঘোষণা, তেলবাজারে নতুন শঙ্কা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা নিয়ে নানা মহলে ভিন্নমত থাকলেও, পরিশেষে এই অধ্যাদেশটিকে আইনি রূপ দেওয়ার পদক্ষেপই নেওয়া হলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সংশোধিত আইনটি কার্যকর হলে দলটির যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা আরও কঠোরভাবে রুদ্ধ হবে। তবে বর্তমান নির্বাহী আদেশটি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞাই বহাল থাকছে।

আরও পড়ুন  জ্বালানি সংকটে নতুন সিদ্ধান্ত: অফিস ৯টা–৪টা, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মার্কেট বন্ধ

এদিকে, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী— সংসদে অনুমোদন না পেলে যেকোনো অধ্যাদেশের মেয়াদ ৩০ দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। সেই হিসেবে আগামী ১২ এপ্রিলের পর এই অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভর করছে সংসদের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর। বিশেষ কমিটির এই সুপারিশগুলো বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতি ও আইনি কাঠামোতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।